খুঁজুন
                               
, ,
           

আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০ প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০ প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে ডিসি জাহিদ

একটি লিখিত আবেদন হাতে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ২০০ জন  মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শুধু বরাদ্দ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও নিজে উপস্থিত থেকে তাঁদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় মানবিক প্রশাসনের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নগরীর লালখানবাজারের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের ২০০ জনের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এর আগে রবিবার (১৯ জুলাই) সামাজিক সেবামূলক সংস্থা ডিজএ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি)-এর নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবকদের অনেকেই সাধারণ ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাঁদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। তাই তাঁদের বিষয়ে আবেদন পাওয়ার পর তিনি মনে করেছেন, দেরি না করে দ্রুত তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করেছে। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টার ফলেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের বাদ দিয়ে কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবায় তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সাড়ার প্রশংসা করে বলেন, আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক সঙ্গে সঙ্গেই সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও নিজে উপস্থিত হয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। মানুষের কল্যাণে তাঁর আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিতরণ করা ২০০টি ত্রাণ প্যাকেটের প্রতিটিতে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজ বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিডিআরসি এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে মাঠে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য পৃথক সহায়তার এই উদ্যোগকে মানবিক প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতিটি নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে, কেউ অবহেলিত থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সহজলভ্য করা এবং বিনা চিকিৎসায় যেন কেউ মারা না যায় তা নিশ্চিত করা। সবাইকে সততা ও সরলতার সাথে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অনেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে অন্যান্য অনেক কিছুর তুলনা করতে চান। কিন্তু একটাবার ভেবে দেখুন— একাত্তর আমাদের কী দিয়েছে? আমাদের কুদ্দুস ভাইদের মতো বীর মানুষেরা কী দিয়েছেন? উনারা আমাদের একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সীমারেখা দিয়েছেন, একটি স্বাধীন সরকার দিয়েছেন এবং সর্বোপরি দিয়েছেন আমাদের অমূল্য সার্বভৌমত্ব।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেদিন যদি বীর মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে তুলে না নিতেন এবং একদিকে ভয়ঙ্কর পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ, আর অন্যদিকে রাজাকারদের খুঁজে খুঁজে ধরে নিয়ে তুলে দেওয়ার মতো এই দ্বিমুখী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের মতো যুবকেরা না দাঁড়াত। তবে আজকে জাহিদ হোসেন সাহেব (বর্তমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী) মন্ত্রী হতে পারতেন না, সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্ত্রী হতে পারতেন না, এফ এম সিদ্দিকী সাহেব বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হতে পারতেন না। এমনকি আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান কোনো বাঙালি মায়ের সন্তান হতেন না; এতগুলো সচিব, রাষ্ট্রদূত কিংবা এত হাজারো ডাক্তারের জন্মও এই স্বাধীন বাংলাদেশে হতো না।

তিনি বলেন, এই সমস্ত অর্জনের মূল ভিত্তি স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা, যা কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। পাশাপাশি আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধায় মাগফিরাত কামনা করি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে কোনো ডাক্তারের পরিচয়ে আসিনি; একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধকালীন ৯০ সদস্যের একটি গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে উপস্থিত হয়েছি। একাত্তরের সেই যুদ্ধদিনের চিত্র কী যে বীভৎস ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না! আমাদের যখন ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর মুখোমুখি লড়াইয়ে পাঠানো হতো, তখন রাজাকাররা ছিল এক বড় বাধা। গ্রামের সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে ও সংকেত দিতে রাজাকাররা টিন ও বাসনে লাঠি পিটিয়ে আওয়াজ তুলত। পরে স্থানীয় একজন আমাদের সচেতন করে জানান যে, এই সংকেত শুনলেই পাকিস্তানি বাহিনী সতর্ক হয়ে যাবে এবং এই রাজাকারদের তৈরিই করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিতে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা নিজ চোখে দেখেছি, কীভাবে হিন্দু পাড়াগুলোর পর পাড়া জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়েছিল। নারীদের গুলি ও বেয়নটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হতো, আর কুকুরে সেই লাশগুলোকে ছিঁড়ে খাচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের দিকে আমাকে যখন সাই মিলোনিয়া সীমান্তে বদলি করা হয়, সেখানে এক প্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে দুই দিন ধরে পাকিস্তানি বাহিনীর বাঙ্কারে আটকে রেখে যে অমানবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়েছিল, তা স্মরণ করলেও শিউরে উঠতে হয়।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএমএ ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ
ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পাটজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
পাটজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সমন্বয় সভা হ‌য়ে‌ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং অচিরেই একটি ভিন্ন মাত্রার আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের ঘোষণা দেন।

উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভার শুরুতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সোনালী আঁশের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে `পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী`-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিশেষভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পের উন্নয়নে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলির সহায়তায় অর্থনৈতিক কূটনীতির উপর জোর দেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আজকের বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং এবং পাটের উৎপাদন উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পাটের নতুন বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের উপর জোর দেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর জন্য কর্মপন্থা ঠিক করা, পাট শিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, গবেষণা করা এবং মিল-আধুনিকায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।

এ ছাড়া, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো-তে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহে পাটের বাধ্যতামূলক ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দের জন্য পাটজাত স্কুল ব্যাগ তৈরির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পাটবীজের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

উভয় মন্ত্রণালয় পাটকে একটি আধুনিক জৈব-বৃত্তাকার শিল্পে রূপান্তর, কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশকে জলবায়ুবান্ধব পাট-সমাধানের একটি বিশ্বস্ত বৈশ্বিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

কালের আলো/এসএকে

সাদা পোশাকে শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ, দাবি অখিলেশ যাদবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
সাদা পোশাকে শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ, দাবি অখিলেশ যাদবের

ভারতের দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানান।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অখিলেশ যাদব বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো সরকার জনগণের সঙ্গে এমন আচরণ করবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘হিটলার যেমন নিজের ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক তেমনি গতকাল আমরা দেখেছি সাদা পোশাকে থাকা অনেকেই বিক্ষোভকারীদের মারধর করছেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার তাদের মন্ত্রীদের পদত্যাগে বাধ্য করতে পারছে না।

অখিলেশের দাবি, ‘সরকার জানে, মন্ত্রীদের ওপর পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করলে তারা সরকারের নানা গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারেন।’

এর আগে সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দিল্লিতে গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম বড় সড়ক বিক্ষোভ।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও আছেন। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘উচ্ছৃঙ্খল ও সহিংস আচরণ’ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনের আয়োজকরা পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, শত শত আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন। ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়েছে।

তিনি আরও জানান, সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হলেও সরকার এখনো তাদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বাতিল হওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নতুন করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নেওয়া হয়। এতে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যা দেশজুড়ে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি