নতুন করে ৬০ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ শুল্ক কার্যকর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, মেক্সিকো, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আরও জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতায় বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপীত আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এ ঘটনায় বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সেই আইনি জটিলতা এড়াতে এবার ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারা’-কে আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আইনিভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই ৬০টি দেশ তাদের দেশে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বা ব্যবহার বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন বাজারের উৎপাদকেরা অসৎ ও অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে।
অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ২০২৫ সালে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে শুল্কমুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই শুল্ক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন তেলের মূল্য ৪ ডলারের বেশি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ট্রাম্পের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিন ভোটার।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রফতানি খাতে এবং বিশ্ববাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু
কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি


পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, তিনি সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছেন। রয়্যাল থাই পুলিশের সহায়তায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর আয়োজনে দুই (২০-২১ জুলাই) দিনব্যাপী এ সম্মেলন আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন
Array