খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্যাসের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার: এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
গ্যাসের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার: এনসিপি

রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, বাসাবাড়িতে রান্না করা যাচ্ছে না, সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকটে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা পেট্রোবাংলার প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট: শিল্প, পরিবহন ও আবাসিকে দুর্ভোগ

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব, মহানগর উত্তরের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মী এবং গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, রাজধানীর অসংখ্য এলাকায় দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জনস্বার্থবিরোধী।

তারা আরও বলেন, দেশের সমুদ্রসীমার গ্যাস ব্লকগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দ্রুত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা, শিল্প খাতও ‘গতিহারা’

প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি উপদেষ্টার প্রতি দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, কোনো পরিবার যেন গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার না হয়। পাশাপাশি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।

সমাবেশে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে। প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়াও বাধাগ্রস্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।গ্যাস সংকটে নাকাল জনজীবন, ভোগান্তির শেষ কবে?

গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না উল্লেখ করে আদীব বলেন, এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা খালি বাসন-পাতিল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে জ্বালানি উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

এনসিপির ওপর বিএনপির সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে এনসিপির ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলা জনস্বার্থের আন্দোলন থেকে এনসিপিকে সরাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসূচি শেষে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় এনসিপি। সমাবেশ পরিচালনা করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুর আমিন খান।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

গ্রামীণ জীবনের গল্পে কেন এতটা আপন হয়ে উঠেছিলেন ফারুক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ জীবনের গল্পে কেন এতটা আপন হয়ে উঠেছিলেন ফারুক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অনেক নায়ক এসেছেন, জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। তবে গ্রামীণ মানুষের আবেগ, জেদ, প্রতিবাদ আর ভালোবাসাকে পর্দায় এতটা সহজ-স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন—এমন শিল্পীর সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের মধ্যে আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ছিলেন অন্যতম।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ফারুকের। তবে দর্শকের বড় পরিসরে পরিচিতি পান খান আতাউর রহমানের ‘সুজন সখী’ দিয়ে। ১৯৭৫ সালের এই সিনেমায় ‘সুজন’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।

এরপর আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ সিনেমায় ‘নয়ন’ চরিত্রে অভিনয় করে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রামীণ এক তরুণের আবেগ, সরলতা ও প্রতিবাদী মানসিকতাকে এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, যা তাঁকে দর্শকের আরও কাছে নিয়ে যায়।

সত্তর ও আশির দশকে ফারুক অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ জায়গা করে নেয়। ‘লাঠিয়াল’, ‘নয়নমনি’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বউ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাল কাজল’-এসব সিনেমায় তাঁর চরিত্রগুলো মূলত গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ঘিরে।

১৯৭৮ সালের ‘সারেং বউ’ সিনেমায় ‘কদম সারেং’ চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। আর ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমার শেষদিকে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মিলনের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তোলার দীর্ঘ দৃশ্যটি তাঁর অভিনয় প্রতিভার অন্যতম উদাহরণ হয়ে আছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও নির্মাতা মতিন রহমানের মতে, ফারুক গ্রামীণ মানুষের জেদ, তাড়না ও প্রতিবাদের ভাষা খুব সহজাতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। তাঁর অভিনয়ের এই স্বাভাবিক ভঙ্গিই তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা করেছে।

ফারুক শুধু পর্দার নায়ক ছিলেন না, দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের একজনের মতো। তাঁর আচরণ, কথা বলার ধরন ও চরিত্র ধারণের স্বাভাবিকতার কারণেই দর্শক তাঁকে ভালোবেসে ‘মিয়া ভাই’ নামে ডাকতে শুরু করেন।

চাষী নজরুল ইসলাম তাঁকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘মিয়া ভাই’ সিনেমা। সময়ের সঙ্গে ডাকনামটিও যেন তাঁর জনপ্রিয় পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়।

মজার বিষয় হলো, ফারুকের জন্ম মানিকগঞ্জের ঘিওরের একটি গ্রামে হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা মূলত পুরান ঢাকায়। সেখানে নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী-নির্মাতাদের সংস্পর্শে আসেন তিনি।

পুরান ঢাকার লালকুঠির সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের কথাবার্তা, আচরণ ও জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিনেমার গ্রামীণ চরিত্রগুলোতে সেই অভিজ্ঞতার ছাপ দেখা যায়।

আশির দশকের শেষদিকে বাংলাদেশের সিনেমায় গ্রামীণ গল্পের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে শহুরে জীবন, চাকচিক্য ও আধুনিকতার গল্প জায়গা নেয় পর্দায়।

ফলে ফারুকের মতো শিল্পীদের জন্য যে ধরনের চরিত্র তৈরি হতো, সেসবও কমে যায়। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ গল্পের সংখ্যা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ধরনের স্বতন্ত্র নায়ক তৈরির সুযোগও কমেছে।

ফারুকের ক্যারিয়ারের বড় অংশজুড়ে থাকা গ্রামীণ চরিত্রগুলো তাই শুধু তাঁর অভিনয়জীবনের স্মৃতি নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ সময়েরও প্রতিচ্ছবি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ‘লাঠিয়াল’ সিনেমার জন্য ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পান ফারুক। পরে ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন এই অভিনেতা।

২০২৩ সালের ১৫ মে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান ফারুক। কিন্তু তাঁর অভিনীত নয়ন, সুজন, কদম সারেং কিংবা মিলনের মতো চরিত্রগুলো এখনো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত।

ফারুকের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো এখানেই—তিনি শুধু সিনেমায় গ্রামের মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেননি, বরং সেই মানুষগুলোর আবেগকে দর্শকের নিজের জীবনের গল্প করে তুলেছিলেন।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সূচিপত্র প্রকাশিত মারুফ কামাল খানের লেখা ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে নানা ধরনের চিন্তা, মত ও আদর্শের মানুষ থাকবে। পাহাড় ও সমতলে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি মানুষের চিন্তা ও আদর্শেও পার্থক্য থাকতে পারে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা ‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ চাই। বাংলাকে আমাদের যাত্রাভূমি হিসেবে নিয়ে দেশকে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জ্ঞান, শিক্ষা ও সমৃদ্ধির সন্ধানে বাংলায় আসতেন। এই ভূখণ্ডের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি ছিল এমন যে, এখানে আসা মানুষ সহজে ফিরে যেতে চাইতেন না। ঐতিহাসিক নানা কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এই বাংলাই সমকালীন পৃথিবীতে, অন্তত এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঐক্য ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।’

মারুফ কামাল খানের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মারুফ কামাল খান শুধু একজন কবি নন, তিনি কথাসাহিত্যিক ও চিন্তাশীল লেখক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তার লেখালেখির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ে উঠে এসেছে। এ কারণেই বইটি পাঠকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বইটি শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন পাঠাগারে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব লাইব্রেরিতে বইটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মারুফ কামাল খানের দীর্ঘ সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য ডার্ক ওয়েবে, অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য ডার্ক ওয়েবে, অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার আগেই এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় সরবরাহকারী টাটা ইলেকট্রনিকসের সিস্টেমে সাইবার হামলার পর চুরি হওয়া নথির মধ্যে আসন্ন আইফোনটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা নথিগুলোতে আইফোন ১৮ প্রোর শত শত যন্ত্রাংশের তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব নথিতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি ও ক্যামেরার বিভিন্ন অংশের তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে অ্যাপল কোন যন্ত্রাংশের জন্য কোন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভর করছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত সরবরাহকারী ও যন্ত্রাংশসংক্রান্ত এ ধরনের তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখে।

চুরি হওয়া ফাইলগুলোর মধ্যে আইফোনের ড্রপ-টেস্টের ছবিও রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ছবিতে ধূসর রঙের একটি বার আকৃতির স্মার্টফোন, পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা যায়।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, ছবিতে থাকা ফোনটির মডেল নম্বর তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র দাবি করেছে, ছবিগুলো আইফোন ১৮ প্রো মডেলের।

ঘটনার সূত্রপাত টাটা ইলেকট্রনিকসের সিস্টেমে সাইবার হামলা থেকে। জুনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কয়েকটি সিস্টেমে সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানায়। এর আগে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, World Leaks নামের একটি র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী টাটা ইলেকট্রনিকসের চুরি করা তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গোষ্ঠী ২ লাখের বেশি ফাইল প্রকাশ করেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এসব ফাইলের মধ্যে অ্যাপল ও টেসলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথিও থাকার দাবি করা হয়। তবে প্রকাশিত সব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফাঁসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু নতুন আইফোনের তথ্য প্রকাশ নয়। সরবরাহকারী ও যন্ত্রাংশের তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় অ্যাপলের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল পণ্য প্রস্তুতকারী ও অন্যান্য ব্যবসায়িক পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অ্যাপল বিষয়টি তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। একই সময়ে টাটা ইলেকট্রনিকস সংবেদনশীল সিস্টেমে অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে ভারত সরকারও তদন্ত শুরু করেছে। ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস কৃষ্ণন ৩ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, টাটা ইলেকট্রনিকসের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত হতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে অ্যাপল এখনো নতুন মডেলগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

কালের আলো/এসএ