অনুমোদনের অপেক্ষায় ১২ ডিজিটাল ব্যাংক
দেশের আর্থিক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। ইতোমধ্যেই অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১২টি ডিজিটাল ব্যাংক। সম্পূর্ণ ক্যাশলেস, ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপনির্ভর এ ব্যাংকগুলো স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকিং-সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই ব্যাংকগুলো অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নীতিগত প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খবর বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্থিক খাতে কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই ডিজিটাল ব্যাংক চালু করা হবে। এর জন্য আলাদা শাখা, উপশাখা বা এটিএম বুথের প্রয়োজন হবে না; সব সেবা অ্যাপনির্ভরভাবে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক (প্রস্তাবিত), অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারি ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতে বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা প্রণয়ন করে। তখন ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছিল ১২৫ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। প্রচলিত ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এবং পেমেন্ট সার্ভিস পরিচালিত হবে ২০১৪ সালের বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন অনুসারে।
ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগস্টের শেষের দিকে; অর্থাৎ, চলতি মাসেই অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতের অন্যতম বড় নাম আকিজ গ্রুপ। ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামে একটি শরিয়াহভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংক চালুর আবেদন জমা দিয়েছে তাঁরা। আবেদনপত্রে কোম্পানিটি উল্লেখ করেছে, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নীতি মেনে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে উদ্ভাবনী আর্থিক সেবা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকিং খাতের একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাতের ১৬ জন স্টেকহোল্ডার মিলে ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য লাইসেন্সের আবেদন করেছে। তারা বলছে, দেশের উদীয়মান তরুণ ও উদ্যোক্তা শ্রেণির জন্য ক্যাশলেস ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা তাদের মূল লক্ষ্য।
দেশের ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর অবস্থায় নতুন আরও ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের ছোট অর্থনীতিতে আরও ব্যাংক চালু হলে সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো না-ও হতে পারে। তার চেয়ে বরং ভালো হয়, প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ডিজিটালে রুপান্তর করা।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array