খুঁজুন
                               
, ,
           

অনুমোদনের অপেক্ষায় ১২ ডিজিটাল ব্যাংক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
অনুমোদনের অপেক্ষায় ১২ ডিজিটাল ব্যাংক

দেশের আর্থিক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। ইতোমধ্যেই অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১২টি ডিজিটাল ব্যাংক। সম্পূর্ণ ক্যাশলেস, ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপনির্ভর এ ব্যাংকগুলো স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকিং-সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই ব্যাংকগুলো অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নীতিগত প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খবর বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্থিক খাতে কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই ডিজিটাল ব্যাংক চালু করা হবে। এর জন্য আলাদা শাখা, উপশাখা বা এটিএম বুথের প্রয়োজন হবে না; সব সেবা অ্যাপনির্ভরভাবে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক (প্রস্তাবিত), অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারি ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতে বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা প্রণয়ন করে। তখন ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছিল ১২৫ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। প্রচলিত ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এবং পেমেন্ট সার্ভিস পরিচালিত হবে ২০১৪ সালের বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন অনুসারে।

ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগস্টের শেষের দিকে; অর্থাৎ, চলতি মাসেই অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতের অন্যতম বড় নাম আকিজ গ্রুপ। ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামে একটি শরিয়াহভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংক চালুর আবেদন জমা দিয়েছে তাঁরা। আবেদনপত্রে কোম্পানিটি উল্লেখ করেছে, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নীতি মেনে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে উদ্ভাবনী আর্থিক সেবা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকিং খাতের একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাতের ১৬ জন স্টেকহোল্ডার মিলে ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য লাইসেন্সের আবেদন করেছে। তারা বলছে, দেশের উদীয়মান তরুণ ও উদ্যোক্তা শ্রেণির জন্য ক্যাশলেস ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা তাদের মূল লক্ষ্য।

দেশের ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর অবস্থায় নতুন আরও ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের ছোট অর্থনীতিতে আরও ব্যাংক চালু হলে সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো না-ও হতে পারে। তার চেয়ে বরং ভালো হয়, প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ডিজিটালে রুপান্তর করা।

কালের আলো/এম/এএইচ

দৃষ্টিহীনতার অন্ধকার পেরিয়ে সুরের আলোয় কাজল মিত্র

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
দৃষ্টিহীনতার অন্ধকার পেরিয়ে সুরের আলোয় কাজল মিত্র

জন্ম থেকেই চোখে আলো নেই। পৃথিবীর রং, প্রিয়জনের মুখ কিংবা ভোরের সূর্য—কোনোটিই দেখা হয়নি কখনো। তবে দৃষ্টিহীনতা থামাতে পারেনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের কাজল মিত্রকে। গানকে অবলম্বন করে জীবনের ৫৫ বছর পার করেছেন তিনি। এখনো হারমোনিয়াম আর কণ্ঠের সুরেই চালিয়ে যাচ্ছেন সংসার।

১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া কাজল মিত্র পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই। জন্মের পরই তার দৃষ্টিহীনতার বিষয়টি বুঝতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। ছেলের চোখের আলো ফেরাতে বাবা-মা দেশের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে ছুটেছেন, এমনকি দেশের বাইরেও চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোনো চেষ্টাতেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসার সুযোগও হয়নি তার। বইয়ের অক্ষর পড়া কিংবা খাতায় নিজের নাম লেখার অভিজ্ঞতা নেই। তবে শৈশব থেকেই তার কণ্ঠে ছিল অসাধারণ সুরের মায়া।

কাজলের বয়স যখন ১১-১২ বছর, তখন বাড়ির ঘাটের পাশে আমগাছের নিচে বসে গান গাইছিলেন তিনি। সে সময় পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী লক্ষ্মীপদ আচার্য। শিশুটির কণ্ঠ শুনে তিনি থেমে যান। কাজলের গানের প্রতিভা বুঝতে পেরে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং সংগীতের তালিমের ব্যবস্থা করেন।

এরপর একে একে বিভিন্ন গুরুর কাছে গান শেখেন কাজল মিত্র। ধীরে ধীরে গান হয়ে ওঠে তার পরিচয়, জীবিকা ও বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ে হারমোনিয়াম হাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান গেয়েছেন তিনি।

রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লালনগীতি, আধুনিক, দেশাত্মবোধক ও ভক্তিমূলক গানের পাশাপাশি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানও গেয়ে থাকেন কাজল। নিজের কিছু গান লিখে তাতে সুরও দিয়েছেন।

তবে দীর্ঘ সংগীতজীবনে তার কিছু স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ। ভালো মানের একটি হারমোনিয়াম কেনা এবং নিজের গাওয়া গান নিয়ে একটি অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা রয়েছে তার। সীমিত আয়ের সংসারে সেই সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি।

বয়সের সঙ্গে এখন শরীরও আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছে না। নানা শারীরিক জটিলতার মধ্যেও গানের প্রতি ভালোবাসা কমেনি। সুযোগ পেলেই হারমোনিয়াম নিয়ে বসেন। আঙুলের ছোঁয়ায় যন্ত্র থেকে ভেসে আসে সুর, আর সেই সুরেই যেন ফিরে পান জীবনের চেনা ছন্দ।

কাজল মিত্রের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে একটি দোকানে চাকরি করেন। পরিবারের সীমিত আয়ে তার গানের উপার্জনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বয়স ও অসুস্থতা বাড়লেও জীবিকার তাগিদে গানকে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি।

চোখে পৃথিবীর আলো না দেখলেও সুরের ভুবনে কাজল মিত্রের পথচলা থামেনি। যে গান একদিন আমগাছের নিচে বসা শিশুটির কণ্ঠ শুনে এক সংগীতশিল্পীকে থামিয়ে দিয়েছিল, সেই গানই আজও তার জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।

চোখের আলো না থাকলেও সুরের আলোয় পথ চলছেন কাজল মিত্র। তার স্বপ্ন এখনো—একটি ভালো হারমোনিয়াম, নিজের গানের একটি অ্যালবাম এবং জীবনের বাকি সময়টুকু সংগীতের সঙ্গেই কাটিয়ে দেওয়া।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিমানের আকাশে এয়ারবাসের নতুন বহর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
বিমানের আকাশে এয়ারবাসের নতুন বহর

বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এয়ারবাস থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং আঞ্চলিক ও মাঝারি পাল্লার রুটের জন্য ছয়টি এ৩২১নিও সিঙ্গেল-আইল উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ ২০৩৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এয়ারবাসের সঙ্গে একটি ক্রয়চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কৌশলের ক্ষেত্রে এ চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। নতুন উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির হওয়ায় দীর্ঘপাল্লার ও আঞ্চলিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছে বিমান।

  • ১০ উড়োজাহাজের চুক্তি, চার এ৩৫০-৯০০ ও ছয় এ৩২১নিও
  • দীর্ঘপাল্লা ও আঞ্চলিক রুট সম্প্রসারণ হচ্ছে
  • ২০৩৩ থেকে সংযোজন, বাড়বে সক্ষমতা

বহর আধুনিকায়নে নতুন সংযোজন
নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের দীর্ঘপাল্লা ও আঞ্চলিক রুট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন রুট চালু, বিদ্যমান রুট নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও এসব উড়োজাহাজ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশীদুজ্জামান মিয়াজ্জাত বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশকে আধুনিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিমানের বহর, রুট নেটওয়ার্ক ও পরিচালন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।’

প্রবাসীদের সঙ্গে বাড়বে যোগাযোগ
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের বড় জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশির সঙ্গে শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগাযোগ প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে তিনি বাস্তবসম্মত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।’ তার বক্তব্যে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে শক্তিশালী আকাশ যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

নতুন গন্তব্যে সম্প্রসারণের সুযোগ
এয়ারবাসের নির্বাহী সহসভাপতি মনোয়া দ্য সাঁ-এক্সুপেরি বলেন, ‘এ৩৫০ ও এ৩২১নিও-এর সমন্বয়ে বিমানের জন্য কার্যকর একটি বহর কৌশল তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সম্প্রসারণ এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা পূরণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো সহায়তা করবে।’

এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের সহযোগিতা শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, এভিয়েশন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগতভাবে টেকসই এভিয়েশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কেও গুরুত্ব
এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাস কেনার চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, ‘এয়ারবাস বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন।’

মাইকেল মিলার বলেন, ‘এয়ারবাস কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটি বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কের দিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এ চুক্তিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।’

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানের বহর আধুনিকায়নের সুফল যাত্রী, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উন্নত আকাশ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কাজে লাগানো হবে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে ঢাকা থেকে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সেবা পরিচালনা করছে।

কালের আলো/এমএসএকে/এমকে

‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইলে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইলে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে’

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বৈরিতা বা শত্রুতা কাম্য নয়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী অভিন্ন নদীগুলোর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শুধু পুরোনো চুক্তি নবায়ন না করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে পানি বণ্টন চুক্তি করতে হবে।

ফারাক্কা ব্যারাজের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, এর মাধ্যমে ভারত গঙ্গার পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনগণ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবরার ফাহাদকে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার পক্ষে আবরার লেখালেখি করেছিলেন। তার দেখানো জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে।

এ সময় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। আলোচনা সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি