খুঁজুন
                               
, ,
           

মক্কা চুক্তির একদিন পরই সৌদিতে হামলা

পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদিতে বিদ্রোহীরা এমন সময় হামলা চালাল, যখন মাত্র একদিন আগে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি।

এই চুক্তিতে বলা আছে, তিন দেশের কারও ওপর অন্য কেউ যদি হামলা চালায় তাহলে এই হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন এগিয়ে আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে দেশ দুটিকে হুমকি দিয়েছে হুতিরা। তারা বলেছে, যদি ইয়েমেনের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন ও ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-তুরস্ক কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায় তাহলে তাদের কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, হুতি কমান্ডারা বলেছেন, “যদি পাকিস্তান ও তুরস্ক ইয়েমেনের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের পরিকল্পনা করে এবং ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে সৌদির আগ্রাসনের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের কঠোর শিক্ষা দেওয়া হবে।”

এরমাধ্যমে হুতিরা মূলত বার্তা দিয়েছে সৌদির বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং সৌদির সবচেয়ে ‘মূল্যবান রত্ন’ আরামকোর তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহনের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাবে।

সৌদিতে সরাসরি হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনে থাকা দেশটির মিত্র শক্তি সরকারি সেনাবাহিনীর ওপরও হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। এরমধ্যে মারিব ও হারদামাউতে দুইদিন আগে টানা কয়েক ঘণ্টা হামলা চালিয়েছে তারা।

নতুন করে আবারও মারিব এবং তাইয়িবে লড়াই চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইয়েমেনে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। গত কয়েক বছর লড়াই বন্ধ ছিল। কিন্তু নতুন করে যদি আবারও আলোচনা শুরু না হয় তাহলে এ লড়াই দীর্ঘায়িত হবে।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

নিশো-ফারিয়ার দেখা, শুটিং-আড্ডায় সরব এফডিসি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
নিশো-ফারিয়ার দেখা, শুটিং-আড্ডায় সরব এফডিসি

শনিবার দুপুর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ঢুকতেই চোখে পড়ল ব্যস্ততার চেনা দৃশ্য। কোথাও শুটিংয়ের প্রস্তুতি, কোথাও সেট তৈরির কাজ, আবার কোথাও শিল্পী-নির্মাতাদের আড্ডা। এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।

দীর্ঘদিন পর যেন কিছুটা পুরোনো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে এফডিসি। একই দিনে আলাদা দুটি শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন আফরান নিশো ও নুসরাত ফারিয়া। নিশো ব্যস্ত ছিলেন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে, আর ফারিয়া করছিলেন মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’র দৃশ্যধারণ।

শুটিংয়ের সূত্রেই অনেক দিন পর দেখা হয় নিশো ও ফারিয়ার। একে অপরের কাজের খবর নেন, কিছু সময় আড্ডাতেও মেতে ওঠেন দুজন।

বেলা দেড়টার পর এফডিসির ঝরনা স্পটের পুকুরপাড়ে ‘লাপাত্তা’র দৃশ্যধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়। সহকারীকে দিয়ে নায়িকাকে দ্রুত শুটিং স্পটে আসার খবর পাঠানো হয়।

কিছুক্ষণ পর গোলাপি শাড়ি পরে সেখানে হাজির হন নুসরাত ফারিয়া। পাশে ছাতা ধরে হাঁটছিলেন একজন। ঝরনা স্পটের ছোট পুকুরের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি ছোট্ট সেতু। বাহারি রঙের কাপড় ও বিভিন্ন ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল সেটটি।

পরিচালক জানান, সিনেমায় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করছেন ফারিয়া। চরিত্রের প্রয়োজনেই এমন সাজসজ্জা করা হয়েছে। এই ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে অনেক দিন পর ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন অভিনেত্রী। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করছেন তিনি।

‘লাপাত্তা’য় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করছেন রুশো শেখ। ফারিয়ার আগেই কস্টিউম পরে শুটিং স্পটে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় দৃশ্যধারণ।

শুটিংয়ের সময় পরিচালকের মুঠোফোনে বাজছিল মনির খান ও কনকচাঁপার জনপ্রিয় গান ‘এই বুকে বইছে যমুনা’। নব্বইয়ের দশকে ‘প্রেমের তাজমহল’ সিনেমায় রিয়াজ ও শাবনূরের ঠোঁটে জনপ্রিয় হওয়া গানটি ‘লাপাত্তা’তেও অল্প সময়ের জন্য ব্যবহৃত হবে। তবে এবার গানটির সঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে নুসরাত ফারিয়া ও রুশো শেখকে।

কয়েকবার দৃশ্য ধারণের পর পরিচালক সন্তুষ্ট হলে পরের দৃশ্যের প্রস্তুতি নেন ফারিয়া। এবার তার সঙ্গে একই ফ্রেমে ছিলেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। পরিচালক জানান, ছবিটিতে নাসির উদ্দিন খান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করছেন। এর মধ্যে দুটি চরিত্র মুচি সম্প্রদায়ের বাবা ও ছেলের, অন্যটি একজন ব্যবসায়ীর।

শুটিংয়ের ফাঁকে নতুন কাজ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ফারিয়া। বলেন, গল্পটি তার বেশ ভালো লেগেছে। পছন্দের একটি চরিত্র নিয়ে অনেক দিন পর কাজে ফিরতে পেরে আনন্দিত তিনি।

ফারিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় উঠে আসে আফরান নিশোর প্রসঙ্গ। তিনি জানান, এফডিসিতেই নিশোর সঙ্গে দেখা হয়েছে। দুজনই একে অপরের কাজের খবর নিয়েছেন। অনেক দিন পর দেখা হওয়ায় দুজনেরই ভালো লেগেছে।

ফারিয়ার শুটিং স্পট থেকে বেরিয়ে এফডিসির অন্য প্রান্তে যেতেই দেখা গেল ভিন্ন ব্যস্ততা। পরিচালক সমিতির সামনের একটি ফ্লোরে চলছিল আরেকটি সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি। সেখানে ‘বাসর হবে মাটির ঘরে’ ছবির গানের দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

সেখান থেকে বের হতেই দেখা মেলে একসময়ের ব্যস্ত নির্মাতা বাদল খন্দকারের। ‘দুনিয়ার বাদশা’ দিয়ে নির্মাণে যাত্রা শুরু করা এই পরিচালক ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘পৃথিবী তোমার আমার’, ‘মিস ডায়না’, ‘সাগরিকা’, ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’ ও ‘বিদ্রোহী পদ্মা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন।

পরিচালক সমিতির বারান্দায় কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে আড্ডায় ছিলেন তিনি। দেখা হতেই ডাক দিয়ে বসান। শুরু হয় সিনেমার নানা সময়ের গল্প। কথায় কথায় উঠে আসে এহতেশাম, মনতাজুর রহমান আকবর থেকে শুরু করে হালের রায়হান রাফীর প্রসঙ্গ। আলোচনায় আসে হেলাল খান, সালমান শাহ ও শাকিব খানের কথাও।

পুরোনো সিনেমা, এফডিসির স্মৃতি ও নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতার গল্পে জমে ওঠে আড্ডা। বর্তমানে নির্মাণের চেয়ে ব্যবসায় বেশি মনোযোগী বাদল খন্দকার। তবে সময় পেলেই এফডিসিতে চলে আসেন। পুরোনো জায়গায় পরিচিত মানুষদের সঙ্গে দেখা করা ও আড্ডা দেওয়াকে তিনি অনেকটা স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার মতোই মনে করেন।

এদিকে এফডিসির ক্যানটিনের সামনে চলছিল আরেকটি শুটিং। সেটি ছিল আফরান নিশোর একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ। সেখানে দেখা হয় অভিনেতা শরিফ সিরাজের সঙ্গে। তিনি জানান, শুটিংয়ে তিনিও অংশ নিচ্ছেন এবং নিশো মেকআপ রুমে রয়েছেন।

কড়ইতলার পাশের রূপসজ্জা কক্ষে গিয়ে দেখা যায় নিশোকে। তখন দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে নিশো নিজেই জানতে চান, মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি কি না। ‘লাপাত্তা’র শুটিং দেখতে আসা এবং ফারিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানালে তিনিও জানান, ফারিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে এবং দুজনই একে অপরের খোঁজ নিয়েছেন।

কাজের প্রসঙ্গে নিশো জানান, এ বছর আবার বড় পর্দায় তাকে দেখা যেতে পারে। ‘সুড়ঙ্গ ২’ সিনেমায় তার অভিনয়ের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর দুটি সিনেমায়ও দেখা যেতে পারে তাকে। তবে অন্য কোনো কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

এ সময় রূপসজ্জা কক্ষে আসেন বিজ্ঞাপনচিত্রটির পরিচালক শঙ্খ দাশ গুপ্ত। এফডিসি ও চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। কিছুক্ষণ পর সেখানে যোগ দেন অভিনয়শিল্পী ও তরুণ পরিচালক পার্থ শেখ।

এরপর আড্ডা আরও জমে ওঠে। এফডিসির স্মৃতি, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও জীবনের নানা মজার ঘটনা নিয়ে গল্পে মেতে ওঠেন তারা। বাইরে তখন ক্যামেরা, আলো আর শুটিংয়ের ব্যস্ততা; আর ভেতরে চলচ্চিত্রের মানুষদের গল্পে ফিরে আসছিল এফডিসির নানা সময়ের স্মৃতি।

ফেরার পথে কড়ইতলার সামনে দেখা হয় রূপসজ্জাশিল্পী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে। নতুন একটি কাজের বিষয়ে কথা বলতে এফডিসিতে এসেছেন তিনি। শিগগিরই সেই কাজ শুরু হওয়ার কথা জানান।

একই দিনে এফডিসিতে চলছিল অন্তত তিনটি আলাদা শুটিং। একদিকে নুসরাত ফারিয়ার ‘লাপাত্তা’, অন্যদিকে আফরান নিশোর বিজ্ঞাপনচিত্র। কাজের ধরন আলাদা হলেও এই দুই শুটিংই দীর্ঘদিন পর নিশো ও ফারিয়াকে মুখোমুখি করে দিল।

আর সেই দেখা হওয়ার সূত্র ধরে একটি শনিবারের এফডিসি হয়ে উঠল নতুন কাজ, পুরোনো স্মৃতি, আড্ডা আর সিনেমার মানুষের চেনা ব্যস্ততার এক মিলনস্থল।

এফডিসির ঝরনা স্পট, ক্যানটিন, রূপসজ্জা কক্ষ কিংবা কড়ইতলা—প্রতিটি জায়গাতেই যেন আলাদা গল্প। কোথাও ক্যামেরার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন দৃশ্য, কোথাও পুরোনো দিনের সিনেমা নিয়ে জমছে আড্ডা। সব মিলিয়ে শনিবারের এফডিসি মনে করিয়ে দিল, ক্যামেরার বাইরে ঘটে যাওয়া এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই হয়তো চলচ্চিত্রের এই চেনা জায়গাটির গল্পকে এখনো জীবন্ত করে রেখেছে।

কালের আলো/এসএ

এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগেও শুটিং, কত জিপিএ পেলেন অভিনেত্রী?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগেও শুটিং, কত জিপিএ পেলেন অভিনেত্রী?

অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর ‘ফারহানা’ চরিত্রের অভিনেত্রী ইসরাত তিথি। উত্তরা কেসি মডেল স্কুলের মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৪ অর্জন করেছেন।

ইসরাত তিথি নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছিলেন। তবে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পরও পরীক্ষার মাত্র আট মাস আগে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মানবিক বিভাগে চলে আসেন তিনি।

স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন বিভাগের পড়াশোনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন ইসরাত। শুধু তাই নয়, টেস্ট পরীক্ষায় নিজের সেকশনে প্রথমও হয়েছিলেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায় ইসরাতের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার। তিন বোনের মধ্যে ছোট ইসরাতের ফলাফল নিয়ে তার মেজো বোন সাফিনা বলেন, ‘ওর ফলাফলে আমরা অনেক খুশি। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও অনেক পরিশ্রম করেছে ও।’

ইসরাতের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও পরিশ্রমের কথা জানিয়ে সাফিনা আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগেও শুটিং করেছেন ইসরাত। এমনকি টেস্ট পরীক্ষার সময় কক্সবাজারে শুটিং শেষ করে সকাল ৮টায় ঢাকায় ফিরে সকাল ১০টায় পরীক্ষায় বসতে হয়েছিল তাকে।

শুটিং সেটেও কাজের ফাঁকে বই নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে ইসরাতকে। অভিনয় ও পড়াশোনার দুই ব্যস্ততা সামলে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

এসএসসির ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ইসরাত লিখেছেন, ‘সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও ইসরাত তিথির এই সাফল্য তার পরিশ্রম ও অধ্যবসায়েরই প্রমাণ বলে মনে করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

কালের আলো/এসএ

‘মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, সঙ্গে রাখি কাফনের কাপড়’: লাকি আলী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
‘মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, সঙ্গে রাখি কাফনের কাপড়’: লাকি আলী

নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা গায়ক লাকি আলী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতার ভালোবাসা পাওয়া এই শিল্পী সম্প্রতি এক কনসার্টে গিয়ে ভক্তদের আবেগে ভাসিয়েছেন। তবে গান ও স্মৃতিচারণার একপর্যায়ে মৃত্যু ও জীবনের নশ্বরতা নিয়ে তার করা একটি মন্তব্য মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো আসর।

৬৭ বছর বয়সী লাকি আলী কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। এমনকি ভ্রমণের সময়ও সঙ্গে ইহরামের কাপড় রাখেন, যা তিনি নিজের কাফনের কাপড় হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভক্তদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে লাকি আলী বলেন, ‘আমি জানি, আমিও তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের তার জন্য প্রস্তুত করছি না, তবে আমি নিজে প্রস্তুত। আমি যখনই ভ্রমণ করি, সঙ্গে ইহরাম রাখি, যেটি আমার কাফনের কাপড়। যেখানেই আমার মৃত্যু আসুক, সেখানেই আমাকে ছেড়ে দিও।’

শিল্পীর এমন আধ্যাত্মিক বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে ওঠে কনসার্টের পরিবেশ। একপর্যায়ে দর্শকসারির এক অনুরাগী আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চিৎকার করে বলেন, ‘৩০ বছর হয়ে গেল। আমি লাকিকে কখনো ছাড়িনি।’

কনসার্টের এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন লাকি আলী। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় শিল্পীর এমন বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে নানা মন্তব্য করেন ভক্তরা। কেউ তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন, আবার কেউ তার বক্তব্যের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন।

নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতের মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে আলাদা পরিচয় তৈরি করেন লাকি আলী। কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের ছেলে হয়েও বলিউডের প্রচলিত ধারায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বরং স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নিজের আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী।

‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘ইউভা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ ও ‘তামাশা’র মতো সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন লাকি আলী। তবে তার গাওয়া ‘ও সানাম’ গানটি এখনো সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

২০১৫ সালের পর থেকে বলিউড ও মূলধারার বাণিজ্যিক সংগীত থেকে কিছুটা দূরে সরে নিজের মতো করে স্বাধীন সংগীতচর্চায় মনোনিবেশ করেন এই শিল্পী। ব্যক্তিগত জীবনেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। তিনবার বিয়ে করলেও কোনো সম্পর্কই স্থায়ী হয়নি। তবে সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং সন্তানদের প্রতিও দায়িত্বশীল থেকেছেন বলে জানা যায়।

কালের আলো/এসএ