খুঁজুন
                               
, ,
           

মৃত্যুর ৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে উদ্ধার হচ্ছেন পর্বতারোহী ‘গ্রিন বুটস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর ৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে উদ্ধার হচ্ছেন পর্বতারোহী ‘গ্রিন বুটস’

সবুজ পর্বতারোহণের জুতো ভারতীয় সেই পর্বতারোহীকে পরিচিত করেছে ‘গ্রিন বুটস’ নামে।

গত তিন দশক ধরে এক নির্মম নিশানা হয়ে আছে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার পথে বরফে জমে থাকা এক মৃতদেহ। সবুজ পর্বতারোহণের জুতো ভারতীয় সেই পর্বতারোহীকে পরিচিত করেছে ‘গ্রিন বুটস’ নামে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে যাওয়ার পথে হাজার হাজার পর্বতারোহী এই দৃশ্য দেখে আসলেও, এবার সেই মরদেহটি উদ্ধারে এগোচ্ছে ভারত। দীর্ঘ ৩০ বছর আগে মৃত এই পর্বতারোহীর নাম দোরজে মোরুপ।

এভারেস্টে বরফের নিচে অবহেলিত শত শত মরদেহের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত তিনি। বন্ধু বা পরিবার কখনোই আশা হারায়নি যে তিনি একদিন ফিরবেন। এবার তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মরদেহটি ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে।

দোরজে মোরুপের স্ত্রী কোনচাক ইয়াংস্কিত বিবিসিকে বলেন, কোনো কোনো রাতে ঘুমানোর আগে আমার মনে হতো, আজ রাতে হয়তো দরজায় কড়া নাড়বে কেউ, দরজা খুললেই দেখব তিনি দাঁড়িয়ে আছেন।

তিনি বাড়ি ফিরলে তাকে জিজ্ঞেস করব- এত বছর কোথায় ছিলে?

ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর ল্যান্স নায়েক বা ল্যান্স করপোরাল ছিলেন ৪৮ বছর বয়সী মোরুপ। হিমালয়ের ট্রেকিংয়ে তিনি নতুন ছিলেন না। এভারেস্ট জয়ের জন্য আইটিবিপির যে ছয় সদস্যের দল অংশ নিয়েছিল, মোরুপ ছিলেন তাদের একজন।

নেপাল সীমান্ত দিয়ে বেশির ভাগ পর্বতারোহী এভারেস্টে উঠলেও, মোরুপের দলটি তিব্বতের তুলনামূলক দুর্গম চীনা অংশ দিয়ে ইতিহাস গড়তে চেয়েছিল।

তুষারঝড়ের কারণে দলের তিন সদস্য ফিরে এলেও মোরুপ এবং অন্য দুজন—সেওয়াং স্মানলা সেওয়াং পালজোর—৮ হাজার ৮৪৭ মিটার উচ্চতার চূড়ার দিকে এগিয়ে যান। তবে নামার সময় এক ভয়াবহ তুষারঝড় তাদের প্রাণ কেড়ে নেয়।

গত এক শতাব্দীতে এভারেস্ট অঞ্চলে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগেরই মরদেহ পাহাড়েই থেকে গেছে।

এর মধ্যে দুজনের খোঁজ কখনো মেলেনি। তবে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত দোরজে মোরুপের মরদেহটি গত তিন দশক ধরে ৮ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় বরফে জমে রয়েছে।

বহু বছর ধরে ধারণা করা হতো ‘গ্রিন বুটস’ হলেন এই অভিযানেরই আরেক সদস্য সেওয়াং পালজোর। কিন্তু বেঁচে থাকা সহকর্মীদের সাক্ষ্য এবং শেষ রেডিও যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এখন নিশ্চিত হয়েছে ওই মরদেহটি আসলে মোরুপেরই।

মরদেহ উদ্ধার কতটা কঠিন হবে?
পাহাড় থেকে মরদেহ নামিয়ে আনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল কাজ। মোরুপের মরদেহটি রয়েছে এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’-এ, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় অক্সিজেনের মাত্রা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

অভিজ্ঞ নেপালি পর্বতারোহী ছিরিং জাংবু শেরপা বলেন, আবহাওয়া এবং বরফের অবস্থাই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।চীনা অংশে খাড়া ঢাল রয়েছে এবং নেপালি অংশের মতো সেখানে কোনো উদ্ধার অবকাঠামো বা হেলিকপ্টারের সুবিধা নেই।

মাউন্টেনিয়ারিং গাইড পেম্বা ওংচু শেরপা জানান, বসন্ত মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়ায়ও মরদেহ নামানো অত্যন্ত কঠিন। আর শরৎতে তো পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, কেবল পথ তৈরি করার জন্যই ১০ থেকে ১২ জন দক্ষ পর্বতারোহীর প্রয়োজন হবে।

বরফে জমে থাকা ভারী সরঞ্জামসহ মরদেহ নামানো এবং পরবর্তীতে তা নিচে নামিয়ে হেলিকপ্টার বা ইয়াকের সাহায্যে বিমানবন্দরে পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। ভারতীয় পর্বতারোহী কুন্তল জোইশার বলেন, প্রথম ১ হাজার মিটার পথ নামানোই সবচেয়ে বড় লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ। এই পুরো উদ্ধার অভিযানের খরচ সাধারণত ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা বেশিরভাগ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ।

শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ২০২১ সালে। ওই বছর ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। এরপর ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২২ সালে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তথ্যের মধ্যে প্রতিবেদনে অসামঞ্জস্য রয়েছে। সেখানে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন নিহতের কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ৪৮৭ জন। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ জন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। ১৬ হাজার ৬৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৬ হাজার ৩১৪টি, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি বা ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের হিসাবেও পণ্যবাহী যানবাহন এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ পণ্যবাহী যানবাহন ৬ হাজার ৪৮১টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ছিলেন ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনার জন্য, যা ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাসের চালক ২ হাজার ১৬৪টি বা ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ ছাড়া তিন চাকার যান ৭৩২টি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৪৩৮টি এবং বাইসাইকেল ও রিকশা ১২৩টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল। পথচারীর কারণে ঘটেছে ২৯৬টি দুর্ঘটনা।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এ ধরনের সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি বা ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি বা ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি বা ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণেরা ব্যবহার করেন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সড়কে প্রতিযোগিতামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা তৈরি করছে। গতির মধ্যে রোমাঞ্চ খুঁজতে গিয়ে অনেক চালক নিজের পাশাপাশি পথচারী ও অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন।

অন্যদিকে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের একটি অংশ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় যানবাহন চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বেপরোয়া চালনার কারণেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি, যানজট এবং দ্রুত চলাচলের সুবিধার কারণে মানুষ মোটরসাইকেলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু মোটরসাইকেল চালকদের সচেতন করলেই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সড়কের অবকাঠামো, গণপরিবহন ব্যবস্থা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং ভারী যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণ ও নজরদারি একসঙ্গে জোরদার করতে হবে। তা না হলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এই প্রবণতা থামানো কঠিন হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরকারের কাজে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
সরকারের কাজে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন ও আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বই অন্ধকার ঘোচাতে বাতির মতো কাজ করে, একটি বড় প্রদীপের কাজ করে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজ আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা আমাদের বক্তব্য লিখে রাখছেন—এসবই বিজ্ঞানের অবদান।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি লিখেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়েছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিবছর ও প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছে। তাই বইয়ের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি।

বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, আমরা যদি বই না পড়ি, জ্ঞান অর্জন না করি এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হই, তাহলে আমাদের মনের জগত ও বিশ্বজগত—দুটোই অন্ধকার হয়ে থাকবে। বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলেই মনের জগতের পাশাপাশি বহির্জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই পাঁচ মাসে সরকার কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনাবলি বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। জাতি এসব জানে এবং দেখেছে। তবে সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিন-রাত তিনি কাজ করছেন এবং তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিজেই দেখছেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সে আমলাতন্ত্রের লোক হোক, বুরোক্রেসির লোক হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক—গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি বা জোট সরকার জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হতে চলছে, সেসবের মোটামুটি বিস্তৃত বর্ণনা বইটিতে পাওয়া যাবে।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে এবং নানাভাবে সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি তার নিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ রচিত হলে সেটি সবার হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে থাকবে।

তিনি বলেন, তখন মানুষ বুঝতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যাভিত্তিক কথা বলছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান,ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান: রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান: রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নিজ গ্রাম ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ মিয়ার দালান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে প্রথম বেইমানিটি করেছেন জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান’।

​গণঅভ্যুত্থানে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত একদম সঠিক পথেই ছিলেন। কিন্তু তিনি যে মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর ফাঁদে পা দিয়েছেন, ঠিক তখন থেকেই তিনি বিপথগামী হয়েছেন।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ