খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সদর দফতরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) একটি সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) জেআইসির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে এই ‘আয়নাঘর’ নামে এই টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভিন্নমতের অনেক ব্যক্তিকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এসব টর্চার সেলে আটকে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘১/১১-এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।’

টর্চার সেলের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে এ ঘটনায় আরও যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযোগ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জেআইসি সেলের অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা দেয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে এবং অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে অবস্থিত এই বন্দিশালা পরিদর্শনে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারকসহ প্রসিকিউশন টিম এবং তদন্ত সংস্থার সদস্যরা।

পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মুহাম্মদ শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্য সদস্য, তদন্ত সংস্থার সদস্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দফতরে এলিট ফোর্সিটির গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীরা। ওইদিন তারা ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সাতটি ডেথ সেলে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা নেন।

গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের প্রেক্ষিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাইব্যুনাল-১।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এমন ভুল না করলেও পারতাম অতীত নিয়ে শাকিব খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
এমন ভুল না করলেও পারতাম অতীত নিয়ে শাকিব খান

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে আলোচনার শেষ নেই। বিশেষ করে তার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই থেকে কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।

কিছুদিন আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতে থাকা এক ‘অপূর্ণ প্রেম’-এর গল্প শোনান নায়ক। এবার জানালেন, অতীতে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছুই ঘটেছে; যা নাকি ছিল তার ‘ভুল’।  

একই টেলিভিশন সেটে ফের দেখা মিলল শাকিব খানকে। সেখানে তার দুই যুগের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন এবং চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। আলাপচারিতার একপর্যায়ে অতীতের ভুলগুলো নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও সেই ভুলগুলো আদতে কি, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি মেগাস্টার।’

জীবনে কোনো ভুল করেছেন কি না— উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে শাকিব খান অকপটে স্বীকার করেন, তিনি জীবনে অনেক ভুল করেছেন। তার কথায়, ‘অনেক ভুল করেছি। অনেক সময় মনে হয়, এমন ভুল না করলেও পারতাম। অনেক কথা আমি বলার আগেই মানুষ জেনে যায়।

আমার বলা পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে হয় না। যতটুকু বলার বলছি, অনেক সময় পেছন ফিরে তাকালে আফসোস লাগে।’

ভুলগুলো কেন হয়েছে—  প্রশ্নের জবাবে শাকিব খান বলেন, ‘ওই যে- কপাল। সেই ভুলগুলো না হলে ব্যাপারটা এখন হয়তো আরও স্মুথ হতে পারতো। আসলে ভুল আমাদের প্রত্যেক মানুষেরই হয়।’

শাকিব খান আরও বলেন, ‘নিভৃতে যখন নিজের সাথে বসি, তখন এই হিসাব-নিকাশগুলো আমাকে পীড়া দেয়। কিন্তু কি আর করব, অনেক কিছু চাইলেও তো চেঞ্জ করা সম্ভব না, হাতে নেই আমাদের। কিন্তু যখন জেনে যাই এটা ভুল, তখন আর জেনে শুনে সেটা আর করা যায় না আর সম্ভাবনা নেই।’

ইঙ্গিতে সঞ্চালক শাকিব খানের দুই স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে নিয়েও জিজ্ঞাসা করেন। শাকিব খানের স্পষ্ট উত্তর, ‘তারা দুজন আমার লাইফের পার্ট। তবে আমি কিছু বলতে চাই না তাদের নিয়ে। আমি বিষয়গুলো নিজের মধ্যেই রাখি।’

সঞ্চালক যখন বললেন, ‘তাদেরকে সতর্ক করা হয় কি না, জবাবে শাকিব খান বলেন, তাদের সঙ্গে দেখা হলে মাঝে মাঝে বলি।’

সামাজিক মাধ্যমের অতিরঞ্জিত খবর প্রসঙ্গে তিনি জানান, আজকাল কোনো ঘটনা ঘটার আগেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় আজব সব ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়, যার সঙ্গে বাস্তবে তার কোনো সম্পর্কই নেই। এসব অতিরঞ্জিত প্রচারের কারণেই তিনি এখন অনেকটা অন্তর্মুখী হয়ে গেছেন।

এদিকে আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়ে বেশ আশাবাদী ঢাকাই সিনেমার এই শীর্ষ নায়ক। চলতি বছরের অক্টোবরের দিকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে। এর মধ্যেই এই নায়ক জানালেন, জীবনের বাকি সময়টুকু আনন্দ ও হাসিখুশির মধ্য দিয়ে কাটাতে চান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ।

শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ২০২১ সালে। ওই বছর ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। এরপর ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২২ সালে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তথ্যের মধ্যে প্রতিবেদনে অসামঞ্জস্য রয়েছে। সেখানে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন নিহতের কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ৪৮৭ জন। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ জন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। ১৬ হাজার ৬৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৬ হাজার ৩১৪টি, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি বা ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের হিসাবেও পণ্যবাহী যানবাহন এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ পণ্যবাহী যানবাহন ৬ হাজার ৪৮১টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ছিলেন ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনার জন্য, যা ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাসের চালক ২ হাজার ১৬৪টি বা ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ ছাড়া তিন চাকার যান ৭৩২টি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৪৩৮টি এবং বাইসাইকেল ও রিকশা ১২৩টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল। পথচারীর কারণে ঘটেছে ২৯৬টি দুর্ঘটনা।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এ ধরনের সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি বা ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি বা ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি বা ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণেরা ব্যবহার করেন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সড়কে প্রতিযোগিতামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা তৈরি করছে। গতির মধ্যে রোমাঞ্চ খুঁজতে গিয়ে অনেক চালক নিজের পাশাপাশি পথচারী ও অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন।

অন্যদিকে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের একটি অংশ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় যানবাহন চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বেপরোয়া চালনার কারণেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি, যানজট এবং দ্রুত চলাচলের সুবিধার কারণে মানুষ মোটরসাইকেলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু মোটরসাইকেল চালকদের সচেতন করলেই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সড়কের অবকাঠামো, গণপরিবহন ব্যবস্থা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং ভারী যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণ ও নজরদারি একসঙ্গে জোরদার করতে হবে। তা না হলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এই প্রবণতা থামানো কঠিন হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরকারের কাজে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
সরকারের কাজে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন ও আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বই অন্ধকার ঘোচাতে বাতির মতো কাজ করে, একটি বড় প্রদীপের কাজ করে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজ আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা আমাদের বক্তব্য লিখে রাখছেন—এসবই বিজ্ঞানের অবদান।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি লিখেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়েছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিবছর ও প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছে। তাই বইয়ের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি।

বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, আমরা যদি বই না পড়ি, জ্ঞান অর্জন না করি এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হই, তাহলে আমাদের মনের জগত ও বিশ্বজগত—দুটোই অন্ধকার হয়ে থাকবে। বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলেই মনের জগতের পাশাপাশি বহির্জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই পাঁচ মাসে সরকার কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনাবলি বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। জাতি এসব জানে এবং দেখেছে। তবে সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিন-রাত তিনি কাজ করছেন এবং তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিজেই দেখছেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সে আমলাতন্ত্রের লোক হোক, বুরোক্রেসির লোক হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক—গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি বা জোট সরকার জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হতে চলছে, সেসবের মোটামুটি বিস্তৃত বর্ণনা বইটিতে পাওয়া যাবে।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে এবং নানাভাবে সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি তার নিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ রচিত হলে সেটি সবার হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে থাকবে।

তিনি বলেন, তখন মানুষ বুঝতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যাভিত্তিক কথা বলছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান,ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ