খুঁজুন
                               
, ,
           

শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার পাবে ১০ লাখ: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার পাবে ১০ লাখ: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনায় হতাহতদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে গেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এসময় তিনি নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকাল পৌণে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ও সরকারের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮ জন মারা গেছেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, মৃতের সংখ্যা বাড়বে। মূলত সাগরে জোয়ার থাকায় এখনো সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি উদ্ধারকারী দল।

সকালে ভাটিয়ারিতে এলএনজিবাহী পুরাতন একটি জাহাজ কাঁটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, ২০-২৫ বছরের পুরাতন জাহাজটি কাটার সময় বিষাক্ত কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৯৪৭ সালে মোদি থাকলে ভারত ভাগ হতো না: যোগী আদিত্যনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
১৯৪৭ সালে মোদি থাকলে ভারত ভাগ হতো না: যোগী আদিত্যনাথ

১৯৪৭ সালে যদি ভারতের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা তার মতো কোনো নেতা থাকতেন, তবে ভারতের বিভাজন ঘটত না— বলে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এছাড়াও বাংলাদেশকে জোর করে হিন্দু গ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে লখনউতে ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব দাবি করেন তিনি।

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত ভাগ হতো না। বর্তমান বাংলাদেশ, পাকিস্তান সব ভারতের অংশই থাকত। তৎকালীন কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমতার লোভ এবং তোষণ নীতির কারণেই দেশভাগ ও এর পরবর্তী সময়ে লাখ লাখ মানুষের ওপর সহিংসতা ও দাঙ্গা নেমে এসেছিল।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় (১৯৪৭) নরেন্দ্র মোদী যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে কেউই ভারতের সামান্যতম ক্ষতিও করতে পারত না। যদি সেই সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে কেউই ভারতকে বিভক্ত করতে পারত না… এই কংগ্রেস সদস্যদের কাপুরুষতার জন্য দেশকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে — এমন চরিত্র আপনারা সবাই সিএএ বিক্ষোভের সময় দেখেছেন।’

আদিত্যনাথ আরও দাবি করেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান এমন ভূখণ্ডের অংশ পেয়েছিল, যা তারা কখনও চায়নি। তরে মতে সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বাংলার মতো হিন্দু ও বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো কংগ্রেসের কারণে জোরপূর্বক পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশসহ) অংশ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘সিন্ধু ছিল একটি হিন্দু-অধ্যুষিত ও সিন্ধি-অধ্যুষিত এলাকা, যা জোরপূর্বক পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল; একইভাবে পাঞ্জাবি-অধ্যুষিত পাঞ্জাবও হস্তান্তর করা হয়েছিল। বাংলা ছিল বাঙালি-শাসিত। সমস্ত হিন্দু গ্রাম জোর করে বর্তমান বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই লজ্জাজনক কাজটি করেছিল কংগ্রেস, যারা ক্ষমতার জন্য অতিরিক্ত অস্থির ছিল এবং যাদের ওপর দেশ আস্থা রেখেছিল। তারা সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে।’

কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার সময়েও কংগ্রেস নীরব ছিল।

তিনি বলেন, ‘তারা আশঙ্কা করেছিল যে বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখালে এখানকার তাদের ভোটব্যাঙ্ক সরে যেতে পারে। তাদের কাছে দলিত হিন্দুদের হত্যার কোনো গুরুত্ব নেই; যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো তাদের নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক।’

প্রসঙ্গত, যোগী আদিত্যনাথ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তার বক্তব্য ও নীতি প্রায়শই মুসলিম, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ-বিরোধী হিসেবে আলোচিত হয়।

ভারতের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু স্বার্থ রক্ষা। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

এছাড়াও তার শাসনামলে উত্তর প্রদেশের ‘এলাহাবাদ’-কে ‘প্রয়াগরাজ’, ‘ফয়জাবাদ’-কে ‘অযোধ্যা’ সহ বিভিন্ন মুসলিম নামযুক্ত ঐতিহাসিক শহর ও স্থানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া গরু জবাই এবং হিন্দু-মুসলিম ‍বিয়ে ঠেকাতে কঠোর আইন প্রণয়ন করায় তাকে মুসলিমবিরোধী হিসেবেই দেখেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ডেকেন হেরাল্ড

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষার পরিধি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
শিক্ষার পরিধি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষ বা একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিতর্ক, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ছাত্র আন্দোলনও শিক্ষার্থীদের শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজিব উদ্দীন খুররম অডিটোরিয়ামে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি (ডিসিডিএস) আয়োজিত পঞ্চম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের দখলদারিত্ব ও অন্যের অধিকার হরণের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান থাকতে হবে।

বিতর্কচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিতর্কের সময় কোনো বিষয়ে বিপক্ষ অবস্থান নেওয়ার অনুশীলন শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্বাস ও ধারণাকে প্রশ্ন করতে শেখায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিনির্ভর ও বিশ্লেষণাত্মকভাবে চিন্তা করার দক্ষতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও কাজে লাগে।

ঢাকা কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপরও জোর দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া এবং তুলনামূলক ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি বলেন, এই সুবিধাজনক অবস্থান ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা কলেজকে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের আবেগের কথা তুলে ধরে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও গভীর আবেগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে এসে বর্তমান অবকাঠামো দেখে কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। কলেজের অডিটোরিয়ামসহ পুরো ক্যাম্পাসের উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা বিতার্কিকসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে গুলিবর্ষণে নিহত ৩, আহত ৯৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে গুলিবর্ষণে নিহত ৩, আহত ৯৪

পাকিস্তানের করাচি শহরে দেশটির ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় আনন্দ উল্লাসের নামে বেপরোয়া ফাঁকা গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৯৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ শুক্রবার) করাচির পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় করাচির পিআইবি কলোনির একজন পুরুষ ও এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, যিনি পরে মারা যান।

তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ আরও ১৭ জনকে সিভিল হাসপাতালে, ২৪ জনকে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে এবং ৫৩ জনকে জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টারে ‍চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিয়ারি, সদর, কোরাঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, উত্তর নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ, গুলবাহার, গুলশান-ই-ইকবাল, ওরাঙ্গি টাউন, জামশেদ কোয়ার্টার্স এবং ডিফেন্সে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, করাচির পূর্ব জেলার পুলিশ স্বাধীনতা দিবসে ফাঁকা গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়ান্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

করাচির পশ্চিম জেলা পুলিশও একই অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

প্রসঙ্গত, কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বা নতুন বছরের মতো উৎসবগুলোতে এই ধরণের ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা একটি নিয়মিত ও বিপজ্জনক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বছরই বহু মানুষের প্রাণহানি ও মারাত্মক জখমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে করাচিতে উদযাপনের গোলাগুলিতে এক মেয়েশিশুসহ তিনজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

সূত্র: ডন

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ