খুঁজুন
                               
, ,
           

পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএ’র ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ-র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জে ২০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আটতলা ভবন। তবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় নিজস্ব ভবনে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একটি ভাড়া বাসায় সীমিত পরিসরে চলছে কেন্দ্রটির কার্যক্রম।

শহরের হাসনগর ময়নার পয়েন্টসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে প্রায় তিন বছর ধরে চলছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে চিকিৎসাসামগ্রী, চেয়ার-টেবিল ও নথিপত্র। একটি কক্ষে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কক্ষে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে একসঙ্গে বসে কাজ করতে হচ্ছে।

একটি ছোট কক্ষে দুটি শয্যা বসিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে লেবার রুম হিসেবে। ভবনের সিঁড়ির নিচে করা হয়েছে ডিসপেনসারি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গাও নেই।

কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা, শিশু ও কিশোরীদের জন্য ২০ শয্যার চিকিৎসাসুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কক্ষ, পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটার (ওটি), কেবিন ও অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের ডিএস রোড এলাকায় কেন্দ্রটির নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৫ মে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিলেটের অধীনে আটতলা ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। দরপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

নির্মাণাধীন ভবনটির সাততলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই ও গাঁথুনির কাজ শেষ হলেও অষ্টম তলার ছাদ ও ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় পড়ে আছে বাঁশ, কাঠের তক্তাসহ নির্মাণসামগ্রী।

রোগীর স্বজন নুরুল আমিন বলেন, গুরুতর রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিলেট ও ঢাকায় যেতে হয়। এতে দরিদ্র মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো উপকৃত হতো।

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. প্রিয়াঙ্কা পাল চৌধুরী বলেন, বর্তমান ভবনে আরও কয়েকটি কক্ষ থাকলে আলাদা ওটি, পোস্ট-অপারেটিভ সেবা ও রোগীদের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা করা যেত।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। ২০২৪ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ অসমাপ্ত থাকে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নতুন ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ করা হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাবারের সংকটে পড়েছে বানর। বনের ভেতরে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় লোকালয়ে গিয়ে খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে এসব প্রাণীকে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে অপছন্দের টক ফল আনারকলিও খেতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

লাউয়াছড়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিরহরিৎ বনাঞ্চল। প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এখানে ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।

উল্লুকের জন্য বিখ্যাত লাউয়াছড়ায় চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছো বিড়াল, রাম কুকুর ও মায়া হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। তবে বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বানরের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

কমেছে বনের প্রাকৃতিক খাদ্য

বানর মূলত ফলভোজী প্রাণী। কলাসহ বিভিন্ন মিষ্টি ও নরম ফল তাদের পছন্দ। পাশাপাশি তারা পাতা, বীজ, ফুল ও পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে বনের অনেক ফলদ গাছ কমে যাওয়ায় তাদের প্রাকৃতিক খাদ্যের জোগানও কমেছে।

বন উজাড় ও বনাঞ্চলের পরিবর্তনের ফলে বানরের খাদ্যসংকট আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। খাবারের সন্ধানে অনেক সময় বানরের দল লোকালয়ে চলে আসে। লাউয়াছড়ার প্রধান প্রবেশপথেও পর্যটকদের আশপাশে নিয়মিত দেখা যায় তাদের।

পর্যটকদের খাবারের ওপর নির্ভরতা

লাউয়াছড়ায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে কলা, বাদাম, মুড়ি ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাবার পেয়ে থাকে বানরগুলো। অনেক সময় পর্যটকদের ফেলে যাওয়া খাবারও তারা সংগ্রহ করে খায়।

তবে ক্ষুধার তাড়নায় এখন তাদের টক জাতীয় পাহাড়ি ফল ট্যাং ফল বা আনারকলি খেতেও দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে টক ফল বানরের খুব একটা পছন্দ নয়। তারপরও খাদ্যসংকটের কারণে এসব ফল খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল গেটের সামনে একটি বানরকে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আনারকলি খেতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নেত্রকোনা-দুর্গাপুর সড়ক

কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেএকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেত্রকোনা ও দুর্গাপুরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ডেউটুকোন এলাকায় কংস নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ ৫০ বছরের। কিন্তু নানা উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতু। ফলে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।

নেত্রকোনা-ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কের মাঝখানে কংস নদী অবস্থিত। নদীর দুই পাশে সড়ক যোগাযোগ সচল থাকলেও সেতু না থাকায় নৌকায় নদী পার হতে হয়। নেত্রকোনা সদর থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। অথচ রাজুর বাজার হয়ে ডেউটুকোন সেতু নির্মাণ করা গেলে দুর্গাপুরের সঙ্গে দূরত্ব কমে প্রায় ২৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকেই কংস নদী পারাপারে দুর্ভোগ চলছে। বিশেষ করে রাতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে নদী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে নদী পারাপারের জন্য একটি ফেরি চালু করা হলেও সেটিও অল্পদিনের মধ্যে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে নৌকাই পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে ডেউটুকোন ঘাটে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে মাপজোখ ও টেন্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী শুধু আশ্বাসই পেয়ে আসছেন।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খারুল ইসলাম বলেন, ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। কংস নদীর ওপর সেতুটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফিজিবিলিটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডিজাইন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ড্রয়িং ও ডিজাইন শেষ হলে ডিপিপি তৈরি করে প্রকল্প জমা দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডেউটুকোন সেতুর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সার্ভেও সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেউটুকোন, সোমেশ্বরী ও বরুয়াকোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেউটুকোন সেতুটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতুটি নির্মিত হলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নেত্রকোনা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে কমবে যাতায়াতের দূরত্ব, সময় ও খরচ।

কালের আলো/এমএসআইপি