৫০ বছরেও মাঠ মাতাচ্ছেন কার্বি, প্রতিটি ম্যাচ উৎসর্গ প্রয়াত ছেলের স্মৃতিতে
বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই। মাথার চুলে পাক ধরেছে। অথচ মাঠে নামলেই যেন বয়সের হিসাবটাই ভুলে যান ক্রেগ কার্বি। তরুণ প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে পাশ দিচ্ছেন, বল নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, আর সেই মুহূর্তগুলোই স্ত্রী লিন্ডসের ক্যামেরায় উঠে যাচ্ছে টিকটকে।
সম্প্রতি রচডেলের উত্তরে নিজের জিম খুলতে গিয়ে ফোনে নোটিফিকেশনের বন্যা দেখেন কার্বি। স্থানীয় একটি অপেশাদার ম্যাচের ভিডিও ইতোমধ্যে ৮৫ হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ফিটনেস আর বল ছাড়া মাঠের মুভমেন্টই ফুটবলের ৯০ শতাংশ।’
তবে সেটিই কার্বির সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিও নয়। তার ‘ফুটবল অ্যাট ফিফটি’ পেজে পিন করে রাখা একটি ভিডিও প্রায় ২৯ লাখবার দেখা হয়েছে। ল্যাঙ্কাশায়ারের গ্রাম্য পরিবেশে উইটওয়ার্থ ভ্যালির হয়ে খেলার সেই ভিডিওর ক্যাপশন ছিল, ‘আজ অনেক হারলাম। তবে ৫০ বছর বয়সের হিসেবে মন্দ না!’
ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে এখন তার অনুসারীর সংখ্যা অনেক। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে গভীর ব্যক্তিগত শোকের গল্প।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ২০ বছর বয়সে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে কর্মরত ছেলে সেবাস্টিয়ান আত্মহত্যা করেন। ছেলের মৃত্যুর পর ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কার্বি। কিন্তু স্ত্রী লিন্ডসের উৎসাহে আবার মাঠে ফেরেন তিনি। খেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পরামর্শও দিয়েছিলেন স্ত্রী।
শুরুতে কার্বির ধারণা ছিল, ভিডিওগুলো হয়তো কয়েকজন বন্ধুই দেখবেন। কিন্তু হঠাৎ করে লাখ লাখ ভিউ আসতে শুরু করলে অবাক হয়ে যান তিনি।
কার্বি বলেন, ‘এখন ২০ বা ৩০ বছর বয়সের চেয়েও আমি ফুটবলটা বেশি উপভোগ করছি।’
কৈশোরে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সে ট্রায়াল দিয়েছিলেন কার্বি। তবে বাবার মতো সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্নে ফুটবলের সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২৫ বছর বয়সে সেনাবাহিনী ছাড়ার পর কেমব্রিজ ইউনাইটেড থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের দায়িত্বের কথা বিবেচনা করে পেশা হিসেবে বেছে নেন পার্সোনাল ট্রেনারের কাজ।
এখন সেই কার্বিই নিজের ফিটনেস ও বলের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে তরুণ ফুটবলারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাকে জিনেদিন জিদান কিংবা সের্হিও বুসকেতসের সঙ্গে তুলনা করছেন।
তার এই পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি ইংল্যান্ডের ওভার-ফিফটি জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও। সম্প্রতি ডাক পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ৫০-ঊর্ধ্ব জাতীয় দলে। থাইল্যান্ডে থ্রি লায়ন্সদের জার্সিতে নিজের প্রথম অফিশিয়াল ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
তবে কার্বির কাছে ফুটবল এখন শুধু খেলা নয়, ছেলের স্মৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকারও একটি পথ।
তিনি বলেন, ‘আমি শোকের কারণে প্রিয় খেলাটা ছেড়ে দিতে চাইনি। ৯৯ শতাংশ সময় আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করি, তবে আমি যখনই মাঠে নামি, পুরো খেলাটাই আমার ছেলে সেবের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা থাকে।’
শোককে শক্তিতে পরিণত করে ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে নতুন করে জীবন উপভোগ করছেন কার্বি। বয়সের কারণে যারা কোনো স্বপ্ন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও তার বার্তা স্পষ্ট—‘কোনো কিছু করতে চাইলে দ্বিধা না করে মাঠে নেমে পড়ুন। চিন্তা করাই মূল বাধা, কাজটা করে ফেলা নয়।’
আর কবে ফুটবল ছাড়বেন?
হেসে কার্বির উত্তর, ‘যেদিন মাঠে কোনো তরুণ আমাকে ড্রিবল করে পার হয়ে গিয়ে হাসাহাসি করবে, বুঝব থামার সময় এসেছে!’
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array