গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার, সরকারের হস্তক্ষেপ না করার স্পষ্ট বার্তা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং তার নিজস্ব শক্তি ও স্বাধীনতার ওপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি’র বক্তব্যে উঠে এসেছে-সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়াই সরকারের নীতি। কোন সংবাদ প্রকাশ হবে, কোনটি থাকবে কিংবা কোনো প্রতিবেদন প্রত্যাহার করা হবে কি না-এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানই নেবে।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং সরকার গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে না, আমরা কোনো হস্তক্ষেপও করি না।’
তাঁর এই বক্তব্য কেবলমাত্র সরকারের অবস্থানকে পরিস্কার করেনি। এটি গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের পূর্ণ আস্থা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি ইতিবাচক রাজনৈতিক মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যে সম্পূরক প্রশ্ন ছিল হান্নান মাসুদ’র
এর আগে সংসদে এনসিপি’র সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তা প্রত্যাহার এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে নিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনের ওয়েব সংস্করণ সাইবার হামলার কারণে দীর্ঘ সময় অপ্রকাশিত থাকার বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের ঘটনা—বিশেষ করে সরকার বা সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন সাইবার হামলার শিকার হওয়া কিংবা সরিয়ে ফেলার ঘটনায়—বাকস্বাধীনতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা জানতে চান তিনি।
রাষ্ট্রীয় চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করার নিশ্চয়তা
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করছে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোন সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, কোনটি সরিয়ে নেওয়া হবে, কী প্রকাশ করা হবে বা হবে না—এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিজেরাই নেবে। ‘বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না,’ বলেন তিনি।
সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করার নিশ্চয়তা। তিনি একই সঙ্গে গণমাধ্যমের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে চায়; এজন্য নিয়ন্ত্রণ আরোপের বদলে পেশাগত স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর এই বিষয়টিও উঠে এসেছে।
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গ
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গেও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেক সাংবাদিক প্রেস ক্লাবের সদস্য রয়েছেন। এটি স্বাভাবিক বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক মত বা আদর্শ থাকতে পারে।’ তবে সাংবাদিকতায় তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম
চলমান ডিজিটাল বাস্তবতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য। এমন বাস্তবতায় ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
কালের আলো/এমএএএমকে

আপনার মতামত লিখুন
Array