খুঁজুন
                               
, ,
           

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সময় দুই মন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বিশেষ করে ওই প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী, দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনবল দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান

বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধির জন্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশের দুই মন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ঢাকার ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পৃথিবী থেকে এক আলোকদিবস দূরত্বে ‘ভয়েজার ১’, নতুন ইতিহাসের পথে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
পৃথিবী থেকে এক আলোকদিবস দূরত্বে ‘ভয়েজার ১’, নতুন ইতিহাসের পথে

মহাশূন্যের গভীরে ছুটে চলা নাসার মহাকাশযান ‘ভয়েজার ১’ এবার নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মহাকাশে থাকা এই যানটি পৃথিবী থেকে এক আলোকদিবসের দূরত্বে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে। একই সঙ্গে এটি মানুষের তৈরি কোনো যান হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করার রেকর্ডও ধরে রেখেছে।

আলোর গতিতে ২৪ ঘণ্টায় আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সেটিই এক আলোকদিবস। নাসার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যে ভয়েজার ১ পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০৯ কোটি মাইল দূরে পৌঁছানোর কথা। এই দূরত্বই প্রায় এক আলোকদিবসের সমান।

ভয়েজার ১-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের পাশ দিয়ে যাওয়ার জন্য মহাকাশযানটি পাঠানো হলেও প্রাথমিকভাবে এর কার্যক্রম মাত্র পাঁচ বছর চালু থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় বহুগুণ বেশি সময় ধরে এটি মহাকাশে সক্রিয় রয়েছে।

২০১২ সালে ভয়েজার ১ সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে এটি সৌরজগতের বাইরে আন্তঃনাক্ষত্রিক অঞ্চলে প্রবেশ করা প্রথম মানবসৃষ্ট বস্তু হিসেবে ইতিহাস গড়ে।

বর্তমানে ভয়েজার ১ এত দূরে অবস্থান করছে যে মহাকাশযানটি থেকে পাঠানো কোনো সংকেত পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে পাঠানো কোনো নির্দেশনাও সেখানে পৌঁছাতে প্রায় এক দিন সময় লাগে।

অন্যদিকে, ভয়েজার ২-ও মহাকাশের গভীরে এগিয়ে চলেছে। তবে ভিন্ন পথে চলার কারণে সেটি ভয়েজার ১-এর এই মাইলফলকে পৌঁছাবে আরও প্রায় নয় বছর পর, ২০৩৫ সালের নভেম্বরে।

বর্তমানে ভয়েজার ১ উরসা মাইনর নক্ষত্রমণ্ডলের ‘গ্লিস ৪৪৫’ নক্ষত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে নক্ষত্রটির কাছাকাছি পৌঁছাতে মহাকাশযানটির প্রায় ৪০ হাজার বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

৫০টির বেশি সুবিধা নিয়ে মেটার নতুন সাবস্ক্রিপশন ‘মেটা ওয়ান’

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
৫০টির বেশি সুবিধা নিয়ে মেটার নতুন সাবস্ক্রিপশন ‘মেটা ওয়ান’

এআই ব্যবহারের সীমা বাড়ানো এবং নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা দিতে ‘মেটা ওয়ান’ নামে নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু করেছে মেটা। নতুন এই সেবার মাধ্যমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা এআইয়ের ৫০টির বেশি সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে।

মেটা জানিয়েছে, ‘মেটা ওয়ান’-এর আওতায় নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য আলাদা সাবস্ক্রিপশনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের জন্য কোর ও প্রিমিয়াম বান্ডেল এবং নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ থাকবে। তবে সাবস্ক্রিপশন না করলেও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা এআইয়ের মূল সুবিধাগুলো বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যাবে।

নতুন সেবার কোর ও প্রিমিয়াম প্যাকেজ মূলত নিয়মিত এআই ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এসব প্যাকেজে মেটা এআই দিয়ে আরও বেশি ছবি ও ভিডিও তৈরি করা যাবে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামের এআইভিত্তিক রিস্টাইল ফিচার, ভয়েস ইফেক্ট এবং বিভিন্ন সৃজনশীল টুল ব্যবহারের সীমাও বাড়বে।

এর আগে ইনস্টাগ্রাম প্লাস, ফেসবুক প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নামে আলাদা সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু করেছিল মেটা। এখন এসব সুবিধা ‘মেটা ওয়ান’-এর কোর ও প্রিমিয়াম বান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা, কনটেন্ট প্রকাশ এবং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন পেশাদার টুল ব্যবহার করা যাবে। নির্মাতাদের প্যাকেজে ভেরিফায়েড ব্যাজ, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসে ভেরিফায়েড চ্যানেল এবং অন্য কেউ পরিচয় নকল করে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার চেষ্টা করলে তা ঠেকানোর সুবিধাও থাকছে।

এ ছাড়া ব্যবসায়িক কাজে ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ করার কথা জানিয়েছে মেটা। সেবাটি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশে চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এডিটস এবং এআইনির্ভর স্মার্ট চশমাতেও ‘মেটা ওয়ান’-এর বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এসএ

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গত সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। তাঁর এই ঘোষণার পর মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের ধরন ও এর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্রয় মেইঙ্ক বলেন, শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা ঠিক কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোপলিটিকসের সহযোগী অধ্যাপক ব্লেডিন বোয়েনের ধারণা, এটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা রেডিও জ্যামিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কোনো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা সরাসরি কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস না করেও তার রেডিও যোগাযোগ ব্যাহত করতে সক্ষম।

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। চীন এমন প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যার মাধ্যমে একটি মহাকাশযান অন্য স্যাটেলাইটের কাছে গিয়ে সেটিকে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে। একই প্রযুক্তি মহাকাশের বর্জ্য বা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কাইনেটিক কিল ভেহিকেল ব্যবহার করে কোনো স্যাটেলাইটকে সরাসরি আঘাত করে ধ্বংস করা হলে বিপুল পরিমাণ মহাকাশবর্জ্য তৈরি হতে পারে। আবার ক্লোজ-ইন্সপেকশন ও গ্র্যাপলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য স্যাটেলাইটকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ বা ধরে ফেলার সক্ষমতাও সামরিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

জার্মানির বিজ্ঞান ও রাজনীতি ফাউন্ডেশনের গবেষক জুলিয়ানা সুয়েসের মতে, রাশিয়া অতীতে কো-অরবিটাল অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে রেনডেভু ও প্রক্সিমিটি অপারেশন (আরপিও) পরিচালনা করে আসছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক রড থর্নটন জানিয়েছেন, এ ধরনের কিছু স্যাটেলাইট অন্য স্যাটেলাইটকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা নতুন কোনো প্রযুক্তির বড় অগ্রগতির চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা। চীনের সামরিক আধুনিকায়ন এবং মহাকাশে তাদের স্যাটেলাইট সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মহাকাশ কার্যক্রম পরস্পরের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় মহাশূন্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ