খুঁজুন
                               
, ,
           

মোবাইল ছিনিয়ে নিতে অপ্রতীমকে হত্যা, বলছে পুলিশ

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
মোবাইল ছিনিয়ে নিতে অপ্রতীমকে হত্যা, বলছে পুলিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ছেলেকে ফিরে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুতি জানান তার মা ড. নাহিদা বেগম।

শনিবার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত। আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

বিশেষ/গাজীপুর/টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, সন্ধানী বার্তা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

আট দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে এবার প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রয়োজন হলে দাবি আরও বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে আট দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করারও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে ঢাকামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। প্রায় সাড়ে চার শ গাড়ির বহর নিয়ে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা করা এই লংমার্চের ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

  • ৪৫০ গাড়ির বহরে রংপুরের পথে ১১ দল
  • সরকারকে সতর্কবার্তা, ঢাকামুখী পরবর্তী লংমার্চের ইঙ্গিত

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সরকারের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

‘আট দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে’
টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জলফৈ মোড়ে আয়োজিত পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ছয় দফা আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।’ এরপর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এই লড়াই কোনো দলের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম বা বিরতি নেই বলেও জানান তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এর মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নাই, বিরতি নাই।’

‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায় কেন সম্মান করলেন না’
টাঙ্গাইলের পথসভায় বিএনপি সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্মান করলেন না?’ তিনি অভিযোগ করেন, কোনো জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে শাসন করতে দেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকার জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন ‘কার্ড’ চায়নি; জনগণ যে বিষয়গুলো চেয়েছিল, সেগুলোই সরকার দিতে পারেনি। এর আগে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। জনগণের দাবির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে—এমন বার্তাও দেন তিনি।

‘১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি’
ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে তাঁদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে এই কর্মসূচি।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল, কিন্তু সরকার সেই রায় অগ্রাহ্য করেছে। তাঁর দাবি, জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত করতেই হবে।

তারেক রহমানকে ‘যাওয়ার পথ’ বেছে নেওয়ার কথা বললেন নাহিদ ইসলাম
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হবে।’

এরশাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সরকার গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনসহ বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে জনগণের অধিকার হরণের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলে যারা ছিলেন
টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ মোড়ের পথসভায় শফিকুর রহমানের সঙ্গে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদ। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা
এর আগে সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে ডা.শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

আট দফায় যা আছে
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে।

যমুনা সেতু পার ৪৩০–৪৫০ গাড়ি
টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। যমুনা সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে মূল বহরটি সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এরপর বিভিন্ন লেন দিয়ে গাড়িগুলো সেতু পার হতে থাকে। দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত মূল বহরের গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যায়। মূল বহরের আগে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গাড়ি এবং মূল বহর চলে যাওয়ার পরও লংমার্চের স্টিকারযুক্ত কিছু গাড়ি সেতু পার হয়। সব মিলিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

এম/এএইচ

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে নতুন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে নতুন দাবি

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল কার্যকর ও প্রজ্ঞাপন জারির পর বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের আয় একই থাকলে তাদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় জারি করা আদেশ অনুযায়ী, নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ইনক্রিমেন্টসহ পুরো বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের মজুরি নিয়েও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার প্রভাব বাজারে পড়বে। এতে শ্রমিকদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি চা, চামড়া, টেক্সটাইলসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের জন্য জাতীয়ভাবে ৩৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি করেন। চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিনও নতুন পে-স্কেলকে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গার্মেন্টস খাতে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সে হিসাবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পুনরায় মজুরি বৃদ্ধির সময় হলেও এখনো নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়নি।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের আয়-বৈষম্য কমাতে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিসি-ওসির পর গুলশানের এডিসিকেও সরানো হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
ডিসি-ওসির পর গুলশানের এডিসিকেও সরানো হলো

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পর এবার গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আমিনুল হক বাপ্পীকে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

চার এডিসির দায়িত্বে রদবদল

একই অফিস আদেশে ডিএমপির চারজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ডিএমপির ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালিসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলামকে মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফারজিনা নাসরিনকে গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

গুলশানে মিছিলের পর ধারাবাহিক বদলি

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এরপর পর্যায়ক্রমে গুলশান বিভাগের ডিসি, ওসি এবং এবার এডিসিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

কালের আলো/এমএসআইপি