খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রমোশনের সমীকরণে খালেদের ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
প্রমোশনের সমীকরণে খালেদের ঝড়

কাউন্টি ক্রিকেটে আবারও আলো ছড়াল বাংলাদেশের পেস। দল যখন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, সামনে যখন প্রমোশনের হাতছানি—ঠিক তখনই বল হাতে জ্বলে উঠলেন খালেদ আহমেদ। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বাংলাদেশি পেসার।

ক্যান্টারবুরিতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে খালেদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামিয়েছেন ম্যাট মিলনেসও। তাঁর ৪ উইকেটের সঙ্গে খালেদের ৩ উইকেটে মাত্র ২২৯ রানেই গুটিয়ে যায় গ্লুচেস্টারশায়ার।

তবে এই ম্যাচে খালেদের ৩ উইকেটের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্টের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমোশন-সমীকরণের অংশ। আর সেই সমীকরণে প্রথম দিনেই বড় সুবিধা করে নিয়েছে দলটি।

১১০ ওভারের আগেই অলআউট, মিলল গুরুত্বপূর্ণ বোনাস

গ্লুচেস্টারশায়ারকে মাত্র ৬৯.৫ ওভারে অলআউট করেছে কেন্ট। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ১১০ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারলে বোলিংয়ে ৩ বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়।

প্রমোশনের লড়াইয়ে থাকা কেন্টের জন্য এই অতিরিক্ত ৩ পয়েন্ট শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমের শেষ ম্যাচে এসে প্রতিটি পয়েন্টই যখন টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে, তখন খালেদদের দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।

গ্লুচেস্টারশায়ারের ইনিংস দ্রুত শেষ করার পেছনে খালেদের অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট

খালেদ এ ম্যাচে আউট করেছেন দারুশ আহমেদ, সাই কিশোর ও চে সিমন্সকে। এর মধ্যে দারুশ ও সাই কিশোরকে ফিরিয়েছেন টানা দুই ওভারে। পরপর দুই ওভারে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে গ্লুচেস্টারশায়ারের মিডল অর্ডারে চাপ তৈরি করেন তিনি। পরে সেই চাপ কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে ফেলে কেন্ট। শেষ পর্যন্ত ২২৯ রানে অলআউট হয় গ্লুচেস্টারশায়ার। কেন্টের হয়ে ম্যাট মিলনেস নেন ৪ উইকেট, আর খালেদের শিকার ৩ উইকেট।

বাংলাদেশি এই পেসারের জন্য এটিও ছিল আরেকটি কার্যকর পারফরম্যান্স। এর আগের ম্যাচেই কেন্টের হয়ে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ফলে টানা দুই ম্যাচে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন খালেদ।

কেন্টের সামনে এখন প্রমোশনের দরজা

এই ম্যাচটি কেন্টের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাদের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। প্রথম বিভাগে ওঠার সমীকরণও বেশ পরিষ্কার—এই ম্যাচে জয় পেলেই প্রমোশন নিশ্চিত করবে কেন্ট। বর্তমানে ১৯৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দলটি। তাদের ঠিক পেছনে রয়েছে নর্দাম্পটনশায়ার, যাদের পয়েন্ট ১৯১। অর্থাৎ ব্যবধান মাত্র ৪ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচে কেন্টের প্রতিটি রান, উইকেট এবং বোনাস পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পয়েন্ট সমান হয়ে গেলেও কেন্ট এগিয়ে থাকবে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের কারণে। চলতি মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের চেয়ে কেন্টের জয় দুটি বেশি। তাই শেষ পর্যন্ত দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে জয়সংখ্যার হিসাবেই প্রমোশন নিশ্চিত হতে পারে কেন্টের।

প্রথম দিনেই কেন্টের দাপট

শুধু বোলিংয়েই নয়, প্রথম দিনের শেষে ব্যাট হাতেও ভালো অবস্থানে রয়েছে কেন্ট। গ্লুচেস্টারশায়ারকে ২২৯ রানে অলআউট করার পর দিনের খেলা শেষে কেন্টের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭১ রান। অর্থাৎ হাতে রয়েছে ৯ উইকেট, আর প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসের রানও পেরিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে দলটি। ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে কেন্ট যে অবস্থান তৈরি করেছে, তাতে প্রমোশনের লড়াইয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ার কথা।

অন্যদিকে একই সময়ে নর্দাম্পটনশায়ারের অবস্থা বেশ কঠিন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে তারা। জবাবে মিডলসেক্স প্রথম ইনিংসে তুলেছে ২৫৫ রান। ফলে ইতোমধ্যেই ১৫২ রানের লিড পেয়েছে মিডলসেক্স। নর্দাম্পটনশায়ারের এই পরিস্থিতি কেন্টের জন্য সমীকরণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

হাসানের পর এবার খালেদের আলো

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য কাউন্টি ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়টা বেশ ইতিবাচক। কেন্টের হয়েই এর আগে হাসান মাহমুদ বল হাতে নজর কেড়েছিলেন। এবার সেই দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খালেদ আহমেদ।

খালেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও তাকে কেন্টের বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে। আগের ম্যাচে ৮ উইকেট নেওয়ার পর এবার প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট—দুই ম্যাচে বল হাতে তার কার্যকারিতাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেন্টের প্রমোশন-স্বপ্ন এখন অনেকটাই নিজেদের হাতে। শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রথম বিভাগে ওঠার পথ খুলে যাবে তাদের সামনে।

আর সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই খালেদ আহমেদের ৩ উইকেট ও কেন্টের বোলিং আক্রমণের দাপট দলকে এনে দিয়েছে মূল্যবান সুবিধা। মৌসুমের শেষ ম্যাচে প্রমোশন নিশ্চিত করার অপেক্ষায় থাকা কেন্টের জন্য তাই প্রথম দিনের গল্পটা বেশ আশাব্যঞ্জক—আর সেই গল্পের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ।

কালের আলো/জেএন

দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন বাড়িঘর-ফসলি জমি, হুমকিতে আরও ৫০ পরিবার

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন বাড়িঘর-ফসলি জমি, হুমকিতে আরও ৫০ পরিবার

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে বাড়িঘর, বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি। বারবার নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদীর ৭০টি অরক্ষিত পয়েন্টে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাণিয়াপাড়া গ্রামে গত এক বছরে নদীভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনেই নদীগর্ভে চলে গেছে আরও সাতটি বাড়ি। বর্তমানে নদীতীরের প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

বারবার সরাতে হচ্ছে ঘর

ভুক্তভোগীরা জানান, সময়-অসময়ে নদীর পাড় ধসে বাড়িঘর ও বসতভিটা ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে বারবার বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, কয়েকবার তার বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। পরিবার নিয়ে এখনো স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই পাননি। দেনা করে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে বর্তমানে প্রতিবেশীর জায়গায় ঘর করে বসবাস করছেন।

জিও ব্যাগেও থামছে না ভাঙন

ভাঙন ঠেকাতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক পরিবার বসতভিটা হারাবে।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ বারবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। নতুন জায়গা কেনা, বাড়িঘর নির্মাণ, নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারগুলো সরকারি বা বেসরকারিভাবে তেমন কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কারকৃত ডিপিপির কাজ বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নাটোরের কাঁচাগোল্লা। স্বাদ ও ঐতিহ্যের কারণে দেশজুড়ে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭তম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তবে জিআই স্বীকৃতির পরও এই মিষ্টির মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এ সুযোগে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি ভেজাল মিষ্টিকে কাঁচাগোল্লা নামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের কার্যক্রম মূলত বছরে এক দিনের উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় কাঁচাগোল্লার নামে নিম্নমানের মিষ্টি বাজারজাত করছেন। বিশেষ করে নাটোর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন পরিবহনে ময়দার তৈরি লাড্ডুকে কাঁচাগোল্লা হিসেবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত কাঁচাগোল্লার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস

জনশ্রুতি অনুযায়ী, সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাটোরের লালবাজারে মধুসূদন পালের দোকানে কাঁচাগোল্লার উৎপত্তি। ১৭৫৭ সাল থেকে এটি ব্যাপক পরিচিতি পেতে শুরু করে। একদিন কারিগর না আসায় বিপুল পরিমাণ ছানা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চিনির রসে বেশি সময় জ্বাল দেওয়ার পর ভিন্ন স্বাদের যে মিষ্টি তৈরি হয়, সেখান থেকেই কাঁচাগোল্লার প্রচলন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

কাঁচা ছানা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর নাম হয় ‘কাঁচাগোল্লা’। প্রচলিত গোলাকার মিষ্টির মতো দেখতে না হলেও ঝরঝরে ও হালকা রসাল হওয়াই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রানী ভবানীর শাসনামলে নাটোরের এই মিষ্টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাজপরিবারের অতিথিদেরও কাঁচাগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো বলে জানা যায়।

কমছে বিক্রি, বাড়ছে ভেজালের অভিযোগ

ঐতিহ্যবাহী জয়কালী বাড়ি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী রবীন্দ্র নাথ কুন্ডু বলেন, ‘১৯৮০ সাল থেকে আমি দোকানে বসছি। একসময় আমরা প্রতিদিন কয়েক মণ মিষ্টি বিক্রি করেছি। এখন দিনে এক মণও হয় না। মানসম্পন্ন কারিগরের অভাব এবং বাজারের বর্তমান অবস্থায় আমরা শুধু বাপ-দাদার আমলের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকৃত কাঁচাগোল্লার সঙ্গে নিম্নমানের মিষ্টির পার্থক্য না জানায় অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পণ্যটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

জড়িত শত শত পরিবার

কাঁচাগোল্লাকে ঘিরে নাটোরের স্থানীয় অর্থনীতিতেও রয়েছে বড় ধরনের কর্মসংস্থান। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার কেজি কাঁচাগোল্লা বিক্রি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

নিচাবাজারের মৌচাক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, লালবাজারের জয়কালী বাড়ি এবং নাটোর রেলস্টেশনের ঘোষ মিষ্টান্ন দোকানে কাঁচাগোল্লার বেচাকেনা বেশি। খামারি ও দুধ বিক্রেতা থেকে শুরু করে ছানা প্রস্তুতকারী, কারিগর, দোকানি ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শত শত পরিবার যুক্ত।

রপ্তানির উদ্যোগ নেই

দেশজুড়ে পরিচিতি থাকলেও কাঁচাগোল্লাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়া কিংবা বিদেশে রপ্তানির জন্য এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

নাটোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নাফ বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের দেশে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এগিয়ে না এলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি উদ্যোগে এটি সম্ভব নয়। রপ্তানিমুখী বাজারজাত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচাগোল্লার ঐতিহ্য ও মান ধরে রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ কারিগর তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিআই পণ্যের স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাঁচাগোল্লা উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদেরও নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাহার গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. রাসেল বলেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় চিকিৎসা নিতে নানা ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে।

বামরাইল ইউনিয়নের মুন্ডুপাশা গ্রামের রাফিয়া বলেন, রোগী বেশি থাকায় হাসপাতালে চাপ দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. ওয়াসিমও জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত মলি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

তিনি জানান, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খাবার ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল, শয্যা, ওষুধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি