খুঁজুন
                               
, ,
           

মাটির ঘরে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের সুখ-দুঃখের স্মৃতি

সখিপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
মাটির ঘরে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের সুখ-দুঃখের স্মৃতি

একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি জনপদেই দেখা মিলত মাটির ঘরের। পুরু মাটির দেয়াল, খড় বা টিনের ছাউনি আর মাটির লেপ দেওয়া উঠান—সব মিলিয়ে এসব ঘর ছিল গ্রামীণ জীবনের চেনা প্রতিচ্ছবি। ঈদের আগে ঘর লেপাপোছা ও নতুন করে সাজানোর মধ্যেও ছিল আলাদা আনন্দ। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় টিনের ঘর ও পাকা ভবনের বিস্তারে সখীপুরের গ্রামাঞ্চল থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো হাতে গোনা কিছু মাটির ঘর টিকে আছে। এসব ঘর কোথাও বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার কোথাও পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অনেক পরিবারের কাছে এসব ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও পারিবারিক আবেগের অংশ।

গজারিয়া ইউনিয়নের পাথারপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সি আনোয়ারা খাতুন এখনো স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির ঘরে বসবাস করছেন। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ঘরটি তার ঠিকানা। প্রায় দুই দশক আগে স্বামী মারা গেলেও তিনি ঘরটি ছেড়ে যাননি। জীবনের দীর্ঘ সময়ের সুখ-দুঃখের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই ঘরের সঙ্গে।

হতেয়া রাজাবাড়ী ইউনিয়নের হতেয়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সি আনোয়ারা বেগমের জীবনও একইভাবে মাটির ঘরকে ঘিরে। স্বামী রমিজ উদ্দিন মারা যাওয়ার এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুরোনো ঘরেই কাটছে তার জীবনের শেষ সময়। মেয়ে নাজমা আক্তারের ভাষায়, ‘মাটির ঘরটি শুধু আমাদের বসতবাড়ি নয়, এটি মায়ের জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গী।’

করুটিয়াপাড়া, হতেয়া, পাথারপুর, কচুয়া, বড়চওনা, ছোট মৌশাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় বাপ-দাদার তৈরি এসব ঘরেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করত। পুরু মাটির দেয়ালের কারণে গরমের সময় ঘরের ভেতর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকত। কোথাও কোথাও দুইতলা মাটির ঘরও তৈরি করা হতো, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘কোঠা ঘর’ নামে পরিচিত ছিল।

মাটির ঘর নির্মাণেও ছিল নিজস্ব ঐতিহ্য। মাটির সঙ্গে তুষ ও চুনা মিশিয়ে কাঠের খুঁটির ওপর স্তরে স্তরে মাটি লেপে দেয়াল তৈরি করা হতো। সময়ের সঙ্গে সেই নির্মাণকৌশলও হারিয়ে যেতে বসেছে।

পাথারপুর গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকেই আমাদের বাড়িতে মাটির ঘর ছিল। এখন আমরা টিনের ঘরে থাকি। আমার মা এখনো মাটির ঘরেই থাকেন। বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতেই ঘরটি ভাঙিনি।’

ছোট মৌশা গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবা-মাকে মাটির ঘরে থাকতে দেখেছি। পরিবারের সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতি এই ঘরকে ঘিরে। ঈদের আগে মা-বাবা ঘরটি নতুন করে লেপে দিতেন। ঘরটিও যেন ঈদের সঙ্গে নতুন প্রাণ ফিরে পেত।’

সখীপুর সরকারি কলেজের ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মাটির ঘরের সম্পর্ক ছিল গভীর। একসময় টিনের ঘর ও দালানকোঠার প্রচলন না থাকায় মানুষ মাটির ঘরেই বসবাস করত। বর্তমানে এসব ঘর কমে গেলেও কোথাও কোথাও এখনো মানুষ বসবাস করছেন এবং তাদের জীবনের নানা স্মৃতি এসব ঘরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

আধুনিকতার চাপে মাটির ঘরের সংখ্যা কমে গেলেও সখীপুরে টিকে থাকা অল্প কিছু ঘর এখনো গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে। মাটি, তুষ ও চুনে তৈরি এসব স্থাপনা যেন হারিয়ে যাওয়া এক জীবনধারা, পারিবারিক স্মৃতি ও শেকড়ের নীরব গল্প বহন করে চলেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদেরও নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাহার গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. রাসেল বলেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় চিকিৎসা নিতে নানা ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে।

বামরাইল ইউনিয়নের মুন্ডুপাশা গ্রামের রাফিয়া বলেন, রোগী বেশি থাকায় হাসপাতালে চাপ দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. ওয়াসিমও জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত মলি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

তিনি জানান, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খাবার ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল, শয্যা, ওষুধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে, বদলে যাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে, বদলে যাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে কিছু অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে চিঠি দিয়ে প্রকল্পটিকে সংস্থাটির ‘ইন্টেগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে ‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব’ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বড় যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনার সুবিধা, দ্রুত উড়োজাহাজ ওঠানামা, আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক, রেল ও এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে, দ্রুত বের হওয়ার ট্যাক্সিওয়ে, বড় উড়োজাহাজের জন্য ৬ থেকে ৮টি পার্কিং স্ট্যান্ড এবং প্রায় ৬টি বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে বছরে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সক্ষমতা দেড় কোটি থেকে ২ কোটি যাত্রীতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্গো ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সময়ে তা ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত কার্গো হাবে বন্ডেড গুদাম, এক্সপ্রেস কার্গো, ই-কমার্স সুবিধা, হিমাগার ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন হয়েছিল ৯ লাখ ৭৭ হাজার। ২০২৫ সালেও এ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য ঢাকায় নিয়ে সেখান থেকে উড়োজাহাজে বিদেশে পাঠাতে হয়।

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড, কোল্ড চেইন হাব এবং মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আছিফ চৌধুরী বলেন, শাহ আমানতকে কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে লাউঞ্জ, চেকিং কাউন্টার ও কার্গো ভিলেজের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ফুয়েল হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সচল থাকে। এটিকে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রমোশনের সমীকরণে খালেদের ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
প্রমোশনের সমীকরণে খালেদের ঝড়

কাউন্টি ক্রিকেটে আবারও আলো ছড়াল বাংলাদেশের পেস। দল যখন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, সামনে যখন প্রমোশনের হাতছানি—ঠিক তখনই বল হাতে জ্বলে উঠলেন খালেদ আহমেদ। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বাংলাদেশি পেসার।

ক্যান্টারবুরিতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে খালেদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামিয়েছেন ম্যাট মিলনেসও। তাঁর ৪ উইকেটের সঙ্গে খালেদের ৩ উইকেটে মাত্র ২২৯ রানেই গুটিয়ে যায় গ্লুচেস্টারশায়ার।

তবে এই ম্যাচে খালেদের ৩ উইকেটের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্টের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমোশন-সমীকরণের অংশ। আর সেই সমীকরণে প্রথম দিনেই বড় সুবিধা করে নিয়েছে দলটি।

১১০ ওভারের আগেই অলআউট, মিলল গুরুত্বপূর্ণ বোনাস

গ্লুচেস্টারশায়ারকে মাত্র ৬৯.৫ ওভারে অলআউট করেছে কেন্ট। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ১১০ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারলে বোলিংয়ে ৩ বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়।

প্রমোশনের লড়াইয়ে থাকা কেন্টের জন্য এই অতিরিক্ত ৩ পয়েন্ট শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমের শেষ ম্যাচে এসে প্রতিটি পয়েন্টই যখন টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে, তখন খালেদদের দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।

গ্লুচেস্টারশায়ারের ইনিংস দ্রুত শেষ করার পেছনে খালেদের অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট

খালেদ এ ম্যাচে আউট করেছেন দারুশ আহমেদ, সাই কিশোর ও চে সিমন্সকে। এর মধ্যে দারুশ ও সাই কিশোরকে ফিরিয়েছেন টানা দুই ওভারে। পরপর দুই ওভারে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে গ্লুচেস্টারশায়ারের মিডল অর্ডারে চাপ তৈরি করেন তিনি। পরে সেই চাপ কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে ফেলে কেন্ট। শেষ পর্যন্ত ২২৯ রানে অলআউট হয় গ্লুচেস্টারশায়ার। কেন্টের হয়ে ম্যাট মিলনেস নেন ৪ উইকেট, আর খালেদের শিকার ৩ উইকেট।

বাংলাদেশি এই পেসারের জন্য এটিও ছিল আরেকটি কার্যকর পারফরম্যান্স। এর আগের ম্যাচেই কেন্টের হয়ে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ফলে টানা দুই ম্যাচে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন খালেদ।

কেন্টের সামনে এখন প্রমোশনের দরজা

এই ম্যাচটি কেন্টের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাদের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। প্রথম বিভাগে ওঠার সমীকরণও বেশ পরিষ্কার—এই ম্যাচে জয় পেলেই প্রমোশন নিশ্চিত করবে কেন্ট। বর্তমানে ১৯৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দলটি। তাদের ঠিক পেছনে রয়েছে নর্দাম্পটনশায়ার, যাদের পয়েন্ট ১৯১। অর্থাৎ ব্যবধান মাত্র ৪ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচে কেন্টের প্রতিটি রান, উইকেট এবং বোনাস পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পয়েন্ট সমান হয়ে গেলেও কেন্ট এগিয়ে থাকবে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের কারণে। চলতি মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের চেয়ে কেন্টের জয় দুটি বেশি। তাই শেষ পর্যন্ত দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে জয়সংখ্যার হিসাবেই প্রমোশন নিশ্চিত হতে পারে কেন্টের।

প্রথম দিনেই কেন্টের দাপট

শুধু বোলিংয়েই নয়, প্রথম দিনের শেষে ব্যাট হাতেও ভালো অবস্থানে রয়েছে কেন্ট। গ্লুচেস্টারশায়ারকে ২২৯ রানে অলআউট করার পর দিনের খেলা শেষে কেন্টের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭১ রান। অর্থাৎ হাতে রয়েছে ৯ উইকেট, আর প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসের রানও পেরিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে দলটি। ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে কেন্ট যে অবস্থান তৈরি করেছে, তাতে প্রমোশনের লড়াইয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ার কথা।

অন্যদিকে একই সময়ে নর্দাম্পটনশায়ারের অবস্থা বেশ কঠিন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে তারা। জবাবে মিডলসেক্স প্রথম ইনিংসে তুলেছে ২৫৫ রান। ফলে ইতোমধ্যেই ১৫২ রানের লিড পেয়েছে মিডলসেক্স। নর্দাম্পটনশায়ারের এই পরিস্থিতি কেন্টের জন্য সমীকরণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

হাসানের পর এবার খালেদের আলো

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য কাউন্টি ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়টা বেশ ইতিবাচক। কেন্টের হয়েই এর আগে হাসান মাহমুদ বল হাতে নজর কেড়েছিলেন। এবার সেই দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খালেদ আহমেদ।

খালেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও তাকে কেন্টের বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে। আগের ম্যাচে ৮ উইকেট নেওয়ার পর এবার প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট—দুই ম্যাচে বল হাতে তার কার্যকারিতাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেন্টের প্রমোশন-স্বপ্ন এখন অনেকটাই নিজেদের হাতে। শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রথম বিভাগে ওঠার পথ খুলে যাবে তাদের সামনে।

আর সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই খালেদ আহমেদের ৩ উইকেট ও কেন্টের বোলিং আক্রমণের দাপট দলকে এনে দিয়েছে মূল্যবান সুবিধা। মৌসুমের শেষ ম্যাচে প্রমোশন নিশ্চিত করার অপেক্ষায় থাকা কেন্টের জন্য তাই প্রথম দিনের গল্পটা বেশ আশাব্যঞ্জক—আর সেই গল্পের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ।

কালের আলো/জেএন