খুঁজুন
                               
, ,
           

অসুস্থ পশু জবাই বন্ধে জোর দাবি, দৌলতপুরে ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ পশু জবাই বন্ধে জোর দাবি, দৌলতপুরে ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৪৭ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই অসুস্থ গবাদি পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি কিংবা ধোয়ামোছার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

উপজেলার গাছেরদিয়াড় গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, পাশের বাড়ির একটি অসুস্থ গরু জবাইয়ের সময় মাংস কাটাকাটি ও ধোয়ামোছার কাজ করেছিলেন। কয়েক দিন পর তার হাত ও আঙুলে গুটি ও ফোসকা দেখা দেয়, যা পরে কালো ক্ষতে পরিণত হয়। জ্বর ও শরীর ব্যথা বাড়লে তিনি দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগে সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামকে অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এমদাদুল হক টোটন বলেন, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্সের রোগী পাওয়া যায়, তবে সম্প্রতি সংক্রমণের মাত্রা বেড়েছে। তিনি অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং শরীরে গুটি, ফোসকা বা কালো ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় গবাদি পশুর টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, অসুস্থ পশু গোপনে জবাই ও বিক্রির প্রবণতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা বাজার ও গ্রামাঞ্চলে অসুস্থ পশু জবাই এবং মাংস বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, অসুস্থ পশু জবাই ও বিক্রি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, ওসি প্রত্যাহার

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টার থেকে জারি করা এক কার্যালয় আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, শাহ আলী থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরের সদর সপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন।

পরে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা নিশ্চিত করতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখল বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখল বাংলাদেশ

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক আমদানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) মার্কিন পোশাক আমদানির বাজার সংকুচিত হলেও মে মাসে বাংলাদেশের রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ইউএস অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে এ রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

তবে মে মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাঁচ মাসে বাংলাদেশ মোট ১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন স্কয়ার মিটার ইক্যুইভ্যালেন্ট (এসএমই) পোশাক রফতানি করেছে।

এদিকে মার্কিন শুল্কনীতি ও সোর্সিং বহুমুখীকরণের কারণে চীনের পোশাক রফতানিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। জানুয়ারি-মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রফতানি প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

মার্কিন বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনামও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। দেশটির পোশাক রফতানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার রফতানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের পোশাক রফতানি কমেছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের প্রতি এসএমই গড় মূল্য ২ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ইউনিট মূল্যের দিক থেকে বাংলাদেশ চীন, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে ভিয়েতনাম, ভারত ও মেক্সিকোর তুলনায় বাংলাদেশের ইউনিট মূল্য কিছুটা কম।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন থেকে সরে যাওয়া ক্রয়াদেশের একটি অংশ বাংলাদেশ পেলেও প্রতিযোগী দেশগুলোও দ্রুত বাজার দখল করছে। বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা ও মূল্যচাপ এখনো বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লিড টাইম ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা গেলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আরও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মে মাসের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখা এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জীবনের ১২৩ বসন্ত পেরিয়েও চশমা ছাড়াই কোরআন পাঠ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
জীবনের ১২৩ বসন্ত পেরিয়েও চশমা ছাড়াই কোরআন পাঠ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের প্রবীণ আব্বাস প্রামাণিক। ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। এ বয়সের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘ জীবনে তিনি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল ও ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক সময় প্রত্যক্ষ করেছেন।

বয়সের ভারে শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লেও এখনও তার দৃষ্টিশক্তি ভালো। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১২৩ বছর বয়সেও তিনি চশমা ছাড়াই খালি চোখে কোরআন শরীফ পড়তে পারেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিস্ময়ের।

আব্বাস প্রামাণিকের বাড়ি উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। কর্মজীবনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলের বাবা আব্বাস একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আব্বাস প্রামাণিক বরাবরই সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন। বিলাসিতা তার পছন্দ ছিল না। দীর্ঘ জীবনে তিনি বেশিরভাগ সময় পায়ে হেঁটেই চলাচল করেছেন। গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনে চড়াকে তিনি বিলাসিতা মনে করতেন। তার পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল।

বর্তমানে বয়সের কারণে তার চলাফেরা সীমিত। একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করলেও নাতি ও নাতি-বউয়েরা নিয়মিত তার দেখাশোনা করেন। চোখে ভালো দেখলেও কানে কম শোনেন তিনি। শত বছরের পুরোনো অনেক স্মৃতিও এখন আর স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন না।

নাতি শিফকুল ইসলাম বলেন, ভোটার আইডি কার্ডে দাদার বয়স ১২৩ বছর উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত বয়স আরও বেশি বলে তারা মনে করেন। তার ভাষ্য, দাদা কখনো বিলাসিতা পছন্দ করেননি এবং সবসময় সৎ ও সাধারণ জীবনযাপন করেছেন।

মেয়ে আলিমা বেগম জানান, পাঁচ বছর বয়সে তিনি মাকে হারান এবং বাবার কাছেই বড় হয়েছেন। বাবাকে কখনো কারও প্রতি অন্যায় করতে দেখেননি। বর্তমানে ভাইয়ের ছেলেদের কাছেই তার বাবা থাকেন। সুযোগ পেলেই তিনি বাবাকে দেখতে যান এবং পছন্দের খাবার নিয়ে যান। তার দাবি, এত বয়সেও বাবা চশমা ছাড়াই কোরআন শরীফ পড়েন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমদা আফেরাজ জানান, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার একজন প্রবীণ বাসিন্দা। বয়সের কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছে। তার চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খুবিজপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি