খুঁজুন
                               
, ,
           

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আকাশসীমা জটিলতায় আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী প্লেন

কালের আলো ডেস্ক, সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
আকাশসীমা জটিলতায় আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী প্লেন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো বিমান নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারেনি। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি আসেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটির ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ বিস্তারিত জানতে পারেনি। ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কর্মকর্তারাও বিমানটির অপেক্ষায় ছিলেন। পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতার বিষয়টি জানান।

তবে কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ বিমানটির আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে রোসাটমের কাছে জানতে চেয়েছে এএনআই। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত রোসাটমের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিট

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে।

দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

সেবার রাশিয়া থেকে ভারী কার্গো বিমানে করে জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী কনটেইনারে করে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়েছিল এবং সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সিডরের ক্ষত শুকায়নি, জোয়ারে ফের ভাঙছে আমতলীর বাঁধ

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
সিডরের ক্ষত শুকায়নি, জোয়ারে ফের ভাঙছে আমতলীর বাঁধ

বরগুনার আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বারবার বাঁধের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বাঁধটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। ফলে সামান্য জোয়ারেই পানি বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও ব্লক সরে গিয়ে নদীর দিকে ভাঙন এগিয়ে যাচ্ছে।

বাঁধসংলগ্ন এক ব্যবসায়ী বলেন, জোয়ারের পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের জায়গাটুকুও নেই। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন না প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িক মেরামত নয়, ভবিষ্যৎ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁধটির টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন ‘সর্বজনীন আবাসন’ নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, ভালো সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। এ অবস্থায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়নের পরিকল্পনা

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে ঢাকার আশপাশে ‘সেকেন্ডারি টাউনশিপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর গড়ে তুলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে।

আবাসন খাতে বেসরকারি অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অচিরেই ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন এবং দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে স্কুলের সড়ক-সেতু

বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে স্কুলের সড়ক-সেতু

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে গত দুই বছরে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শুধু মিয়ারচর নয়, আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণাংশের বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নদীতীরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে এরই মধ্যে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই জায়গাটিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন তিনি অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

মিয়ারচরের ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা অলিল বেপারি বলেন, নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন চলছে। বিভিন্ন সরকার ভাঙন রোধের কথা বললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুরা খালে তীব্র স্রোতের কারণে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লার খাল এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়কও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনকবলিত অন্য এলাকাগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে। মিয়ারচরে নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানেও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, আড়িয়াল খাঁ ও পালরদী নদীর ভাঙন রোধে টেকসই ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি