খুঁজুন
                               
, ,
           

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন ‘সর্বজনীন আবাসন’ নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, ভালো সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। এ অবস্থায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়নের পরিকল্পনা

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে ঢাকার আশপাশে ‘সেকেন্ডারি টাউনশিপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর গড়ে তুলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে।

আবাসন খাতে বেসরকারি অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অচিরেই ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন এবং দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইতিহাস গড়ে প্রথম আসিয়ান কাপ ইন্দোনেশিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ে প্রথম আসিয়ান কাপ ইন্দোনেশিয়ার

১২০ মিনিটের টানটান লড়াই, বারবার ম্যাচের মোড় বদল এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে দারুণ এক ফাইনালের সাক্ষী হলো ফিফা আসিয়ান কাপ। থাইল্যান্ডকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।

নিজেদের ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের এই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলই করেছে একটি করে গোল। এরপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে হয়েছে আরও দুটি গোল। ১২০ মিনিট শেষে ম্যাচ ২-২ সমতায় থাকায় শেষ পর্যন্ত শিরোপার নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে।

৯০ মিনিটে সমানে সমান

শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে প্রথম ৮০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। ডিন জেমসের নেওয়া শট থাইল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্বাগতিক সমর্থকেরা।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পরই সমতায় ফিরে থাইল্যান্ড। সেকস্যান রাত্রের অ্যাসিস্ট থেকে ইকলাস সানরন গোল করে ম্যাচে ফেরান থাইল্যান্ডকে। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।

অতিরিক্ত সময়ে আরও নাটক

৯০ মিনিটে ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও এক মুহূর্তের জন্য উত্তেজনা কমেনি।

১১১ মিনিটে অ্যানের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন পিরাডল চামরাসামি। তাঁর গোলে আবারও এগিয়ে যায় থাইল্যান্ড। তখন শিরোপা জয়ের খুব কাছে চলে যায় দলটি।

তবে হাল ছাড়েনি ইন্দোনেশিয়া। মাত্র চার মিনিট পরই ম্যাচে আবার সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। এলকান বাগোতের গোল ইন্দোনেশিয়াকে নতুন করে স্বপ্ন দেখায়।

অতিরিক্ত সময়ের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১২০ মিনিট শেষে ম্যাচের ফল দাঁড়ায় ২-২।

টাইব্রেকারে ইন্দোনেশিয়ার বাজিমাত

এরপর শুরু হয় শিরোপা নির্ধারণের টাইব্রেকার। প্রথম দুই শটে দুই দলই গোল করে। ফলে তখনও লড়াই ছিল সমানে সমান। তবে তৃতীয় শটে গিয়ে পার্থক্য গড়ে দেয় ইন্দোনেশিয়া। স্বাগতিকদের তৃতীয় ও চতুর্থ শট জালে জড়ায়। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের তৃতীয় শট বারে লেগে ফিরে আসে।

চতুর্থ শটে গোল করার সুযোগ থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার গোলরক্ষক এমিল অদেরোর দুর্দান্ত সেভে থাইল্যান্ডের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাতেই শিরোপার পাল্লা পুরোপুরি ইন্দোনেশিয়ার দিকে হেলে পড়ে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে ইতিহাসের প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপের শিরোপা জিতে উল্লাসে মেতে ওঠে ইন্দোনেশিয়া। ১২০ মিনিটের নাটকীয় লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে পাওয়া এই জয় শুধু একটি শিরোপাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে লিখে দিল নতুন এক অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বড় হার বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বড় হার বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে কুইন্সল্যান্ড ফায়ারের কাছে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৭২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ওভার ও লক্ষ্য কমিয়ে আনা হলে ৩৬ ওভারে বাংলাদেশের সামনে ২৬৯ রানের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায়। জবাবে ৭ উইকেটে ১৯৬ রান করতে পারে বাংলাদেশ।

কুইন্সল্যান্ডের বড় সংগ্রহ

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৩৬ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৬ রান সংগ্রহ করে কুইন্সল্যান্ড ফায়ার। দলের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন শার্লি নট ও গ্রেস হ্যারিস। নট মাত্র ৬৪ বলে ৯৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ প্রদর্শন। হ্যারিস ৫০ বলে করেন ৭৬ রান। ওপেনার লরেন উইনফিল্ড-হিলের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৪৮ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাবিবা ইসলাম পিংকি। ৭ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। মারুফা আক্তার ২টি এবং নাহিদা আক্তার ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

সুপ্তার লড়াইও কাজে আসেনি

বৃষ্টির পর বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৬ ওভারে ২৬৯ রান। রান তাড়ায় শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। ৬৭ বলের ইনিংসে লড়াই চালিয়ে গেলেও দলকে জয়ের কাছাকাছি নিতে পারেননি তিনি।

সোবহানা মোস্তারি ৫৪ বলে ৪৯ এবং শারমিন সুলতানা ৪০ বলে ২৮ রান করেন। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ব্যাট হাতে কোনো অবদান রাখতে পারেননি। মাত্র ৩ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন তিনি।

কুইন্সল্যান্ডের বোলিংয়ে হ্যানকক সফল

কুইন্সল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নিকোলা হ্যানকক। ৭ ওভারে ৫১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। লিলি ব্যাসিংথওয়াইট, ফিলিপা সুসি ও গ্রেস হ্যারিস একটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মূল সিরিজের আগে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।  ৯ অক্টোবর ব্রিসবেনে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

কালের আলো/এসএ

 

বিশ্বাসের আড়ালে প্রতারণা? যে আচরণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
বিশ্বাসের আড়ালে প্রতারণা? যে আচরণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন

সব প্রতারণা শুরু হয় না মিথ্যা দিয়ে—কখনো কখনো শুরুটা হয় অতিরিক্ত ভালোবাসা, অস্বাভাবিক প্রশংসা কিংবা খুব দ্রুত আপন হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। যে মানুষটিকে নিজের সবচেয়ে কাছের মনে হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে দেখা যেতে পারে তিনিই ধীরে ধীরে আপনার আস্থা, আবেগ কিংবা দুর্বলতাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবার কিংবা কর্মক্ষেত্র—সম্পর্কের ধরন আলাদা হলেও এই ধরনের আচরণের কিছু সতর্কসংকেত প্রায় একই রকম হতে পারে।

তবে একটি আচরণ দেখেই কাউকে প্রতারক বা অসৎ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মানুষের আচরণের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু একই ধরনের কিছু আচরণ যদি বারবার ঘটতে থাকে এবং তা আপনার স্বাধীনতা, অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা মানসিক স্বস্তির ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

শুরুতেই অতিরিক্ত প্রশংসা, উদ্দেশ্য কী?

নতুন সম্পর্কের শুরুতে স্বাভাবিক প্রশংসা থাকতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি অল্প সময়ের মধ্যেই আপনাকে অস্বাভাবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চান, অতিরিক্ত আবেগ দেখান কিংবা দ্রুত গভীর আস্থা তৈরি করতে চান, তাহলে কিছুটা সময় নিয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করা ভালো।

অতিরিক্ত প্রশংসা সবসময় প্রতারণার লক্ষণ নয়। তবে কখনো কখনো দ্রুত বিশ্বাস অর্জনের কৌশল হিসেবেও এমন আচরণ ব্যবহার করা হতে পারে।

কথায় মিল নেই, বারবার বদলাচ্ছে গল্প

একদিন এক কথা, পরদিন আরেক কথা—এমন আচরণ নিয়মিত হলে সেটি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে যদি কেউ বারবার তথ্য পরিবর্তন করেন, গুরুত্বপূর্ণ অংশ এড়িয়ে যান কিংবা নিজের সুবিধা অনুযায়ী ঘটনার ব্যাখ্যা পাল্টান, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে কথার সঙ্গে কাজের বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

প্রয়োজন ফুরালেই বদলে যায় সম্পর্ক

কেউ প্রয়োজনের সময় আপনাকে খুব কাছের মানুষ হিসেবে দেখালেন, কিন্তু প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হতে পারে।

অর্থ ধার নেওয়া, কোনো সুবিধা আদায়, পরিচিতির মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়া কিংবা অন্য কোনো স্বার্থে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রবণতা থাকলে সম্পর্কটির প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার।

আপনজনদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা

একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতগুলোর একটি হতে পারে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরির চেষ্টা।

কেউ যদি নিয়মিত আপনার পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ কমাতে চাপ দেন কিংবা আপনাকে বোঝাতে চান যে ‘আপনার একমাত্র ভরসা তিনিই’, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

প্রতিশ্রুতি অনেক, বাস্তবায়ন নেই

একবার কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারা মানুষের স্বাভাবিক ভুল হতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা যদি বারবার ঘটে এবং প্রতিবারই নতুন অজুহাত সামনে আসে, তখন সেটিকে শুধু ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।

বিশেষ করে বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওই ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত কি সবসময় গুরুত্বহীন?

সম্পর্কে দুজনের প্রয়োজন ও মতামতের গুরুত্ব থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু একজনের ইচ্ছাই যদি সবসময় প্রাধান্য পায় এবং আপনার সিদ্ধান্ত, প্রয়োজন কিংবা সীমারেখাকে বারবার উপেক্ষা করা হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে ভাবার কারণ আছে।

আপনাকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে, কোনো সেবায় টাকা খরচ করতে কিংবা আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়াও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অংশ হতে পারে।

নিজের ভুলের দায় নেন না কখনো

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু কেউ যদি নিজের ভুলের দায় কখনোই স্বীকার না করেন এবং প্রতিটি সমস্যার জন্য অন্য ব্যক্তি কিংবা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন, তাহলে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

এ ধরনের আচরণে নিজের ভুল সংশোধনের বদলে পরিস্থিতিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা যায়, যাতে শেষ পর্যন্ত দায়টা অন্য কারও ওপর গিয়ে পড়ে।

নিজের স্মৃতি নিয়েই সন্দেহে ফেলছেন?

আরেকটি গুরুতর সতর্কসংকেত হলো এমন আচরণ, যার ফলে আপনি নিজের দেখা ঘটনা, স্মৃতি কিংবা অনুভূতি নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করেন।

আপনি কোনো ঘটনা স্পষ্টভাবে মনে রাখলেও অন্য ব্যক্তি যদি বারবার বলেন, ‘এমন কিছু ঘটেনি’ কিংবা আপনার অনুভূতিকে ‘অতিরিক্ত ভাবনা’ বলে উড়িয়ে দেন, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

দীর্ঘদিন এমন আচরণের মুখোমুখি হলে একজন মানুষ নিজের বিচারবোধ নিয়েই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারেন। মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের আচরণের একটি রূপকে ‘গ্যাসলাইটিং’ বলা হয়।

একটি লক্ষণ নয়, ধারাবাহিকতাই গুরুত্বপূর্ণ

কারও মধ্যে এসব আচরণের একটি দেখা গেলেই তাকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। ব্যক্তিত্ব, পরিস্থিতি ও সম্পর্কের ধরন অনুযায়ী একই আচরণের ভিন্ন ব্যাখ্যাও থাকতে পারে।

তবে একই ব্যক্তির মধ্যে যদি বারবার মিথ্যা বলা, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং আপনার নিজের সিদ্ধান্ত বা স্মৃতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো আচরণ দেখা যায়, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কী করবেন, কোথায় সতর্ক হবেন?

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেগের বশে বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে সম্পর্কের সীমারেখা স্পষ্ট করা জরুরি। প্রয়োজন হলে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

বিশেষ করে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড, নথি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কাউকে শুধু বিশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা নিরাপদ।

সম্পর্কে বিশ্বাস যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের বিচারবোধ ও সীমারেখার প্রতিও আস্থা রাখা জরুরি। কারণ প্রতারণা সবসময় বড় কোনো ঘটনায় ধরা পড়ে না—অনেক সময় ছোট ছোট অসঙ্গতিই প্রথমে বড় সতর্কবার্তা হয়ে আসে।

কালের আলো/জেএন