খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্যাফে-ওয়াকওয়ে-নজরুল মঞ্চে সাজবে ধানমন্ডি লেক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
ক্যাফে-ওয়াকওয়ে-নজরুল মঞ্চে সাজবে ধানমন্ডি লেক

রাজধানীর ধানমন্ডি লেককে আধুনিক ও নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্ল্যাশ উত্তোলন ও অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডির ৩/এ-তে ‘ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

থাকবে ক্যাফে ও আধুনিক ওয়াকওয়ে

শেখ রবিউল আলম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডি লেকে ক্যাফে, নতুন ওয়াকওয়ে এবং নাগরিকদের অবসর ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে।

একটি আধুনিক লেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তার সবই এখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শুধু ধানমন্ডিবাসী নয়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মানুষও বিনোদনের সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হতে চলায় তিনি আনন্দিত। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি লেকের পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিষ্কার হবে তলদেশ, সংস্কার হবে সাইডওয়াল

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা থাকলেও কাজটি গুছিয়ে আনতে সময় লেগেছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্ল্যাশ পরিষ্কার করা হবে। এরপর পানি পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সাইডওয়াল সংস্কার, বিদ্যমান ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, গাছপালার সৌন্দর্যবর্ধন এবং উন্নত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

শিশুদের জন্য থাকবে স্পিডবোট

ধানমন্ডি লেকে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

তিনি বলেন, লেকে মাছ রয়েছে এবং বর্তমানে পানি মাছ মারা যাওয়ার মতো অতটা দূষিত নয়। তবে লেকটি যেন বারবার দূষিত না হয়, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ও সচেতনতা জরুরি।

হবে ‘নজরুল মঞ্চ’

ধানমন্ডি লেককে ঘিরে পুরো এলাকার সৌন্দর্য ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাস্তা, ফুটপাত ও লাইটিংসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ‘নজরুল মঞ্চ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি লাইব্রেরি, ক্যাফে ও পড়াশোনার সুযোগ থাকবে।

রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ধানমন্ডি লেককেও ঢাকাবাসীর জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রশাসক।

আজ থেকেই শুরু উন্নয়নকাজ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নকাজ মঙ্গলবার থেকেই শুরু হবে। এ কাজে ধানমন্ডিবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ধানমন্ডির পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই লেকে আসেন। তাই সবার জন্য সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করাই উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিদায়ী ম্যাচে প্রথমবার বেনিনের মুখোমুখি মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
বিদায়ী ম্যাচে প্রথমবার বেনিনের মুখোমুখি মেসি

জাতীয় দলের জার্সিতে , বুধবার (৭ অক্টোবর) শেষবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ বেনিন—এ তথ্যও এখন সবার জানা। তবে এই ম্যাচে রয়েছে আরও একটি বিশেষত্ব। দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎ।

বিশ্বকাপ না খেলা বেনিনের সামনে মেসি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিন এখনো ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পায়নি। ফিফা র‍্যাংকিংয়েও দলটির অবস্থান ৯৩তম। এবার দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে বেনিন।

এর আগে আর্জেন্টিনা ও বেনিন কখনো মুখোমুখি হয়নি। ফলে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকায় ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরীক্ষা হতে পারে।

তবে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক রেকর্ড আশাবাদী করছে সমর্থকদের। আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবশেষ ৩১ ম্যাচে ২৪টিতেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এই সময়ে হার ৪টি এবং ড্র হয়েছে ৩ ম্যাচে।

শেষ অনুশীলন সেরে প্রস্তুত মেসি

বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মেসি। শেষ ট্রেনিং সেশনও সম্পন্ন করেছেন তিনি।

অনুশীলনের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মেসি লিখেছেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি খুব মিস করবো।’

জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেসির জন্য তাই বেনিন ম্যাচটি হয়ে উঠেছে বিশেষ আবেগের।

জয়ের ধারায় আর্জেন্টিনা

চলমান ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে এটি আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ। আগের দুই ম্যাচে মেসিকে ছাড়াই দুর্দান্ত জয় পেয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।

বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে এবং বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে একাধিকবার বল পাঠালেও কোনো গোল হজম করেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বেনিনের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় আর্জেন্টিনা। আর দুই দলের ইতিহাসের প্রথম সাক্ষাৎটি যে মেসির জাতীয় দল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে স্মৃতিতে থেকে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তথ্যসূত্র: আইএন

কালের আলো/এসএ

ঋতু পরিবর্তনে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি, ঘরেই নিন জরুরি প্রস্তুতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ঋতু পরিবর্তনে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি, ঘরেই নিন জরুরি প্রস্তুতি

সকালে হালকা ঠান্ডা বাতাস, দুপুর গড়াতেই তীব্র গরম। সন্ধ্যার পর আবার কিছুটা স্বস্তি। আবহাওয়ার এমন ওঠানামার মধ্যেই চারপাশে বাড়ছে জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীর যখন নতুন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু।

শীতের আগমনে এখনো কিছুটা সময় বাকি। তবে তার আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হলে অনেকটাই কমানো সম্ভব এই রোগের ঝুঁকি। আর সেই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হতে পারে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম লড়াই বাড়ির আঙিনায়

ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ভেতরে কিংবা আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ফুলের টব ও টবের নিচের প্লেট, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত বোতল, নারকেলের খোসা কিংবা পুরনো টায়ার—ছোট-বড় যেকোনো পাত্রেই জমতে পারে পানি। আর সেই জমে থাকা পানিই হয়ে উঠতে পারে এডিস মশার প্রজননস্থল।

তাই সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ভেতর-বাইরে ভালোভাবে নজর দেওয়া জরুরি। কোথাও পানি জমে থাকলে তা ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি পাত্রটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

শুধু পানি ফেলে দিলেই কি ঝুঁকি শেষ?

এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। কোনো পাত্রে জমে থাকা পানি ফেলে দিলেই এডিস মশার প্রজনন বন্ধ নাও হতে পারে। কারণ পাত্রের গায়ে মশার ডিম লেগে থাকতে পারে।

তাই পানি ফেলার পর পাত্রের ভেতরের অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব পাত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না, সেগুলোর দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে।

রাত নয়, দিনের মশাও বিপজ্জনক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এডিস মশা শুধু রাতে কামড়ায় না। দিনের বেলাতেও এ মশা সক্রিয় থাকে। ফলে রাতে মশারি ব্যবহার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

বাইরে বের হলে শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখা, ঘরের দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশু কিংবা অসুস্থ কেউ দিনের বেলায় ঘুমালে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস করাও নিরাপদ।

জ্বরকে ‘সিজন পরিবর্তনের জ্বর’ ভেবে অবহেলা নয়

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে জ্বর হলেই অনেকে সেটিকে সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু ডেঙ্গুর মৌসুমে এমন ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে।

ডেঙ্গুতে সাধারণত জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জোড়ায় ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকেও রাখতে হবে মশারির মধ্যে

ডেঙ্গু শনাক্ত হলে শুধু রোগীর চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়, আশপাশের মানুষকেও সুরক্ষিত রাখা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে দূরে রাখতে হবে।

কারণ কোনো এডিস মশা ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর অন্য মানুষকে কামড়ালে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রোগীর বিশ্রামের জায়গায় মশারি ব্যবহার এবং মশার কামড় এড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ঋতু বদল থামানো যাবে না, ঝুঁকি কমানো যাবে

আবহাওয়ার পরিবর্তন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সকালে ঠান্ডা, দুপুরে গরম কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি—প্রকৃতির এই পরিবর্তন চলতেই থাকবে। কিন্তু ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং জ্বর হলে দ্রুত সচেতন হওয়া—এই কয়েকটি অভ্যাসই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে বড় সুরক্ষা তৈরি করতে পারে।

তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশন বা মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর ছেড়ে না দিয়ে শুরু হোক নিজের ঘর থেকেই।

কালের আলো/জেএন

বিশ্বকাপজয়ী হারমানপ্রীত ছাড়লেন অধিনায়কত্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপজয়ী হারমানপ্রীত ছাড়লেন অধিনায়কত্ব

ভারত নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর। গত বছর ঘরের মাঠে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ভারত। এবার একসঙ্গে তিন সংস্করণ—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—থেকেই নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হারমানপ্রীত। তাঁর নেতৃত্বে ভারতের হয়ে ৫টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে ও ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ভারতীয় নারী দল।

এশিয়ান গেমসেই শেষ দায়িত্ব

সেপ্টেম্বর মাসে নিশিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে ভারতকে টানা দ্বিতীয়বার সোনা জেতানোই ছিল অধিনায়ক হিসেবে হারমানপ্রীতের শেষ দায়িত্ব। এরপর নারী দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন হারমানপ্রীত, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও প্রধান কোচ অমল মজুমদার।

সেই বৈঠকের এক দিন পরই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন হারমানপ্রীত।

‘এটি সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়’

অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে আবেগঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন হারমানপ্রীত। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ ও অসংখ্য মুহূর্ত জড়িয়ে রয়েছে।

অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলেও জানান হারমানপ্রীত। তাঁর ভাষ্য, সব সিদ্ধান্ত সবাই বুঝতে পারেনি, আবার সব সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ ছিল না। তবে দলের উন্নতি এবং সতীর্থদের নিজেদের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

নেতৃত্ব ছাড়ার সময় নিজের মধ্যে শান্তি অনুভব করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভারতীয় নারী দল এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং দলে প্রতিভা, চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস—সবই আছে।

২০১২ সালে শুরু নেতৃত্বের যাত্রা

২০১২ সালে প্রথমবার ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব করেন হারমানপ্রীত। তবে ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর স্থায়ীভাবে নেতৃত্বের জন্য বিবেচিত হতে শুরু করেন তিনি।

২০১৮ সালে মিতালি রাজের কাছ থেকে পূর্ণকালীন অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ভারত। এরপর ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে রানার্সআপ হয় দল।

সবশেষ ২০২৫সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে ভারত নারী দল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের অধিনায়ক ছিলেন হারমানপ্রীত।

সামনে স্মৃতি মান্ধানা?

বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় নারী দলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার গ্রুপ পর্ব থেকে ভারতের বিদায়ের পর বিষয়টি আরও জোরালো হয়।

হারমানপ্রীতের জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। গত ছয় মাসে সুযোগ পেলে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন ভারতের এই তারকা ওপেনার।

নেতৃত্বের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন মান্ধানা। তাঁর নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০২৪ ও ২০২৬ সালে দুটি উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) শিরোপা জিতেছে।

হারমানপ্রীত ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক পর্যন্ত ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিন সংস্করণেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিসিসিআই 

কালের আলো/এসএ