খুঁজুন
                               
, ,
           

জামাতা গ্রেফতার নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
জামাতা গ্রেফতার নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপি

কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর তার জামাতা মিজানুর রহমানের গ্রেফতার এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে তার কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতারের পর এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন আব্দুল গফুর।

বিবৃতিতে সংসদ সদস্য দাবি করেন, মিজানুর রহমানকে তার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেফতারের যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। তার ভাষ্য, ঢাকার মাটিকাটায় মিজানুর রহমানের কোনো ব্যক্তিগত বাসা নেই; তিনি সরকারি বরাদ্দের ‘ন্যাম ভবনে’ থাকেন।

আব্দুল গফুর বলেন, মিজানুর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়। এর সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। একইভাবে এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীরও কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমানের ব্যবসায়িক বিরোধের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে মিজানুর রহমানের পাওনা টাকা বকেয়া থাকায় তিনি তা আদায়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থানায় মামলা করেন।

সংসদ সদস্যের দাবি, মামলার পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাল্টা মামলা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ওই মামলা খারিজ হয়ে যায়।

সম্প্রতি নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজের আবাসনে ভাঙচুরের ঘটনাতেও মিজানুর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে দাবি করেন আব্দুল গফুর। তার অভিযোগ, বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ‘সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের’ আশ্রয় নিয়েছেন।

বিবৃতিতে আব্দুল গফুর আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে তাকে ও জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় এবং দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে সোমবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ বছর বয়সী মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ শঙ্কায় বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ শঙ্কায় বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৯১ ডলারে উঠেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭২ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহনে এই জলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বা নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে এই পথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তেল সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এতে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে বাড়তে পারে চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হয় এবং এর প্রভাব জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা পড়ে—তার ওপর তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৫০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৫০

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। হামলার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উদ্ধারকারীরা আরও কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এবং স্থানীয় এক ত্রাণকর্মী।

সোমবার কিয়াউকতাও শহরে চালানো ওই বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আরাকান আর্মি। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অংও হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে নারী-শিশুও

মঙ্গলবার উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির মাধ্যমে জানিয়েছেন ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং।

হামলার পর ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলতে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলার মাধ্যমে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল, আবাসিক ভবন এবং বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এর আগে জানিয়েছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন করে।

দীর্ঘ হচ্ছে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অন্যান্য বিদ্রোহী সংগঠন লড়াই করছে। রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে আরাকান আর্মিরও।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি আরাকান আর্মির

বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা। তিনি বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ওপর এই হামলার সঙ্গে জড়িত সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে তাদের হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করবে আরাকান আর্মি।

কিয়াউকতাওয়ের এই বিমান হামলাকে রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে একটি হাসপাতালে বোমা হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল।

রাখাইনে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বঙ্গভবনে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বঙ্গভবনে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বঙ্গভবনে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি ভাষণটিকে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক বলে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি