খুঁজুন
                               
, ,
           

ধান ছেড়ে মাচায় তরমুজ চাষ, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন আতিয়ারের

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
ধান ছেড়ে মাচায় তরমুজ চাষ, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন আতিয়ারের

প্রচলিত ধান চাষের বাইরে গিয়ে মাচায় অসময়ের তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার কৃষক আতিয়ার রহমান। প্রথমবার ৪০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে খরচ বাদ দিয়েও লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। ভালো ফলন ও বাজারদর পেয়ে আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করছেন এই কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের একটি জমিতে মাচাজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে সারি সারি তরমুজ। স্থানীয় কৃষি অফিসের প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেন আতিয়ার রহমান। উচ্চ তাপমাত্রা ও বৃষ্টি সহনশীল ‘বেঙ্গল টাইগার’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি।

কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, বীজ বপন থেকে শুরু করে তরমুজ সংগ্রহ পর্যন্ত তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মাত্র ৭০ দিনের মধ্যেই তিনি ফলন পেতে শুরু করেন।

বর্তমানে প্রতি মণ তরমুজ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। প্রথম দফায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনো প্রচুর তরমুজ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রির পরিমাণ দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন আতিয়ার।

তিনি বলেন, ধান চাষের তুলনায় তরমুজে লাভ অনেক বেশি। প্রথমবারেই ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করতে চান তিনি।

তরমুজ বিক্রি নিয়েও কোনো দুশ্চিন্তা নেই কৃষকের। জমি থেকেই পাইকাররা তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ঝামেলাও কমেছে।

স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, আতিয়ারের তরমুজখেতে কাজ করে এলাকার কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য কৃষকরাও মাচায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, মাচায় তরমুজ চাষে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের এ ধরনের ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আতিয়ারের সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পানি নিয়ে আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইন বাংলাদেশের ভিত্তি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
পানি নিয়ে আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইন বাংলাদেশের ভিত্তি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রত্যাশা করছে সরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, পানি বণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।

দুই দেশের পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের কাছে প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।

ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই এ ধরনের বিষয়গুলোর সমাধান করতে হবে।

পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থানও বাংলাদেশের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিযান, শেষ পর্যন্ত কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিযান, শেষ পর্যন্ত কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর মধ্যেই সক্রিয় হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’। জোটের প্রথম জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠেছে পাকিস্তানকে ঘিরে—ইসলামাবাদ কি শুধু সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধীরে ধীরে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে?

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী আপাতত সহায়ক ও প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও তুরস্কের বাহিনী রিকনেসান্সসহ বিভিন্ন সহায়ক কাজে যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনে মূল লড়াই করছে সৌদি বাহিনী।

প্রথমবার কার্যকর হলো ‘মক্কা চুক্তি’

গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৫ অক্টোবর রিয়াদে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চুক্তিটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জোটের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন মেনে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাহিনীর আকার কিংবা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, হুতিদের হামলা এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে জোটের কাঠামোর মধ্যে থেকে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে।

পাকিস্তানের ভূমিকা কতটা?

জরুরি বৈঠকের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যে সৌদিতে তাদের ভূমিকা পালন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের বাহিনী সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং রিকনেসান্সসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছে। তবে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই মূলত সৌদি বাহিনীই পরিচালনা করছে।

এ বক্তব্য থেকেই আপাতত পাকিস্তানের অবস্থান অনেকটা স্পষ্ট—ইসলামাবাদ সৌদি আরবকে রক্ষায় পাশে থাকতে চায়, কিন্তু ইয়েমেনের মাটিতে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে।

তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, সৌদি আরবের অভিযান যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা ইয়েমেনে স্থলভাগে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়, তখন পাকিস্তানের পক্ষে এই সীমারেখা কতটা বজায় রাখা সম্ভব হবে?

সৌদিতে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়

সৌদি আরবে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি বহু পুরোনো। ১৯৬৭ সাল থেকেই পাকিস্তান সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা প্রেষণের বিষয়টি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান বড় ধরনের সামরিক দল পাঠিয়েছিল।

এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—এক দেশের ওপর হামলাকে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।

এ বছর এপ্রিলেও সৌদি আরব নিশ্চিত করে যে পাকিস্তানের একটি সামরিক বহর, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান রয়েছে, দেশটির কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে সৌদিতে ঠিক কত পাকিস্তানি সেনা রয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

পাকিস্তান কি ইয়েমেনে হামলায় অংশ নেবে?

এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। সৌদি আরব ইতোমধ্যে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পাল্টা অভিযানে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর লক্ষ্যও এখন শুধু সাম্প্রতিক সময়ে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে সীমাবদ্ধ নেই। তারা রাজধানী সানা পুনর্দখলের কথাও বলছে। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। কারণ সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করা আর ইয়েমেনের ভেতরে ঢুকে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা—দুটি একেবারেই ভিন্ন সামরিক অবস্থান।

পাকিস্তানের সামনে ইরানের সতর্কবার্তা

পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। তেহরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, ইয়েমেনে নতুন করে কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানি সেনারা যদি সৌদি ভূখণ্ড, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটি এক বিষয়। কিন্তু হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিলে সেটিকে তেহরান ভিন্নভাবে দেখতে পারে।

অর্থাৎ পাকিস্তানের জন্য সীমারেখাটি খুব স্পষ্ট—সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা নাকি ইয়েমেনে আক্রমণ।

কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে পাকিস্তান?

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান সম্ভবত বিশাল স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিবর্তে বিশেষায়িত সামরিক সক্ষমতা দিয়ে সৌদিকে সহায়তা করতে পারে।

এর মধ্যে থাকতে পারে—আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, যুদ্ধক্ষেত্রের যোগাযোগব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট, বিশেষায়িত সামরিক দল।

এ ধরনের সহায়তা পাকিস্তানকে সৌদি প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে, একই সঙ্গে ইয়েমেনের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম রাখবে।

তুরস্কের ভূমিকাও এখনও সীমিত

মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কও রয়েছে। তবে আঙ্কারার সামরিক ভূমিকা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তুরস্কের পক্ষ থেকে সৌদিকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে চুক্তিটি তুর্কি পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে তুরস্কের অংশগ্রহণও আপাতত সরাসরি স্থলযুদ্ধের বদলে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে।

সৌদি আরব আসলে কী চায়?

বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ আপাতত এমন একটি অভিযান চায়, যার মাধ্যমে হুতিদের হামলা ঠেকিয়ে সৌদি ভূখণ্ডে আবারও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করা যায়।

কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি সৌদি নেতৃত্ব হুতিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে কিংবা সানা পুনর্দখলের মতো বড় লক্ষ্য নেয়।

কারণ সে ক্ষেত্রে অভিযান স্বল্পমেয়াদি না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আর তখন পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো মিত্রদের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়বে।

তাহলে কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

এই মুহূর্তে পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে প্রবেশের ঘোষণা দেয়নি। বরং ইসলামাবাদ বারবার তাদের ভূমিকা ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে তুলে ধরছে।

তবে সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়লে, ইয়েমেনে অভিযান দীর্ঘ হলে কিংবা সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার সংজ্ঞা যদি আরও বিস্তৃত হয়—তাহলে পাকিস্তানের জন্য সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আর এখানেই সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও সামরিক পরীক্ষা ইসলামাবাদের।

একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে ইয়েমেন সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, প্রশ্নটা এখন শুধু পাকিস্তান যুদ্ধে জড়াবে কি না—তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, সৌদি আরবকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান ঠিক কোথায় নিজের সামরিক সীমারেখা টানবে।

কালের আলো/জেএন

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাঁচ মাস ধরে বন্ধ ৩ নলকূপ; বিপাকে কৃষক

জয়পুরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাঁচ মাস ধরে বন্ধ ৩ নলকূপ; বিপাকে কৃষক

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লাগার পর বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বিদ্যুৎ সংযোগ। এরপর প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠের তিনটি গভীর নলকূপ। এতে সেচের অভাবে ওই তিনটি স্কিমের প্রায় ৫০০ বিঘা আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষক ও গভীর নলকূপ মালিকদের অভিযোগ, সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি তারা। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে বলেই সময় পার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের অনেক জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। কোথাও ধানের গোছা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সেচের জন্য স্থাপিত তিনটি গভীর নলকূপও বন্ধ পড়ে আছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা এখন আমন ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমে বৃষ্টির ওপর ধানের আবাদ অনেকটা নির্ভরশীল। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু ওই মাঠের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির প্রধান সেচের উৎস তিনটি গভীর নলকূপ বন্ধ থাকায় কৃষকেরা সময়মতো পানি দিতে পারছেন না।

চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, সেচ দিতে না পারায় জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানও শুকিয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে এসে সেচের ব্যবস্থা না হলে তাঁর পুরো বিনিয়োগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, ধানের জমিতে এখন পানি খুব প্রয়োজন। নলকূপ বন্ধ থাকায় সময়মতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। আরও কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি চললে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে।

মাঠের গভীর নলকূপ মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ দিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি খুঁটিতে আগুন লাগে। ওই লাইন থেকেই তাঁর দুটি এবং পাশের আরেকটি স্কিমের গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। আগুন লাগার পর তিনটি নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, গত জুন মাসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বিএমডিএ কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। আবার বিএমডিএ কার্যালয়ে গেলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এভাবে দুই দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতেই প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন আমন ধানে সেচ দেওয়ার সময়। প্রায় ৫০০ বিঘা জমি এই তিনটি নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পানি না পাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আজই জানতে পেরেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। কৃষি বিভাগ সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করবে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।

বিএমডিএর আক্কেলপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মনসুর আলী সরদার বলেন, ঘটনাটি তিনি দুই দিন আগে জেনেছেন। এরপর গভীর নলকূপগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। সংযোগ চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রহমান সরকার বলেন, ইরি মৌসুমের শেষ দিকে নলকূপ মালিকরা একটি অভিযোগ দিয়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে তারা আর যোগাযোগ করেননি। সম্প্রতি আবার অফিসে আসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট থেকে একটি কাঠের খুঁটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি