খুঁজুন
                               
, ,
           

এনসিটিতে বিশ্বসেরা অপারেটরে বাড়বে সক্ষমতা, বন্দরেও নতুন সম্ভাবনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
এনসিটিতে বিশ্বসেরা অপারেটরে বাড়বে সক্ষমতা, বন্দরেও নতুন সম্ভাবনা

চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আরও প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্রে পরিণত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব যাওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি। ব্যবসায়ী নেতাদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা কমবে, আমদানি-রপ্তানিতে গতি আসবে এবং বন্দরের সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হবে।

  • ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগে আধুনিকায়নের আশা
  • ১৫ বছরের চুক্তি; গতিশীল হবে আমদানি-রপ্তানি
  • ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কমবে দীর্ঘসূত্রতা ও পরিচালনাগত জটিলতা

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটরের আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাজে লাগানো গেলে বন্দরের পরিচালনাগত জটিলতা কমবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। তবে সম্ভাব্য সুফল পেতে বিনিয়োগের বাস্তবায়ন, মাশুলের যৌক্তিকতা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং চুক্তির শর্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগ, বাড়বে সক্ষমতা
চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালের আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিনিয়োগের লক্ষ্য হলো কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম আরও দক্ষ করা, পরিচালনব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা এবং সেবার মান উন্নত করা।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে এ বন্দরের কার্যক্রমে সামান্য দক্ষতা বৃদ্ধিও সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসার ব্যয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এনসিটির সক্ষমতা বাড়লে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো, দ্রুত কনটেইনার খালাস এবং পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও হিমায়িত খাদ্যের মতো রপ্তানিমুখী খাতের জন্য সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতা কমলে রপ্তানিকারকদের সরবরাহব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে শুধু যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আধুনিক করলেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না। কাস্টমস, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কার্যক্রমেও সমন্বয় প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতার সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের স্বাগত, কমবে হয়রানির প্রত্যাশা
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা চালু হলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, পরিচালনাগত জটিলতা এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একজন ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক হিসেবে তিনি এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত। তাঁর আশা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনায় রপ্তানিতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং বন্দরে হয়রানি ও ঘুষের প্রবণতা হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডও এনসিটির কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে বলে তিনি আশা করেন। এতে আমদানি-রপ্তানিতে গতি আসার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।

চুক্তির বিরোধিতাকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ নেওয়া উচিত। যৌক্তিক দাবি থাকলে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্থাপন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সহযোগিতা করতে পারে। তবে অযথা বিরোধিতা করে উদ্যোগটি বাধাগ্রস্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহও সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিচালন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বন্দরের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দর খাতে অন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরদের বিনিয়োগের আগ্রহও তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বার ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত পরিচালক এবং বাদশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আলম বাদশার মতে, ডিপি ওয়ার্ল্ড যুক্ত হওয়ায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ পরিচালনব্যবস্থা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, এতে বন্দরের পরিচালনাগত জটিলতা ও অনিয়ম কমবে এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

বাংলাদেশ নন-প্যাকার্স ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রানাও মনে করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে কনটেইনার খালাস ও জাহাজীকরণ নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের ভাবমূর্তি এবং ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বখ্যাত অপারেটর যুক্ত হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশন নিশ্চিত করা গেলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়বে এবং জাহাজের বন্দরে অবস্থানের সময় কমবে।

চুক্তিতে অগ্রিম ফি ও রাজস্বের হিসাব
চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি দেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ অর্থের ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার আগে পরিশোধ করার কথা।

প্রকাশিত চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কনটেইনার হ্যান্ডলিং থেকে অর্জিত আয়ের ৬৭ শতাংশ পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। চুক্তিতে বছরে কমপক্ষে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এ ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউতে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।

এই আর্থিক কাঠামো বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রকৃত আর্থিক সুফল নির্ভর করবে কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ, পরিচালন ব্যয়, নির্ধারিত মাশুল এবং বিনিয়োগের কার্যকারিতার ওপর। চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চার্জ নিয়ে প্রশ্ন, সুফল পৌঁছাতে হবে ব্যবসায়ীদের কাছে
বিদেশি অপারেটরের অভিজ্ঞতা থেকে সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও ব্যবসার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিল্পোদ্যোক্তাদের কেউ কেউ। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ ও পেশাদার অপারেটর প্রয়োজন। এতে সময় ও ব্যবসার খরচ কমার কথা। তবে চার্জ ৪১ শতাংশ বাড়ানো হলে ব্যয় কমানোর লক্ষ্য কীভাবে অর্জিত হবে, সে প্রশ্নও রয়েছে।

তাঁর বক্তব্যে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবার মূল্য নির্ধারণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। পরিচালনব্যবস্থার উন্নতির সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাতে হলে মাশুল যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা জরুরি। চার্জ বৃদ্ধির দাবিটির ভিত্তি এবং কোন কোন সেবায় তা প্রযোজ্য, তা চুক্তির নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষায় নজর
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার পর শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এ চুক্তির কারণে বন্দরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন না। বরং আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের ফলে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বন্দরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাঁর মতে, কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হলে জনবলের প্রয়োজনও তৈরি হতে পারে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিদ্যমান কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নতুন পরিচালনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে কর্মীদের নিয়োগ, দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধায় কী পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ার ওপর। তাই কর্মসংস্থান সুরক্ষায় ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জরুরি।

মালিকানা বাংলাদেশের, পরিচালনায় বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা
বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এনসিটির জমি, জেটি ও মূল সম্পদের মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির আওতায় টার্মিনাল পরিচালনা করবে। ফলে পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরকে বন্দরের মালিকানা হস্তান্তরের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা, তদারকি ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিচালনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সেবার মান পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ার সুযোগ
ডিপি ওয়ার্ল্ড এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন বন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত জেবেল আলি বন্দর প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনকেন্দ্র। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিভিন্ন বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায়ও যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে স্থানীয় অবকাঠামো, কাস্টমস কার্যক্রম, সড়ক ও নৌপরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের অন্তর্ভুক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিনিয়োগের যথাযথ বাস্তবায়ন, সেবার মান উন্নয়ন, যৌক্তিক মাশুল, শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং চুক্তির শর্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বন্দরের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই হবে এই চুক্তির প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বদলে গেছে যোগাযোগব্যবস্থা। চিঠির বদলে এখন মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বার্তা। সরকারি সেবাও ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অথচ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরে এখনো চলছে উল্টো চিত্র। মাটি ও ধানের তুষে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরেই অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলছে ডাকসেবা। টিনের চালায় ছিদ্র, ভাঙা দরজা-জানালা আর স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই সংরক্ষণ করতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ও দাপ্তরিক নথি।

শুধু অবকাঠামোর সংকটই নয়, ডিজিটাল সেবার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় এক দশক পরও এখানে নেই কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ। কাগজে-কলমে ই-পোস্ট সেন্টার হলেও বাস্তবে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। অথচ আশপাশের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকার মানুষের ডাকসেবার অন্যতম ভরসা এই ছোট্ট ঘরটি।

স্থানীয় ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য সারওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের পূর্বপুরুষদের মৌখিক অনুমতিতে তাদের একটি টিনের চালার মাটির ঘরে ডাকঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কেটে গেছে কয়েক দশক। কিন্তু ডাকঘরটির জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্থায়ী সরকারি ভবন। পুরোনো ঘরটিরও উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি।

বর্তমানে সরকারহাটের পাশে অবস্থিত এই ডাকঘরটির আয়তন মাত্র ১০ বাই ১২ ফুট। ছোট্ট এই কক্ষেই চিঠিপত্র গ্রহণ, বাছাই ও বিতরণের কাজ চলে। ডাকঘরটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন—পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ আমির হোসেন এবং চিঠি বিলিকারক মিজানুর রহমান।

সরকারিভাবে অফিসের জন্য বরাদ্দ রয়েছে তিনটি চেয়ার ও একটি টেবিল। রেজিস্টার খাতা, কলম, কাগজসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ১৫ টাকা। ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাকঘরটির টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতরের কাগজপত্র ও আসবাব ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষায় ব্যবহার করতে হয় পলিথিন। দরজা-জানালাও ভাঙাচোরা। দেয়ালের নিচের অংশ থেকে ধানের তুষের প্রলেপ খসে পড়ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পুরো ঘরটির অবস্থা এমন হয়েছে যে বাইরে থেকে দেখলে একে পরিত্যক্ত স্থাপনা বলে মনে হতে পারে।

ঘরটির দুর্বল কাঠামো নিয়ে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ডাকসেবা চালু রাখা যেমন কঠিন, তেমনি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, ছাদের টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব রয়েছে, আর দরজা-জানালায় ধরেছে ঘুণ। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে মেরামতের খরচও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। মাসে ১৫ টাকার বরাদ্দ দিয়ে প্রয়োজনীয় কলম ও কাগজ কেনাই কঠিন।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই মাটির ঘরটির উন্নয়ন সম্ভব। এতে শুধু ডাকসেবার পরিবেশই ভালো হবে না, বরং দেশের ডাকব্যবস্থার ইতিহাসের একটি পুরোনো নিদর্শনও সংরক্ষণ করা যাবে।

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে গেলেও তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডাকঘরের রেজিস্টার খাতার তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২২ কর্মদিবসে এই কেন্দ্র থেকে ৩২৪টি চিঠি বিলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্টার্ড চিঠি ৩০৩টি এবং সাধারণ চিঠি ২১টি।

বিলি করা চিঠির বেশির ভাগই সরকারি ও চাকরিসংক্রান্ত। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা এখন একেবারেই কম। তবু সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকঘরটির গুরুত্ব রয়ে গেছে।

আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও স্থানীয় মানুষের কাছে এই ডাকঘর তাই কেবল পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি সেবাকেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

২০১৭ সালে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরকে ‘ই-পোস্ট সেন্টার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে ডাকসেবায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কাগজে-কলমে থাকা এই স্বীকৃতি বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আনোয়ারা উপজেলার ১৩টি ডাকঘর ও উপ-ডাকঘরকে ই-পোস্ট সেন্টার ঘোষণা করা হয়। তবে এসব কেন্দ্রে শুরু থেকে কার্যকরভাবে ডিজিটাল সেবা চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ডাকঘর ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা পোস্টমাস্টার ছৈয়দুল কায়ছার বলেন, তিনি চলতি বছর এখানে যোগদান করেছেন। তাই এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

পটিয়া উপ-বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কম্পিউটার, ইন্টারনেট, প্রিন্টারসহ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি থাকার কথা। তবে এসব যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে ডাকঘরটিকে রক্ষা করতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে জমি ও বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগ।

পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, ভবন নির্মাণ মূলত বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। রাস্তার পাশে তিন শতক জমি দাতা পাওয়া গেলে ডাক বিভাগের কাছে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডাকসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জমি, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ওপর।

একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, অন্যদিকে মাটির ঘরে বৃষ্টির পানি ঠেকিয়ে ডাকসেবা চালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা—তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘর যেন সেই বৈপরীত্যেরই প্রতিচ্ছবি। কয়েক দশক ধরে মানুষের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য এখন জরুরি নিরাপদ ভবন, কার্যকর ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত পরিচালন ব্যয়। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই ডাকঘরের সেবা অব্যাহত রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের একাধিক চলাচল। বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কোথাও বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।

বিক্ষোভের আগেই আটক নেতারা

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছান সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি ১০ অক্টোবর, সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন।

বিমান থেকে নামার আগেই সিজেপির নেতারা ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। ওই ভিডিওতে পুলিশ ও নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। লাইভে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হব জেনেই আমরা দিল্লিতে এসেছি। ভয় পাই না।’

পরে পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশও আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিজেপি এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই নেতাদের আটক করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিল্লিতে না যাওয়ার অনুরোধ অমান্য করায় গুরুগ্রামের বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বন্ধ মেট্রো স্টেশন

সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করছে।

এ ছাড়া দিল্লির সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো থেকে তরুণদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানানো।

তবে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে সিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল রাজধানীর শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভ, আটক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ইন্টারনেট বন্ধের পরিধি এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ

 

৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লাঞ্চে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩৪/১

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লাঞ্চে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩৪/১

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে খেলা শেষ করা নাজমুল হোসেন শান্তর দল দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৯ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লাঞ্চ বিরতিতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৪ রান।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লেজের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন আফগানিস্তানের পেসাররা। মোহাম্মদ সেলিমের বলে গ্লাভসে লেগে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ইয়ামিন আহমাদজাই এবাদত হোসেনকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

বাংলাদেশের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান। তাইজুল ইসলাম ও এবাদত হোসেনের সঙ্গে ব্যাটিং করার সময় স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে সতীর্থদের দ্রুত বিদায়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৮২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়ামিন আহমাদজাই পেয়েছেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া ইসমত আলম ২টি এবং কায়েস আহমেদ ১টি উইকেট শিকার করেন।এর আগে প্রথম দিনের শুরুতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ওভারপ্রতি ৫.১৫ রান তুলেছিল দলটি।

তবে আফগানিস্তানের বোলাররা পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরেন এবং বাংলাদেশের ইনিংস ৩৪৬ রানেই আটকে দেন।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। হাসান মাহমুদের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সেদিকুল্লাহ অটল।

আউট হওয়ার আগে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৭ রান করেন তিনি। শুরুতে উইকেটের পেছনে ক্যাচের জোরালো আবেদনের পর বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসারের শিকার হন এই ব্যাটার।

লাঞ্চ বিরতিতে আফগানিস্তানের হয়ে উইকেটে ছিলেন বাকি ব্যাটাররা। বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্বিতীয় সেশনে আফগান ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। অন্যদিকে দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবে বাংলাদেশ।

কালের আলো/এসআর/এএএন