বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তার
বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতে শুনানির সময় সুলতান মনসুর বলেন, যে সময়ের ঘটনা নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে, তখন তিনি গণফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়। তিনি কোনো অপরাধ করেননি বলেও দাবি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন এদিন সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে আদালতে হাজির করে ২০২২ সালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন তাঁদের গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় আমি সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না।”
বিচারকের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সঙ্গে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সঙ্গে না।”
শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান জানান।
সুলতান মনসুরের রাজনৈতিক পরিচয়
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ একসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।
পরে তিনি কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাঁকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
যে ঘটনায় মকবুল হত্যা মামলা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং আশপাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মকবুল হোসেন নামে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়।
আগে থেকেই কারাগারে সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাঁকে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এ ছাড়া বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা আরেকটি মামলায় গত ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]