খুঁজুন
                               
, ,
           

উলিপুরে দুই শতাধিক দুঃস্থ রবিদাস পরিবারে পূজার আমেজ নেই

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
উলিপুরে দুই শতাধিক দুঃস্থ রবিদাস পরিবারে পূজার আমেজ নেই

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুর্গাপূজার উৎসব চললেও আনন্দ নেই দুই শতাধিক দুঃস্থ রবিদাস পরিবারের ঘরে। আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে পারেননি অনেক অভিভাবক। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে উৎসবের কেনাকাটা তাদের কাছে যেন বিলাসিতা। অন্যান্য বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে কিছু সহায়তা পেলেও এবার তা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৮০০ রবিদাস পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। চলতি দুর্গোৎসবেও কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ নেই।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকায় রবিদাস সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজা ঘিরে অন্যদের মধ্যে উৎসবের আবহ থাকলেও এসব পরিবারের জীবনে তার ছোঁয়া নেই। অভাবের কারণে নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ভুলুয়া রবিদাস (৬৩) বলেন, ‘উৎসব শুরু হলেও আমাদের মতো পরিবারগুলোর মধ্যে আনন্দ নেই। অতি কষ্টে দিনযাপন করার কারণে ছেলেমেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। আমাদের ব্যবসা প্রায় অচল। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। বছরের অন্যান্য দিনগুলো যেমন, পূজার দিনগুলোও আমাদের কাছে তেমন। আমরা সবসময় সমাজে অবহেলিত। অন্যান্য বছর প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করলেও এবার কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

জোসনা রবিদাস (৫৫) বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে কোনো নতুন কাপড় কেনা হয়নি। তিনবেলা পেট ভরে খাওয়াই কষ্টকর। সেখানে আবার পূজার কী আছে! আজ পূজার দ্বিতীয় দিন চললেও আমাদের ঘরে আনন্দ নেই।’

ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ইন্দারার পাড় এলাকার চৈতা রবিদাস (৭৭), বজরা ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকার কার্তিক রবিদাসসহ অনেকে একই ধরনের হতাশার কথা জানান। তাদের ভাষ্য, বছরে একবার পূজার আনন্দ এলেও অর্থের অভাবে তারা সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এবার সহায়তা না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

উপজেলা রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস বলেন, ‘অন্যান্য বছর সরকারি ভাবে আমরা চাল, কাপড়, ধুতি ও লুঙ্গি পেলেও এবার কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক দরিদ্র পরিবার আছে, তারা খুবই কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছে। দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের সহযোগিতা পেলে পরিবারগুলো উপকৃত হতো।’

এ বিষয়ে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান জানান, রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি কোনো পৃথক বরাদ্দ নেই। অন্যান্য বছর পূজা উপলক্ষে এ সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুঃস্থ রবিদাস পরিবারের মধ্যে কাপড় বিতরণ করবেন বলে তিনি শুনেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. আরিফ জানান, রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে যারা দুঃস্থ, তাদের সহায়তা করা হবে।

উৎসবের এই সময়ে নতুন পোশাক কিংবা বিশেষ খাবারের আনন্দ থেকে বঞ্চিত এসব পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পাশে দাঁড়াবে। দুর্গাপূজার আনন্দ যেন কেবল সচ্ছল মানুষের ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং অসহায় পরিবারগুলোর জীবনেও পৌঁছায়—এমনটাই তাদের চাওয়া।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মুচি-ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অপরাধের খোঁজ, কেন খুন হলেন আলিফ?

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
মুচি-ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অপরাধের খোঁজ, কেন খুন হলেন আলিফ?

কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন সীমান্ত এলাকায়। উদ্দেশ্য ছিল মাদক কারবার, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা। অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির সম্পর্কে এমন তথ্য জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলো। অপরাধের তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর গুলিতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখন তাঁর শেষ অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য শত্রুদের নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলিফ লিখেছিলেন, ‘আগামীকাল চাঞ্চল্যকর অপরাধের গডফাদারের তথ্য-প্রমাণ……’। কিন্তু সেই তথ্য আর প্রকাশ করা হয়নি। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে তাঁর মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে, কোন অপরাধের তথ্য সামনে আনতে যাচ্ছিলেন তিনি? তাঁর অনুসন্ধান কি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিল?

মাদক কারবার, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের পাশাপাশি কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে ঘিরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে আলিফ হত্যার সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হত্যার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ করতেন আলিফ

সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত অঞ্চলে মাদক কারবার, চোরাচালান এবং অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন আলিফ। অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেতে তিনি কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশ ধারণ করতেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। আলিফের মৃত্যুর আগে তাঁর ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের ফেসবুক পেজেও অপরাধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত ছিল। হত্যার আগের দিন দেওয়া পোস্টটি এ কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সহকর্মীদের মতে, পোস্টে উল্লেখ করা ‘অপরাধের গডফাদার’ এবং অপ্রকাশিত তথ্যের বিষয়বস্তু শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে

এ ক্ষেত্রে আলিফের ব্যবহৃত মুঠোফোন, কললিস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা, ব্যক্তিগত নোট এবং সংরক্ষিত প্রতিবেদন পরীক্ষা করে তাঁর শেষ অনুসন্ধানের সূত্র পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব তথ্যের কোনোটি এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে না।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক আলিফ

পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের দাবি, অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির কারণে আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় এবং নভেম্বরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাটে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এসব হামলার সঙ্গে তাঁর সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে আগের ঘটনাগুলো এবং হত্যার আগে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ঘোষণা—দুটিকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের মতে, শুধু সরাসরি হামলাকারীকে শনাক্ত করলেই হবে না; আলিফের আগের অনুসন্ধান, তাঁর ওপর হামলার ঘটনাগুলো এবং হত্যার আগে-পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। আগের হামলার ঘটনায় কোনো মামলা বা তদন্ত হয়ে থাকলে তার নথিও বর্তমান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন

আলিফ হত্যার আগে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে পাঁচজন রোহিঙ্গা নাগরিকের ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের ঠিকানা হিসেবে রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নথিপত্র যাচাইয়ের সময় কিছু অসংগতি পাওয়া যায়।

এর আগে একই নির্বাচন কার্যালয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকের এনআইডি তৈরির অভিযোগে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল। আলিফের ফেসবুক পেজে তাঁর মৃত্যুর আগে রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে অনুসন্ধানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ বালু ব্যবসা ও পাথর উত্তোলন নিয়েও পোস্ট করেছিলেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের অপব্যবহারের প্রভাব ভোটার নিবন্ধনের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ব্যাংক হিসাব খোলা, মুঠোফোনের সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণে পরিচয়পত্র ব্যবহৃত হয়। ফলে ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি তৈরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচন কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে আলিফের হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে—এমন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি কারা আবেদন করেছেন, কীভাবে নথি যাচাই হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় কারও অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পুরোনো তথ্যও আলোচনায়

সীমান্ত অপরাধ ও রোহিঙ্গাদের পরিচয়সংক্রান্ত অভিযোগের আলোচনায় কয়েক বছর আগের একটি মাদক মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। নেত্রকোনা সদরের কে-গাতি ইউনিয়নের চুয়ারকান্দা গ্রামের ইলিয়াস কাদের বাবুলের বিরুদ্ধে অতীতে মাদকসংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

২০২২ সালের মে মাসে ময়মনসিংহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে বাবুল, তাঁর রোহিঙ্গা স্ত্রী রোজিনা বেগমসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, মাদক ব্যবসার সুবিধা নিতে বাবুল ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও আত্মীয়দের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ময়মনসিংহে সরবরাহ করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল।

বর্তমানে বাবুলকে ঘিরে যেসব অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রোহিঙ্গা স্ত্রী ও তাঁর আত্মীয়দের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা এবং স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। তবে অতীতের মাদক মামলার তথ্য কিংবা এসব অভিযোগের কোনোটিই আলিফ হত্যার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে না। এ কারণে পৃথক অভিযোগ ও ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, তা অনুমানের ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।

হত্যার পরিকল্পনায় কারা, তদন্তে সেই প্রশ্ন

সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সহকর্মীদের মতে, শুধু গুলি চালানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; হত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা, অর্থের জোগান এবং ঘটনার আগে-পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলিফের সহকর্মীরা বলছেন, তাঁর শেষ অনুসন্ধান, আগের হামলার ঘটনা এবং হত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা দরকার। তাঁদের মতে, আলিফ কোন তথ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন, তাঁর অনুসন্ধানের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন এবং আগের হামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ, মাদক সরবরাহ ও সীমান্ত অপরাধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

গ্রেপ্তার আসামির এক দিনের রিমান্ড

এদিকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বর এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আলিফ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে ছয়টি গুলির আঘাত ছিল। ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্গাপুরে পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবার

আলিফের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অন্যদিকে তাঁর সহকর্মীরা অপেক্ষা করছেন, তদন্তে তাঁর শেষ অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু এবং হত্যার পেছনের কারণ স্পষ্ট হবে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে সরাসরি হামলাকারীর পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে আলিফের আগের ওপর হামলার ঘটনাগুলো, তাঁর শেষ পোস্ট এবং অপ্রকাশিত অনুসন্ধানের তথ্য যাচাই করলে তদন্তে নতুন সূত্র মিলতে পারে। তবে মাদক কারবার, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন কিংবা রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ—কোনটির সঙ্গে আলিফ হত্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ওপর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাতি-ফ্যান চালিয়েই লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

নোয়াখালীর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাতি-ফ্যান চালিয়েই লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ আর একটি আইপিএস—একটি সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বিদ্যুৎ ব্যবহারের সরঞ্জাম বলতে এটুকুই। এসব ব্যবহার করে প্রতি মাসে যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসত গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসের বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট। এমন অস্বাভাবিক বিল হাতে পেয়ে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে ঘটেছে এ ঘটনা। নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাঠানো এই বিলকে ‘ভুতুড়ে’ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। তাঁর দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসার পরও হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল পাঠানো হয়েছে, যা তাঁদের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাঁচ মাসে গড় ব্যবহার ১৮৭ ইউনিট, সেপ্টেম্বরে দেখানো ৬ হাজার

ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাস ধরে তাঁদের বাড়িতে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। সেই হিসাবে সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে নিয়মিত বিলও এসেছে তুলনামূলক কম। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিলে হঠাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মিটারটি নিবন্ধিত রয়েছে ওই বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামে। বর্তমানে মিটারটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম। সেপ্টেম্বর মাসের বিলের সঙ্গে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুল যোগ করে মোট পাওনা দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। সাধারণ বাতি-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে?’ তাঁর অভিযোগ, বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।

বিল সংশোধনে গ্রাহককেই কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ

অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিদ্যুৎ বিল বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মীকে জানান শহীদুল ইসলাম। এ সময় তাঁকে চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরামর্শে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, বিল তৈরিতে কর্তৃপক্ষের ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য গ্রাহককে কেন বারবার কার্যালয়ে যেতে হবে? শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব—এটি কোন ধরনের কথা? আমি চাই, এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

ভুল স্বীকার পল্লী বিদ্যুতের, মিটার পরীক্ষার আশ্বাস

এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে গ্রাহকের মূল বিলের কপি পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, শিগগিরই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে মিটার পরীক্ষা করা হবে। এরপর দ্রুত বিল সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

ভুল বিলের দায় ও গ্রাহক ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন

সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে লাখ টাকার বেশি বিল আসার ঘটনায় বিল প্রস্তুত ও মিটার রিডিংয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আগের মাসগুলোর গড় ব্যবহার যেখানে ১৮৭ ইউনিট, সেখানে এক মাসে ৬ হাজার ইউনিট ব্যবহারের হিসাব কীভাবে তৈরি হলো, তা যাচাই করা জরুরি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মিটার পরীক্ষা ও বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও সংশোধিত বিল কবে দেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় কোনো কর্মীর গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অস্বাভাবিক বিলের কারণে গ্রাহককে যেন অযথা আর্থিক চাপ ও ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ভেরিফিকেশনের ফাঁদে দুই বিসিএস কর্মকর্তা?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভেরিফিকেশনের ফাঁদে দুই বিসিএস কর্মকর্তা?

এক বিসিএসে সরকারি চাকরি করছেন, আরেক বিসিএসেও পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত ক্যাডারে সুপারিশ। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো পূরণ হবে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগের গেজেটে নাম নেই। কেন বাদ পড়লেন, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এক রাতেই যেন বদলে গেল সব হিসাব। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দুই সরকারি কর্মকর্তা—নুরে আলম ও মো. ইফতেখারুল ইসলাম। নুরে আলম ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বর্তমানে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারেও সুপারিশ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পর দেখেন, সেখানে তাঁর নাম নেই।

অন্যদিকে, ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বর্তমানে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইফতেখারুল ইসলাম। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সহকারী সার্জন ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারেও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই নিয়োগের প্রজ্ঞাপনেও ঠাঁই হয়নি তাঁর।

  • এক কর্মকর্তা আনসার ক্যাডারে, অন্যজন স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত
  • চূড়ান্ত সুপারিশের পরও গেজেটে নাম নেই দুই কর্মকর্তার
  • নিয়োগের স্বচ্ছতা ও যাচাইব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

গত ১৪ অক্টোবর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল ও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর নিজেদের বাদ পড়ার বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। এরপর থেকেই প্রশ্ন—চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাঁদের নিয়োগ হলো না? যাচাই-বাছাইয়ে কী এমন তথ্য পাওয়া গেল, যার কারণে দুই কর্মকর্তার নাম গেজেট থেকে বাদ পড়ল? প্রকাশিত তথ্যে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। দুই কর্মকর্তার দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা জানানো হয়নি। তাঁদের ধারণা, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের পর্যায়েই আটকে গেছে নিয়োগ। তবে তাঁদের বাদ পড়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

সুপারিশ পেয়েও ১০৫ জনের নিয়োগ নেই
৪৫তম বিসিএসে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ১ হাজার ৮০৭ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। কিন্তু নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে দেখা যায়, নিয়োগ পেয়েছেন ১ হাজার ৭০২ জন। অর্থাৎ সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি অথবা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে কারও নিয়োগ আটকে গেল, কারও নাম গেজেটে এল না, আর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ কতটা কার্যকর—এসব প্রশ্নের উত্তর সামনে আসেনি।

নুরে আলম ও ইফতেখারুল ইসলামের ঘটনা বিতর্কটিকে আরও তীব্র করেছে। কারণ, তাঁরা দুজনই অন্য বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। একজন আনসার ক্যাডারে, অন্যজন স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত। অথচ আরেকটি বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও তাঁরা নিয়োগ পাননি। তাঁদের ক্ষেত্রে যাচাইয়ের মানদণ্ড কী ছিল, কোন তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগের চাকরিতে নিয়োগের সময় যাচাইয়ের সঙ্গে পরবর্তী যাচাইয়ের কোনো পার্থক্য ছিল কি না—এসব বিষয় পরিষ্কার না হলে বিতর্কের অবসান কঠিন।

নিয়োগের শেষ ধাপে অদৃশ্য বাধা?
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির আগে পুলিশি যাচাই দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রক্রিয়া। নির্ধারিত ফরমে প্রার্থীর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না, কখনো গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হয়েছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। নজরবন্দী থাকা কিংবা কোনো স্থান থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনা থাকলেও তার তারিখসহ বিস্তারিত বিবরণ যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

এর বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন আসায় অনেক প্রার্থীর নিয়োগ আটকে যায়। কিন্তু যাচাইয়ের প্রতিবেদনই যদি কারও চাকরির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, তাহলে সেই প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?

কোনো ভুল তথ্যের কারণে একজন যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়লে তার দায় কে নেবে? আর প্রার্থী কীভাবে জানবেন, ঠিক কোন কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে? নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এসব প্রশ্নের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কারণ, পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যদি একজন প্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান, তাহলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

শিক্ষক নিয়োগেও বাদ, পরে প্রায় সবাই নিয়োগ
এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগেও যাচাই-বাছাইয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রথম ধাপেই ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থীকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রায় সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাই চাকরিতে যোগ দেননি।

এই ঘটনা যাচাইব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে—প্রথম দফায় যাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের প্রায় সবাইকে পরে নিয়োগ দেওয়ার পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো? যাচাই-বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যদি প্রথম সিদ্ধান্তের পর এত বড় পরিবর্তন আসতে পারে, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্ন এড়ানো যায় না।

‘ভুল হতে পারে, আবার যাচাইয়ের সুযোগ আছে’
৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও গেজেটে নাম না থাকা দুই কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাঁদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁর ভাষ্য, যাচাইয়ের প্রতিবেদন পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থাই তৈরি করে; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিজে তা করে না। কেউ আপিল করলে তাঁর বিষয়ে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। প্রয়োজনে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য যাচাই করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, তাই যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ভুল হওয়া অসম্ভব নয়।

তবে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ থাকার কথা আর সেই সুযোগ বাস্তবে সহজে পাওয়া—দুটি এক বিষয় নয়। বাদ পড়া প্রার্থী কীভাবে আপিল করবেন, কত দিনের মধ্যে করবেন, কোন কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং কত দিনে সিদ্ধান্ত জানানো হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোনো প্রার্থীকে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচনা করা হলে তাঁকে কি সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানানো হয়? নিজের বক্তব্য তুলে ধরা বা ভুল তথ্য সংশোধনের সুযোগ কি তিনি পান?

নুরে আলমের আক্ষেপ: ‘আমার পুরো ক্যারিয়ার এলোমেলো হয়ে গেছে’
কুমিল্লার বাসিন্দা নুরে আলম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তার আনসার ক্যাডারের মৌলিক প্রশিক্ষণও চলছিল। কিন্তু তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পুলিশে কাজ করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই ৪৫তম বিসিএসে অংশ নেন। পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গেজেটে নিজের নাম না পেয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।

নুরে আলম বলেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারটা এলোমেলো হয়ে গেছে। আনসার ক্যাডারে আমার বেসিক ট্রেনিং চলছে। পুলিশে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আনসার ক্যাডারের প্রশিক্ষণও ঠিকমতো নিতে পারিনি। এখন পুলিশে যাওয়ার সুযোগও থাকল না।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি নেতিবাচক কিছু থেকেই থাকে, আমি আনসারে চাকরি করছি কীভাবে?’

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু নুরে আলমের ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য নয়, নিয়োগপ্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য বোঝার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য আনসার ও পুলিশ ক্যাডারের নিয়োগের শর্ত কিংবা যাচাইয়ের ভিত্তি এক ছিল কি না, সে তথ্য জানা নেই। তাই দুই নিয়োগের সিদ্ধান্তকে সরাসরি পরস্পরবিরোধী বলা যায় না। কিন্তু কেন একটি নিয়োগে তিনি যোগ্য বিবেচিত হলেন, আর অন্যটিতে বাদ পড়লেন—সেটি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

ইফতেখারুলের চার বছরের স্বপ্নের কী হবে?
নাটোরের বাসিন্দা মো. ইফতেখারুল ইসলাম রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাঁর আরেকটি স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া। ৪৫তম বিসিএসে সেই ক্যাডারে চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি। অথচ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর দেখেন, তাঁর নাম নেই।

ইফতেখারুল বলেন, ‘চার বছরের একটা লালিত স্বপ্ন এক রাতের ব্যবধানে ধূলিসাৎ হতে দেখা আসলে মেনে নেওয়ার মতো নয়। কেন চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েও বাদ পড়েছি, জানি না। আমার স্বপ্ন ভেঙে গেল।’ একজন প্রার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যদি নিয়োগের কারণ জানতে না পারেন, তাহলে তাঁর সামনে প্রতিকার চাওয়ার পথ কতটা খোলা থাকে? ইফতেখারুলের অভিজ্ঞতা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।

৪৬ জন বাদ, সমালোচনার পর নিয়োগের ঘোষণা
গত সেপ্টেম্বরে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ৪৬ জনের নাম নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ পড়ে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন, বাদ পড়া ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রী সে সময় বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। তবে নিয়োগের আগে পুলিশি যাচাই নিয়মিত প্রক্রিয়া। যাচাই শেষ হওয়ার পর বাকি প্রার্থীদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এই ঘটনা সরকারি নিয়োগে যাচাইব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও একদল প্রার্থী কেন প্রজ্ঞাপনের বাইরে থাকবেন, তাঁদের বাদ পড়ার কারণ কী এবং সেই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা কীভাবে হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

তবে বিভিন্ন বিসিএসের সব ঘটনা একই রকম নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাদ পড়ার কারণ ও প্রমাণ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যেন অস্পষ্ট বা যাচাইহীন তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

টিআইবির প্রশ্ন: মেধায় উত্তীর্ণ হলে নিয়োগ নয় কেন?
সরকারি নিয়োগে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এই ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে দলীয় বিবেচনায় পরিচালিত হয় এবং এর মাধ্যমে বৈষম্যের সুযোগ তৈরি হয়।

ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, যাচাই-বাছাইয়ের নামে অযথা হয়রানি ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আমলাতন্ত্রে ব্যাপক দলীয়করণের জন্যও তিনি এই ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘মেধার ভিত্তিতে যাঁরা কোয়ালিফাই করবে, তাঁদেরই চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে হবে।’

টিআইবির এই অবস্থান নিয়োগে মেধা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নকে সামনে আনলেও যাচাইব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মূল জায়গাটি হলো—প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত।

স্বচ্ছতা ছাড়া আস্থা ফিরবে কীভাবে?
সরকারি চাকরিতে প্রার্থীর পরিচয় ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা থাকতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য, অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত কিংবা বৈষম্যের অভিযোগ উঠলে তা নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। নইলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রার্থীদের নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।

নুরে আলম ও ইফতেখারুল ইসলামের ঘটনায় সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো, তাঁদের বাদ পড়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁরা অন্য বিসিএসে সুপারিশ পেয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, অথচ ৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগ পাননি। তাঁদের বিরুদ্ধে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বাদ পড়া প্রার্থীদের কারণ জানানো, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আপিলের সুযোগ সহজ করা এবং ভুল হলে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। শুধু যাচাই করাই যথেষ্ট নয়; যাচাইয়ের সিদ্ধান্তও হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও জবাবদিহিমূলক।

কারণ, একটি গেজেটে নাম না থাকা কারও কাছে কেবল একটি চাকরি হারানোর ঘটনা নয়—তা হতে পারে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন, কর্মজীবনের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যতের হিসাব ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। আর সেই সিদ্ধান্তের কারণই যদি অজানা থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই: মেধা দিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও একজন প্রার্থীকে নিজের নিয়োগের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে কেন?

কালের আলো/আরআই/এমএসআইপি