খুঁজুন
                               
, ,
           

মাহবুবুল খালিদের কথায় নতুন গান গাইলেন আসিফ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
মাহবুবুল খালিদের কথায় নতুন গান গাইলেন আসিফ

গীতিকবি ও সুরকার মাহবুবুল খালিদের কথা ও সুরে নতুন গান গেয়েছেন বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ শিরোনামের গানটিতে প্রেম, সৌন্দর্য ও মুগ্ধতার অনুভূতি উঠে এসেছে লোকজ শব্দ ও রোমান্টিক কথামালায়। ইতোমধ্যে গানটির অডিও শ্রোতাদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগিরই গানটির সংগীতচিত্র প্রকাশের কথা রয়েছে।

লোকজ কথায় প্রেমের গান
‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ গানটিতে প্রিয় মানুষের রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ এক প্রেমিকের অনুভূতি তুলে ধরেছেন মাহবুবুল খালিদ। সহজ ও লোকজ শব্দের ব্যবহারে গানটিতে তৈরি হয়েছে রোমান্টিক আবহ। প্রেমিকার চুল, শাড়ি, উড়তে থাকা আঁচল ও নূপুরের শব্দের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে ভালো লাগা ও মুগ্ধতার প্রকাশ। গানটির কয়েকটি পঙ্‌ক্তি হলো, ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে/ কী শাড়ি পরিস তুই, হাওয়ায় আঁচল দুলে/ তোর নূপুর বাজে ঘুঙুর ঘুঙুর/ রূপে আগুন জ্বলে।’ গানের কথায় পরিচিত গ্রামীণ অনুষঙ্গ ও লোকজ শব্দের ব্যবহার শ্রোতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। আসিফ আকবরের কণ্ঠে গানটি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রত্যাশা।

শিগগিরই আসছে সংগীতচিত্র
‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ গানের অডিও ইতোমধ্যে মাহবুবুল খালিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগিরই গানটির সংগীতচিত্র প্রকাশ করা হবে ‘খালিদ সংগীত’ নামের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গান প্রকাশের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে নতুন সৃষ্টি পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আসিফ আকবরের কণ্ঠে এই গান। সংগীতচিত্র প্রকাশের পর গানটি আরও বিস্তৃত শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন মাহবুবুল খালিদ
বাংলাদেশের সংগীত ও সাহিত্যাঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন গীতিকবি ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ। তাঁর লেখা গান ‘খালিদ সংগীত’ ব্যানারে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা পাঁচ শতাধিক গান প্রকাশ পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা এসব গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর গানের বিষয়বৈচিত্র্যও উল্লেখযোগ্য। প্রেম, ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি সমাজের অসংগতি, মানবিক সংকট এবং আলোচিত ঘটনাও তাঁর সৃষ্টিতে উঠে এসেছে। সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের আবেগকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

সামাজিক সংকট ও মানবিকতার বার্তাও তাঁর গানে
ঢাকার মিরপুরে নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে নিয়ে মাহবুবুল খালিদ লিখেছেন ‘আদুরি’ গানটি। সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর লেখা ‘ফেলানীরে করল গুলি’ গানেও উঠে এসেছে নির্মম বাস্তবতা। এ ছাড়া মাগুরায় শিশু আছিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি লিখেছেন ‘মাগুরার ফুল’। সাম্প্রতিক সময়ে ‘রামিসার বিচার’ শিরোনামেও গান লিখেছেন এই গীতিকবি। এসব গানে নির্যাতন, অন্যায় ও সামাজিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। দেশের বাইরের মানবিক সংকটও তাঁর সৃষ্টির বিষয় হয়েছে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে লেখা গানগুলোর মাধ্যমে মানবতা, সহমর্মিতা ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।এবার সেই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির ধারায় যুক্ত হলো রোমান্টিক গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’। আসিফ আকবরের কণ্ঠে গানটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে মাহবুবুল খালিদের সংগীতভান্ডারে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন সৃষ্টি।

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

জুলাই আন্দোলনে হামলা ও ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলনে হামলা ও ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার বর্ণনা দিয়েছেন ১১ নম্বর সাক্ষী মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা পুলিশের হামলা থেকে বাঁচতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ফটক বন্ধ করে দিলে পুলিশ গেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে গুলি চালাতে থাকে। তাঁর দাবি, ওই দিনের হামলায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক আন্দোলনকারীও আহত হন। আন্দোলনের সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিলেন মেসবাহ উদ্দীন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) তিনি সাক্ষ্য দেন।

মেসবাহর জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলনে পুলিশের হামলা, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

১৮ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে হামলার বর্ণনা

জবানবন্দিতে মেসবাহ উদ্দীন বলেন, ১৮ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তাঁদের কর্মসূচি ছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ তাঁদের বাধা দিতে থাকে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের কথায় কর্মসূচি প্রত্যাহার না করায় প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। মেসবাহ বলেন, মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে তিনি তখন ক্রাচ ব্যবহার করছিলেন। তা সত্ত্বেও আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জের সময় তিনি অবস্থান থেকে সরে যাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাঁর ওপরও লাঠিচার্জ করে এবং সেখান থেকেই আক্রমণ শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, লাঠিচার্জের পর পুলিশ রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছুড়তে থাকে। হামলার মুখে শিক্ষার্থীরা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে গেট বন্ধ করে দেন। তখন পুলিশ গেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে গুলি চালাতে থাকে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সাক্ষীর দাবি, ওই দিন পুলিশের হামলায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক আন্দোলনকারীও আহত হন।

পুলিশের গুলিতে জিল্লুর শেখ নিহত, বন্ধুর চোখ নষ্ট হওয়ার দাবি

মেসবাহ উদ্দীন জবানবন্দিতে বলেন, ওই দিন পুলিশের গুলিতে ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লুর শেখ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিহত হন। আহতদের অনেকে পুলিশের লাঠিচার্জ, ছররা গুলি ও টিয়ারশেলের আঘাতে জখম হন।

নিজের বন্ধু জিসানের আহত হওয়ার ঘটনাও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জিসানের চোখে ছররা গুলি লাগে এবং এতে তাঁর চোখ নষ্ট হয়ে যায়। মেসবাহ বলেন, আহতদের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হামলার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি উত্তর বাড্ডায় এক বন্ধুর মেসে চলে যান। তাঁর আশঙ্কা ছিল, বাড়িতে যুবলীগের লোকজন হামলা করতে পারে।

১৬ জুলাই কর্মসূচি, পুলিশের বাধার অভিযোগ

জবানবন্দিতে মেসবাহ উদ্দীন বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, জুনাইদ আহমেদ পলকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি দেন তাঁরা। সেদিন সকাল ১০টায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাঁদের জমায়েত শুরু হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবিগুলো প্রতিষ্ঠা করা এবং আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা। মেসবাহর দাবি, সেদিন বাড্ডা থানার পুলিশ তাঁদের বারবার বাধা দেয়। বিকেল আনুমানিক ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলার পর তিনি বাসায় ফিরে জানতে পারেন, সারা দেশে ছয়জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

ইন্টারনেট বন্ধে আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন মেসবাহ উদ্দীন। তিনি বলেন, ১৮ জুলাই দিবাগত রাতে তাঁরা দেখতে পান, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট কাজ করছে না। এর আগে কয়েকবার ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মেসবাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত ছিল। তাঁর দাবি, ওই আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীদের হামলায় সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হন।

ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে জবানবন্দিতে যা বলেন

মেসবাহ উদ্দীন বলেন, ৫ আগস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথোপকথনের বিষয়ে জানতে পারেন। ওই ব্যক্তি সম্ভবত সালমান এফ রহমান ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, কথোপকথন থেকে তিনি জানতে পারেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় হতাহত হওয়ার খবর দেশের ভেতরে ও বিদেশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং আন্দোলনকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রেও ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে জয় ও পলকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং হামলা ও প্রাণহানির তথ্য আড়াল করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত ভূমিকা রেখেছিল। এসব অভিযোগের বিচার চলছে।

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে পলকের ফেসবুক পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উসকানি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর পর ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয় এবং অনেকে আহত হন। দ্বিতীয় অভিযোগে আন্দোলন দমনে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমানো, পরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাপ বন্ধ করার বিষয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং তাঁদের শনাক্ত করে আটক ও দমন করার সুযোগ তৈরি করেছিল।

তৃতীয় অভিযোগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির তথ্য আড়াল করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১৯ জুলাই এবং উত্তরায় ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।এসব অভিযোগের মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং অধীনস্থদের অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন; সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

জয় পলাতক, পলক কারাগারে

মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক এবং জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়।জবানবন্দির শেষ দিকে মেসবাহ উদ্দীন জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক, সালমান এফ রহমান, আরাফাতসহ শেখ হাসিনার অধীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

কোকো জাতীয় অ্যাথলেটিকস উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
কোকো জাতীয় অ্যাথলেটিকস উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর নামে আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’। শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়, আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পদক-খরা কাটানোর লক্ষ্যে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (বিএএফ)। এসএ গেমস, এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান অ্যাথলেট খুঁজে বের করা এবং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে ফেডারেশন। এবারের জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতাকে সেই উদ্যোগের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন
প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে আয়োজন এবং জাতীয় পর্যায়ে নতুন অ্যাথলেট তুলে আনার লক্ষ্যে দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ জন্য পরিপত্রও জারি করা হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশ নিতে আসা অ্যাথলেটদের যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাবের জানিয়েছেন, দেশের পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই রাষ্ট্রপতি প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধনে সম্মতি দিয়েছেন। সম্প্রতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে সঙ্গে নিয়ে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি দেখতে ট্র্যাকেও যান তিনি। প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে জাবের বলেন, ‘আমরা শতভাগ প্রস্তুত এবং একটি সফল আয়োজন উপহার দিতে চাই। একটু আগেই আমরা অ্যাথলেটদের খোঁজ নিতে ট্র্যাকে গিয়েছিলাম। তারা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই আসরে ভালো ফলাফল দেখাতে সক্ষম হবে।’

১৩ জেলায় প্রতিভা অন্বেষণের পরিকল্পনা
তিন মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া অ্যাডহক কমিটির কাছে এবারের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য সম্ভাবনাময় অ্যাথলেট বাছাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরপরই দেশের ১৩টি জেলায় প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের। আগামী ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্মীপুর ও যশোর থেকে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোতেও প্রতিভাবান অ্যাথলেট খোঁজা হবে। শুধু বর্তমান পারফরম্যান্স নয়, শারীরিক গঠন, সক্ষমতা ও ভবিষ্যতে উন্নতির সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। বাছাই করা অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশে সময় এবং অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় ফেডারেশন। কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো খেলোয়াড় তৈরির সুযোগ বাড়বে। তবে এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

আবাসিক ক্যাম্প ও জিমনেসিয়াম গড়তে চায় ফেডারেশন
১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করলেও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের এখনো নিজস্ব আবাসিক ক্যাম্প, জিমনেসিয়াম কিংবা ইন-হাউস থেরাপি সেন্টার নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের পথে এসব অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ফেডারেশনের সভাপতি। জাবের বলেন, ‘এসব ছাড়া আমরা যাই বলি না কেন, তা কেবলই দিবাস্বপ্ন। তবে আমরা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছি এবং তিনি ক্যাম্প ও জিম স্থাপনে পূর্ণ সহায়তার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন।’ চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় স্টেডিয়ামের ভেতরে অস্থায়ী ক্যাম্প ও জিম চালুর লক্ষ্য রয়েছে ফেডারেশনের। পাশাপাশি ভলিবল ফেডারেশনের সামনে ৬ থেকে ৭ কাঠা জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেখানে স্থায়ী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত চার বা পাঁচতলা ভবনে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী অ্যাথলেটদের আবাসন ও পড়াশোনার সুবিধা রাখার চিন্তাও করছে ফেডারেশন। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে তরুণ অ্যাথলেটদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করাও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এশিয়ান গেমসে পিছিয়ে থাকা নিয়ে উদ্বেগ
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য, সাংস্কৃতিক ও খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে কাছাকাছি কয়েকটি দেশ এশিয়ান গেমসে শীর্ষ দশে অবস্থান করলেও বাংলাদেশ অল্পসংখ্যক অ্যাথলেট নিয়ে অংশগ্রহণ করে ৩৫তম বা ৩৬তম অবস্থানে থেকেছে। এই ব্যবধান কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ তৈরি, আধুনিক অনুশীলনব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাথলেট উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে চায় ফেডারেশন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিযোগিতার আগে প্রস্তুতি নয়, ছোটবেলা থেকেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন কর্মকর্তারা।

আলাদা অ্যাথলেটিকস স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন দেশের অ্যাথলেটিকসের উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ১৮ কোটি মানুষের দেশে অ্যাথলেটিকসের জন্য আলাদা স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অ্যাস্ট্রোটার্ফ ট্র্যাক স্থাপন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আধুনিক ট্র্যাক ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসুবিধা তৈরি করা গেলে দেশের অ্যাথলেটরা আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলনের সুযোগ পাবেন বলে আশা করছে ফেডারেশন।

আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্পনসর খোঁজার চেষ্টা
স্পনসর না থাকায় আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিল বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও হকি ফেডারেশনের সমর্থন পেয়েছে তারা। প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য স্পনসরদের সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটির মধ্যেও প্রতিদিন তিন থেকে চারজন সম্ভাব্য স্পনসরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আর্থিক সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। আরাফাত রহমান কোকোর নামে প্রতিযোগিতার নামকরণ দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। অ্যাথলেটিকসের গুরুত্ব তুলে ধরে তপন বলেন, ‘অ্যাথলেটিকস হলো অলিম্পিকের মূল খেলা। এই খেলাটি এমন করুণ অবস্থায় থাকলে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের অ্যাথলেটিকসে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সাফল্যের লক্ষ্যে নতুন প্রত্যাশা
সাফজয়ী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর মতে, গত ছয় মাসে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরিশ্রম দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ফেডারেশন সভাপতি জাবের, সহসভাপতি ড. সাব্বির মোস্তফা খান, অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আর্থিক সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তপন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সবাই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশের অ্যাথলেটিকসে এক সম্পূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব।’ তৃণমূল থেকে প্রতিভা বাছাই, আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা, আবাসন ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের অবস্থান বদলানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পনার পাশাপাশি ধারাবাহিক বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএআর/এসএ

 

বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের ‘নিশি’

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের ‘নিশি’

বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’ এবার জায়গা করে নিয়েছে রাশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ‘ভিজিআইকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ৪৬তম আসরে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এই উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র। আগামী ১৬ থেকে ২০ নভেম্বর মস্কোতে অনুষ্ঠিতব্য উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে গোলাম রাব্বানী ও জহিরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি।

প্রথমবারের মতো ভিজিআইকে উৎসবে বাংলাদেশ
প্রযোজনা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার বিখ্যাত গেরাসিমভ ইনস্টিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি আয়োজিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরে নির্বাচিত হয়েছে ‘নিশি’। বিশ্বের প্রাচীনতম চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। ৪৬তম আসরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এই অন্তর্ভুক্তিকে দেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি নির্মাতাদের কাজ তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্রের গল্প ও নির্মাণশৈলী বিশ্বদর্শকের সামনে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এই অংশগ্রহণ।

চা-বাগানের জীবনসংগ্রাম নিয়ে ‘নিশি’র গল্প
গোলাম রাব্বানীর গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত ‘নিশি’তে উঠে এসেছে সিলেটের একটি চা-বাগানের পরিবারের জীবনসংগ্রাম। পানির সংকট কীভাবে একটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে এবং একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থামিয়ে দিতে পারে, সেই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে চলচ্চিত্রটির কাহিনি। গল্পে দেখা যায়, পানির অভাবে চা-শ্রমিকের মেয়ে নিশির লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে বাড়িতে একটি নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা নিশিকে বিয়ে করতে চায় কাঠ ব্যবসায়ী লালচাঁন। এমন পরিস্থিতিতে নিশি ও তার পরিবারের সামনে তৈরি হয় কঠিন বাস্তবতা। চলচ্চিত্রটিতে চা-শ্রমিকের জীবন, দারিদ্র্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট, শিশুর শিক্ষার অধিকার এবং বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত গল্পটি সামাজিক সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনে।

বাংলাদেশ ও ইউরোপের সহযোগিতায় নির্মাণ
‘নিশি’ নির্মিত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স এবং ইউনেসকো ঢাকার সহযোগিতায়। চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে সিলেটের একটি চা-বাগান ও আশপাশের এলাকায়। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পোল্যান্ডের লজ ফিল্ম স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী নাতালিয়া পুসনিক। শুটিং শেষে চলচ্চিত্রটির চূড়ান্ত সম্পাদনা, রঙের কাজ এবং শব্দ সংযোজন করা হয়েছে পোল্যান্ডের বিখ্যাত লজ ফিল্ম স্কুলে। বাংলাদেশে নির্মিত একটি গল্পের কারিগরি কাজ আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন হওয়ায় চলচ্চিত্রটির নির্মাণপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা।

এর আগেও আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে ‘নিশি’

ভিজিআইকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম এমা অ্যাওয়ার্ড জিতে আলোচনায় এসেছিল ‘নিশি’। ওই পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটি প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া গ্রিন মন্টেনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১২তম আসরেও পুরস্কার পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার রাশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নেওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘নিশি’।

নির্মাতার চোখে এই অর্জনের গুরুত্ব
চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে নির্মাতা গোলাম রাব্বানী আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিশি একের পর এক রেকর্ড গড়ছ, সত্যিই এটা আনন্দের খবর। এই অর্জন শুধু আমাকে নয় আমাদের ফিল্ম ইতিহাসকে বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধ করবে।’ চা-বাগানের একটি পরিবারের সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নেওয়ায় বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা ও স্থানীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘নিশি’র ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্য বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। বিশেষ করে স্থানীয় গল্প, সামাজিক সংকট ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র যে আন্তর্জাতিক উৎসবেও দর্শক ও বিচারকদের কাছে পৌঁছাতে পারে, এই অর্জন তারই একটি উদাহরণ। সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া। 

কালের আলো/এসএআর/এসএ