৩৫ লাখ নিয়েও গান নয় লিপ-সিংক দালের মেহেদির
নবরাত্রির দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গান গাইতে উঠে বিতর্কে জড়ালেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দালের মেহেদি। মঞ্চে লাইভ গান না গেয়ে শুধু ঠোঁট মেলানোর অভিযোগ তুলে তাঁকে প্রকাশ্যেই ধমক দিয়েছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের ক্যাবিনেট মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল। একই সঙ্গে গায়কের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় মঞ্চে ওঠার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আলোচনা।
মঞ্চে উঠে গায়কের মুখোমুখি মন্ত্রী
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের তেহরি জেলার কুঞ্জপুরী মেলায় নবরাত্রি উৎসব চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছিলেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক দালের মেহেদি। এ সময় তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্যটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল। অভিযোগ, দালের মেহেদি সরাসরি গান না গেয়ে গানের সঙ্গে শুধু ঠোঁট মেলাচ্ছিলেন। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে মন্ত্রী নিজেই মঞ্চে উঠে গায়কের মুখোমুখি হন। এরপর প্রকাশ্যেই তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
‘নবরাত্রির পবিত্র অনুষ্ঠানে মদ খেয়ে এসেছেন’
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঞ্চে দালের মেহেদিকে উদ্দেশ করে সুবোধ উনিয়াল বলেন, নবরাত্রির মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রীর অভিযোগ, গায়ক মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। প্রকাশ্য মঞ্চে তাঁকে ধমক দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নবরাত্রির দুর্গা মাতার পবিত্র অনুষ্ঠান চলছে, আর আপনি মদ খেয়ে এসে এখানে গান গাইছেন, এটা মোটেই মানানসই নয়।’ এ সময় গায়কের কথা বলার ধরন নিয়েও আপত্তি জানান মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দালের মেহেদির কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি তো ঠিকমতো কথাই বলতে পারছেন না, গান আবার গাইবেন কীভাবে?’
৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েও লিপ-সিংকের অভিযোগ
অনুষ্ঠানে দালের মেহেদির পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুবোধ উনিয়াল। মন্ত্রীর অভিযোগ, প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়ার পরও গায়ক মঞ্চে লাইভ গান পরিবেশন করছিলেন না; বরং আগে থেকে রেকর্ড করা গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলাচ্ছিলেন। সংগীতজগতে এ ধরনের পরিবেশনাকে সাধারণত ‘লিপ-সিংক’ বলা হয়। এতে আগে থেকে রেকর্ড করা গানের সঙ্গে শিল্পী ঠোঁট মেলান। তবে সব ক্ষেত্রে লিপ-সিংক করা একই ধরনের অনিয়ম নয়; অনুষ্ঠানের শর্ত, পরিবেশনার ধরন এবং দর্শকদের কী জানানো হয়েছিল, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে। এই ঘটনায় মন্ত্রীর অভিযোগ সামনে আসার পর অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও গায়কের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অসুস্থতার কারণে কণ্ঠে সমস্যা হয়েছিল দাবি আয়োজকদের
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্ত্রী ও গায়কের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দালের মেহেদি সত্যিই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের দাবি, সেদিন গায়কের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। এ কারণে তাঁর কণ্ঠ দিয়ে ঠিকমতো স্বর বের হচ্ছিল না। ফলে পারফরম্যান্সে সমস্যা দেখা দেয় বলে তাঁদের বক্তব্য। আয়োজকদের এই বক্তব্য এবং মন্ত্রীর অভিযোগের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও ঘটনার বিষয়ে দালের মেহেদির নিজস্ব বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনার ভিডিও
মঞ্চে মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং গায়ককে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করার ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সংগীতশিল্পীর ভক্ত ও নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত মদ্যপ অবস্থায় মঞ্চে ওঠা কিংবা পারিশ্রমিক নিয়েও লাইভ গান না গাওয়ার অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সূত্র: এনডিটিভি
কালের আলো/জেএন/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]