খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি কীভাবে উন্নতি করেছেন, জানালেন জেনারেল আজিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি কীভাবে উন্নতি করেছেন, জানালেন জেনারেল আজিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ওই সময়কার মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

নিজের চার বছরের মেয়াদে মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য আটক, চোরাচালানকারী গ্রেপ্তার, বিজিবির সদস্য ও কর্মকর্তাদের জীবনমান উন্নয়নে গ্রহণ করেন ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: ইন্দো-প্রশান্ত সেনাপ্রধানদের রোহিঙ্গা সমস্যা ও ভবিষ্যত পরিণতি সম্পর্কে বললেন জেনারেল আজিজ

বিজিবি’র ডিজি থাকাকালীন সীমান্তবর্তী দেশগুলোর স্থলবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও নজর কাড়েন বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ প্রধান। রয়েল থাই আর্মির কমান্ডার ইন চিফের আমন্ত্রণে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গত সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ১৯ টি দেশের সেনাপ্রধানের অংশগ্রহণে ইন্দো-প্রশান্ত সেনাপ্রধান সম্মেলনে নিজের সেই অভিজ্ঞতার চিত্রই বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানালেন সেনাপ্রধান

প্রায় চার বছর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, স্থলবাহিনী, বিশেষভাবে সীমান্তসংলগ্ন দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা সহজ; কিন্তু সীমান্তবিরোধ, রাষ্ট্রবহির্ভূত সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড, আন্তদেশীয় অপতৎপরতা, ফৌজদারি অপরাধসহ নানা বাস্তব কারণে তা অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, সহযোগিতা বা তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির কারণে সৃষ্ট সামাজিক নৈরাজ্য, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রভাব এক দেশের সীমানা পেরিয়ে সন্নিহিত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’

রাজনৈতিক, সামরিক, পরিবেশগত ও মানবিক নিরাপত্তার সবকিছুই সম্পর্কিত ও পরস্পর নির্ভরশীল বলেও মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘প্রথাগত বা অপ্রথাগত যা-ই হোক না কেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রধান নিরাপত্তা হুমকিকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। এর রাষ্ট্রীয় সীমানা নেই।

এ সমস্যার সমাধান কেউ একা করতেও পারবে না। আগে কখনো এ-জাতীয় সংকট নিরসনে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজন পড়েনি। সামরিক বাহিনী জাতীয় ক্ষমতার অন্যতম মৌলিক উপাদান বলে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকাই প্রধান। একে অন্যের বিরুদ্ধে সমরশক্তি প্রয়োগ করে তা অর্জন করা যাবে না; বরং প্রয়োজন হবে পারস্পরিক সহায়তা, জ্ঞানের ও দক্ষতা বিনিময় এবং সমঝোতা’ যোগ করেন তিনি।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার যোগাযোগের সম্পর্ক থাকলেও মিয়ানমারের সঙ্গে তা ছিল না বলেও জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিজিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমি অবিলম্বে মিয়ানমার সফর করি এবং একাত্তরে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমার বিজিপির প্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাই।

আমার মিয়ানমার সফর দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী প্রধানদ্বয়ের সভার পর উভয় দেশের বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বিবার্ষিক বৈঠক এখনো অব্যাহত আছে। সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ত্রৈমাসিক বৈঠক ছাড়াও প্রয়োজন পড়লেই বৈঠক হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সুফল বয়ে এনেছে বলেও মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সীমান্তরক্ষীদের বিভিন্ন কমান্ড পর্যায়ে তথ্য বিনিময়, চোরাচালান রোধ, মানব পাচার, বিদ্রোহী, জঙ্গি ও অপরাধী দমনে সাফল্য নিশ্চিত করেছে; সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান এবং আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা ভারতের অভ্যন্তরে চোরাচালান ও মানব পাচারের কোনো তথ্য পেলে তা বিএসএফকে জানাই। এতে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। আমরা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিএসএফের সহায়তায় ভারতের অভ্যন্তর থেকে উদ্ধারও করে থাকি। এটা দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গেও আমরা এ ধরনের তথ্য বিনিময় করার চেষ্টা করে চলেছি।’

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে স্টাফ টকের কথা জানিয়ে এ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রথম স্টাফ টক অনুষ্ঠিত হয়। আমরা এখন মিয়ানমারে দ্বিতীয় স্টাফ টকের জন্য আলোচনা করছি।’

ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান আমাকে আগামী ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, বলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমিও মিয়ানমার কমান্ডার ইন চিফ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুনঃপুন বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত বা প্রয়োজনীয় সীমান্ত সম্মেলন অথবা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ ধরনের বৈঠক সীমান্ত সমস্যা নিরসনের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর পর্যায়ে সমঝোতা ও আস্থা তৈরি করছে।’

চার বছর আগে রচিত হয়েছিল যে ইতিহাস
কোনো ইস্যু ছাড়াই ব্যাটালিয়ন ও কোম্পানি পর্যায়ে পুনঃপুন সৌজন্য সভা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে কাঙ্খিত মাত্রার আস্থা সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন সেনাপ্রধান। জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ বিনিময়, শুটিং প্রতিযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত সেমিনার এবং পরিবারকল্যাণ সমিতি, স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের সফরের আয়োজন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে বিজিবির জটিল রোগী ভারতে বিএসএফের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। বিজিবির মহাপরিচালক থাকাকালে প্রধান অতিথি হিসেবে আমি বিএসএফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট ভারতের মধ্যপ্রদেশের টেকানপুর বিএসএফ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করি। ভারত-বাংলাদেশ মডেল অনুসরণ করে আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসেবে আমরা মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গেও সফর বিনিময় ও খেলাধুলার আয়োজন করছি।’

কালের আলো/এএ/এমএএএমকে

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন