খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি কীভাবে উন্নতি করেছেন, জানালেন জেনারেল আজিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি কীভাবে উন্নতি করেছেন, জানালেন জেনারেল আজিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ওই সময়কার মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

নিজের চার বছরের মেয়াদে মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য আটক, চোরাচালানকারী গ্রেপ্তার, বিজিবির সদস্য ও কর্মকর্তাদের জীবনমান উন্নয়নে গ্রহণ করেন ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: ইন্দো-প্রশান্ত সেনাপ্রধানদের রোহিঙ্গা সমস্যা ও ভবিষ্যত পরিণতি সম্পর্কে বললেন জেনারেল আজিজ

বিজিবি’র ডিজি থাকাকালীন সীমান্তবর্তী দেশগুলোর স্থলবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও নজর কাড়েন বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ প্রধান। রয়েল থাই আর্মির কমান্ডার ইন চিফের আমন্ত্রণে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গত সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ১৯ টি দেশের সেনাপ্রধানের অংশগ্রহণে ইন্দো-প্রশান্ত সেনাপ্রধান সম্মেলনে নিজের সেই অভিজ্ঞতার চিত্রই বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানালেন সেনাপ্রধান

প্রায় চার বছর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, স্থলবাহিনী, বিশেষভাবে সীমান্তসংলগ্ন দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা সহজ; কিন্তু সীমান্তবিরোধ, রাষ্ট্রবহির্ভূত সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড, আন্তদেশীয় অপতৎপরতা, ফৌজদারি অপরাধসহ নানা বাস্তব কারণে তা অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, সহযোগিতা বা তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির কারণে সৃষ্ট সামাজিক নৈরাজ্য, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রভাব এক দেশের সীমানা পেরিয়ে সন্নিহিত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’

রাজনৈতিক, সামরিক, পরিবেশগত ও মানবিক নিরাপত্তার সবকিছুই সম্পর্কিত ও পরস্পর নির্ভরশীল বলেও মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘প্রথাগত বা অপ্রথাগত যা-ই হোক না কেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রধান নিরাপত্তা হুমকিকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। এর রাষ্ট্রীয় সীমানা নেই।

এ সমস্যার সমাধান কেউ একা করতেও পারবে না। আগে কখনো এ-জাতীয় সংকট নিরসনে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজন পড়েনি। সামরিক বাহিনী জাতীয় ক্ষমতার অন্যতম মৌলিক উপাদান বলে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকাই প্রধান। একে অন্যের বিরুদ্ধে সমরশক্তি প্রয়োগ করে তা অর্জন করা যাবে না; বরং প্রয়োজন হবে পারস্পরিক সহায়তা, জ্ঞানের ও দক্ষতা বিনিময় এবং সমঝোতা’ যোগ করেন তিনি।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার যোগাযোগের সম্পর্ক থাকলেও মিয়ানমারের সঙ্গে তা ছিল না বলেও জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিজিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমি অবিলম্বে মিয়ানমার সফর করি এবং একাত্তরে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমার বিজিপির প্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাই।

আমার মিয়ানমার সফর দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী প্রধানদ্বয়ের সভার পর উভয় দেশের বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বিবার্ষিক বৈঠক এখনো অব্যাহত আছে। সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ত্রৈমাসিক বৈঠক ছাড়াও প্রয়োজন পড়লেই বৈঠক হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সুফল বয়ে এনেছে বলেও মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সীমান্তরক্ষীদের বিভিন্ন কমান্ড পর্যায়ে তথ্য বিনিময়, চোরাচালান রোধ, মানব পাচার, বিদ্রোহী, জঙ্গি ও অপরাধী দমনে সাফল্য নিশ্চিত করেছে; সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান এবং আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা ভারতের অভ্যন্তরে চোরাচালান ও মানব পাচারের কোনো তথ্য পেলে তা বিএসএফকে জানাই। এতে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। আমরা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিএসএফের সহায়তায় ভারতের অভ্যন্তর থেকে উদ্ধারও করে থাকি। এটা দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গেও আমরা এ ধরনের তথ্য বিনিময় করার চেষ্টা করে চলেছি।’

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে স্টাফ টকের কথা জানিয়ে এ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রথম স্টাফ টক অনুষ্ঠিত হয়। আমরা এখন মিয়ানমারে দ্বিতীয় স্টাফ টকের জন্য আলোচনা করছি।’

ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান আমাকে আগামী ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, বলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমিও মিয়ানমার কমান্ডার ইন চিফ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুনঃপুন বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত বা প্রয়োজনীয় সীমান্ত সম্মেলন অথবা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ ধরনের বৈঠক সীমান্ত সমস্যা নিরসনের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর পর্যায়ে সমঝোতা ও আস্থা তৈরি করছে।’

চার বছর আগে রচিত হয়েছিল যে ইতিহাস
কোনো ইস্যু ছাড়াই ব্যাটালিয়ন ও কোম্পানি পর্যায়ে পুনঃপুন সৌজন্য সভা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে কাঙ্খিত মাত্রার আস্থা সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন সেনাপ্রধান। জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ বিনিময়, শুটিং প্রতিযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত সেমিনার এবং পরিবারকল্যাণ সমিতি, স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের সফরের আয়োজন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে বিজিবির জটিল রোগী ভারতে বিএসএফের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। বিজিবির মহাপরিচালক থাকাকালে প্রধান অতিথি হিসেবে আমি বিএসএফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট ভারতের মধ্যপ্রদেশের টেকানপুর বিএসএফ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করি। ভারত-বাংলাদেশ মডেল অনুসরণ করে আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসেবে আমরা মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গেও সফর বিনিময় ও খেলাধুলার আয়োজন করছি।’

কালের আলো/এএ/এমএএএমকে

বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নতুন করে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত মান ও ফলাফল নিশ্চিত করার আন্দোলন হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষার মান, বরাদ্দ, ব্যয়ের কাঠামো, ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাখাত নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বা বয়ান চালু রয়েছে। কেউ বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা অগ্রাধিকার বুঝি বরাদ্দ দিয়ে। বরাদ্দ যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে সেই অগ্রাধিকার বাস্তব নয়। আবার শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, সেই বরাদ্দ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা উচ্চশিক্ষা— কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্যয় অবকাঠামো নির্মাণে যাচ্ছে নাকি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। কেবল ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না।

সরকারের উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু উপবৃত্তি দিয়ে শিক্ষার ব্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিবারের আরো নানা ধরনের খরচ রয়েছে, যা দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বড় চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবাই শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। মানুষ মনে করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার ভেতরে ধরে রাখা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধান না হলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার অগ্রগতি হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও তুলনামূলক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনের শ্রমবাজার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে প্রায় ৫০ লাখ কাজের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই নতুন ধরনের কাজের জন্য দেশের তরুণ সমাজ প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করার। ইংরেজিতে যেটা বলা হয়, আগে ছিল ‘ফাইট ফর এডুকেশন’, এখন সময় এসেছে ‘ফাইট ফর আউটকাম অব এডুকেশন’ এর। শিক্ষা আন্দোলনকে শুধু কারিগরি মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি জোট গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা সংস্কার ও মানোন্নয়নের দাবিকে আরো জোরালোভাবে সামনে আনা যায়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়। পরে তাদের ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদেশের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ওই ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ৭১ টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আপাতত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৫৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে একদিনে (গত ২৪ ঘণ্টায়) হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৫২৪ জন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এছাড়া হামের উপসর্গে বরিশালে ১ জন, ঢাকায় ৫ জন, খুলনায় ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন, রাজশাহীতে ২ জন ও সিলেটে ১ জন মারা গেছে।

এর আগে ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন