খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা বিতর্কিত করার নেপথ্য রহস্য ফাঁস!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা বিতর্কিত করার নেপথ্য রহস্য ফাঁস!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মনোভাব কঠোর করেছে সরকার। তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ক্যাম্পগুলোর আইনশৃঙ্খলার দিকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোরদারের লক্ষে ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর এমন সময়েই এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে গুটিকয়েক রোহিঙ্গা মিডিয়া।

মূলত এর মাধ্যমেই শুরু হয়েছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে বিশ্বপরিমন্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখা বাহিনীটির উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রশ্নবোধক অবস্থানে দাঁড় করাতে ষড়যন্ত্রকারী ওই মহলটি নিজেদের কুটকৌশল অব্যাহত রেখেছেন। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছে দেশি ও আন্তর্জাতিক নানা শক্তি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুকৌশলে বাঁধা সৃষ্টি করা শতাধিক দেশ-বিদেশী এনজিও নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখেই পুরনো স্টাইলেই রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করছে। এমন অশুভ তৎপরতার সঙ্গেই রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টির কোন যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

অন্তত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোন সদস্য এরকম অপরাধ করে থাকলেও তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তিই নিশ্চিত করা হবে। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেনা সদস্য কর্তৃক একজন রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ সেনা সদরদপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছে।

এ ঘটনায় একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, বাংলাদেশে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে। তার বড় অংশই আসে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর। এরপর জাতিসংঘসহ নানা সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সে সময় রোহিঙ্গারা আট দফা দাবি তুলেছিল।

এবারও ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের একটি সম্ভাব্য তারিখ মিয়ানমারের তরফ থেকে প্রকাশের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা দেখা দেয়। এবারো মিয়ানমারের অনীহায় আটকে যায় প্রত্যাবাসন। এরপর নিজেদের বাংলাদেশে দুই বছর উপলক্ষে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে বড় রকমের শোডাউন দেশকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় বিতাড়িত হওয়ায় মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পর কোন আইনকানুনের তোয়াক্কা না করেই এমন সমাবেশের পর নড়েচড়ে বসে সরকার। রোহিঙ্গা ও তাদের নিয়ে সক্রিয় এনজিওদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের বিভিন্ন ধরণের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। এতে তারা ভেতরে ভেতরে ছিলেন নাখোশ।

আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা, সিকিউরিটি ক্যামেরা বসানো, রাতে নিরাপত্তা টহল, রোহিঙ্গাদের বাইরে রাতে ক্যাম্পে অবস্থান না করা, সমাবেশ নিষিদ্ধ করা, মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ইয়াবা, মাদক পাচারকারী, নারী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, এনজিও ও দাতা সংস্থাগুলোর নিয়োগ, আয় ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাইডলাইন তৈরি এসব কারণে এনজিও ও দাতাসংস্থাগুলোরও মুখ বেজার।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করার পর তাদের মাঝে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। ওই সময় থেকেই তাদের টার্গেট হয়ে উঠে সেনাবাহিনী। আর এরই অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন অপপ্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন একাধিক সূত্র।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মনে করছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সেনবাবাহিনীর ওপর অর্পিত হওয়ার আগে কৌশলে আরসা ও আল ইয়াকিন নামক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাদের সৃষ্ট জঙ্গি সংগঠন রাতের বেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে। ওই সময় মাদক, নারী পাচারকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম বেড়েছিল।

হত্যা ও নির্যাতনের আতঙ্কে সাধারণ রোহিঙ্গারা সকল নির্যাতন, শোষণ, জুলুম, অপকর্ম চোখ বুজে সহ্য করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, রাতে নিরাপত্তা টহল ও ক্যাম্পে বহিরাগত কাউকে অবস্থান না করার নির্দেশ বাস্তবায়ন হওয়ায় ষড়যন্ত্রকারী চক্র নিজেদের স্বার্থে মিডিয়াবাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই সব ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। তাদের সাম্প্রতিক অপতৎপরতায় এ বিষয়টিই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোট ১২৩টি দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে ২১টি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও রয়েছে ৫টি। অন্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাজ করছে। এসব এনজিও বিভিন্নভাবে অর্থ এনে রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয়ের কথা বললেও এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে কর্মকর্তাদের পেছনে।

কর্মকর্তাদের দামি গাড়ি, উচ্চ বেতনে চাকরি ও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ বিলাসী জীবনযাপনে এসব অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহর, টেকনাফ ও উখিয়ায় এখন পর্যটন মৌসুম না থাকলেও হোটেলে জায়গা পাওয়া কঠিন। দামি হোটেলগুলো এনজিও কর্মকর্তারা নিয়ে নিয়েছেন। মাসের পর মাস তারা পুরো হোটেল ব্যবহার করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিদেশী অনেক গণমাধ্যম কক্সবাজারে তারকা হোটেলগুলোতে বিশাল অফিস ও জনবল নিয়ে বসেছে। তাঁরা শুধু রোহিঙ্গাদের নিউজ করার জন্য অর্থ ব্যয় করছে বিষয়টি তেমন নয় মোটেও। তাদের চোখে রোহিঙ্গা তরুণীদের নিয়ে এনজিও কর্মকর্তাদের আমোদ ফুর্তির ঘটনা সংবাদ হতো।

স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম কর্মীরা বলছেন, বিদেশি এনজিওগুলো কক্সবাজারের ফাইভ স্টার মানের হোটেলগুলোতে রীতিমত ফ্লাট আকারে ভাড়া নিয়ে অফিস ও আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করছে। একই হোটেলের একই ফ্লোরের কিছু রুমে অফিস, কিছু রুমে বাসস্থান করে বসবাস করছে।

হোটেলের রুমগুলোতে নারী-পুরুষ পাশাপাশি থাকছে। নানা অনৈতিক কীর্তিকলাপ হচ্ছে ফ্রি স্টাইলেই। সুন্দরী নারীদের যোগ্যতা না থাকলেও অথবা কম যোগ্যতা সত্ত্বেও উচ্চ বেতনে চাকরি দিয়ে রেখেছে কীজন্য এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে।

একই সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সুন্দরী তরুণীদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের নামে ৩ থেকে ৭ দিনের জন্য কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে নিয়ে রেখে ফুর্তি করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তার নামে টাকা এনে ৭০ শতাংশেরও অধিক অর্থ ম্যানেজমেন্ট খাতে ব্যয় করে সে অর্থ দিয়ে ফুর্তি করার সংবাদ কোথাও কেন প্রকাশিত হচ্ছে না সেই প্রশ্নও বড় দাগে উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার, টেকনাফের বহু হোটেল, রিসোর্টগুলোতে এখন রোহিঙ্গা তরুণীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির রমরমা ব্যবসা চলছে। এ নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো কার্যত নীরবতা অবলম্বন করছে। রোহিঙ্গা তরুণীদের পাচারকারীরা সারা দেশে ও দেশের বাইরে পতিতালয়গুলোতে বিক্রি করে দিচ্ছে, রোহিঙ্গারা পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশি নাগরিক সনদপত্র ও পাসপোর্ট গ্রহণ করছে- সেসব বিষয়েও সংবাদ হচ্ছে না।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে রয়েছে বিভিন্ন এনজিওর ছদ্মাবরণে থাকা অনেক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। অনেকে রোহিঙ্গা মেয়ে বিয়ে করে রাতে ক্যাম্পেই অবস্থান করে। তাদের কেউ কেউ এই অঞ্চলকে আরেকটি মুসুল, রাকা, বানানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গাদের এদেশে থাকার সঙ্গে অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিওর তহবিল, কর্মীদের বেতন নির্ভর করে রোহিঙ্গাদের থাকার ওপর। রোহিঙ্গারা চলে গেলে তাদের এসব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্যই তাঁরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চান না।

রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। দিন পাঁচেক আগে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চারটি গোলন্দাজ ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যকর্মীদের তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যাম্প ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বেড়া নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

এছাড়া রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্পের বাইরে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে না পারে সেজন্য তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব সরকার সেনাবাহিনীকে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো চিন্তাকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হবে উল্লেখ করে জেনারেল আজিজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে চিন্তা-চেতনা সেটাকে বাস্তবায়ন করা, সেটাকে সমর্থন দেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব।’

কালের আলো/এমএইচ/এমএএএমকে

কোরবানির দুয়ার থেকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন চিড়িয়াখানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
কোরবানির দুয়ার থেকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন চিড়িয়াখানায়

ভাগ্য কাকে কোথায় নিয়ে যায়, তা যেন আরও একবার মানব জাতিকে ভাবতে বসালো নারায়ণগঞ্জের খামারের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পে’র ঘটনা। কোরবানির দুয়ার থেকে পশুটির ঠিকানা এখন মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম রাখায় রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি। চেহারা এবং চুলের ঢং অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় সেটির নামই রেখে দেওয়া হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ব্যাপক আলোচনায় আসার ফলে দ্রুতই চড়া দামে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল মহিষটি। কিনেছিলেন কেরাণীগঞ্জের এক ক্রেতা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিনে কোরবানি দেওয়ার জন্যই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চড়া দামে কিনেছিলেন ওই ক্রেতা।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত দিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে মহিষটি ফিরিয়ে নিয়ে বুধবার (২৭ মে) কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর থেকে মহিষটি বিকেল সাড়ে ৫টার সময় কেরানীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। সেখানে থেকে নেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানায়।

বুধবার (২৭ মে) রাতে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ট্রাম্প নামের মহিষটাকে রাতেই চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। আমরা একটা শেডে ওটাকে রাখার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তার খাওয়ার সব ব্যবস্থা করেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।’

সূত্রে জানা যায়, মহিষটিকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে টাকা ফেরত দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে আগের মতোই লালন-পালন করা হবে।

মূলত সম্ভাব্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে ক্রেতার কাছ থেকে সেটি ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে। আপাতত মহিষটিকে আগের মতোই নিবিড় পর্যবেক্ষণে লালন-পালন করা হবে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, মহিষটিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও নাকি সেটিকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। কিন্তু পরে জানা যায়, পোস্ট দেওয়ার খবর ভুয়া।

তবে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প নয়, এবারের কোরবানির হাটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নামেও একটি মহিষ আছে। এছাড়া বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমারের নামে রয়েছে একটি গরুও।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ