খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা বিতর্কিত করার নেপথ্য রহস্য ফাঁস!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা বিতর্কিত করার নেপথ্য রহস্য ফাঁস!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মনোভাব কঠোর করেছে সরকার। তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ক্যাম্পগুলোর আইনশৃঙ্খলার দিকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোরদারের লক্ষে ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর এমন সময়েই এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে গুটিকয়েক রোহিঙ্গা মিডিয়া।

মূলত এর মাধ্যমেই শুরু হয়েছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে বিশ্বপরিমন্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখা বাহিনীটির উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রশ্নবোধক অবস্থানে দাঁড় করাতে ষড়যন্ত্রকারী ওই মহলটি নিজেদের কুটকৌশল অব্যাহত রেখেছেন। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছে দেশি ও আন্তর্জাতিক নানা শক্তি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুকৌশলে বাঁধা সৃষ্টি করা শতাধিক দেশ-বিদেশী এনজিও নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখেই পুরনো স্টাইলেই রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করছে। এমন অশুভ তৎপরতার সঙ্গেই রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টির কোন যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

অন্তত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোন সদস্য এরকম অপরাধ করে থাকলেও তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তিই নিশ্চিত করা হবে। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেনা সদস্য কর্তৃক একজন রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ সেনা সদরদপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছে।

এ ঘটনায় একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, বাংলাদেশে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে। তার বড় অংশই আসে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর। এরপর জাতিসংঘসহ নানা সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সে সময় রোহিঙ্গারা আট দফা দাবি তুলেছিল।

এবারও ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের একটি সম্ভাব্য তারিখ মিয়ানমারের তরফ থেকে প্রকাশের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা দেখা দেয়। এবারো মিয়ানমারের অনীহায় আটকে যায় প্রত্যাবাসন। এরপর নিজেদের বাংলাদেশে দুই বছর উপলক্ষে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে বড় রকমের শোডাউন দেশকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় বিতাড়িত হওয়ায় মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পর কোন আইনকানুনের তোয়াক্কা না করেই এমন সমাবেশের পর নড়েচড়ে বসে সরকার। রোহিঙ্গা ও তাদের নিয়ে সক্রিয় এনজিওদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের বিভিন্ন ধরণের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। এতে তারা ভেতরে ভেতরে ছিলেন নাখোশ।

আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা, সিকিউরিটি ক্যামেরা বসানো, রাতে নিরাপত্তা টহল, রোহিঙ্গাদের বাইরে রাতে ক্যাম্পে অবস্থান না করা, সমাবেশ নিষিদ্ধ করা, মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ইয়াবা, মাদক পাচারকারী, নারী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, এনজিও ও দাতা সংস্থাগুলোর নিয়োগ, আয় ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাইডলাইন তৈরি এসব কারণে এনজিও ও দাতাসংস্থাগুলোরও মুখ বেজার।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করার পর তাদের মাঝে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। ওই সময় থেকেই তাদের টার্গেট হয়ে উঠে সেনাবাহিনী। আর এরই অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন অপপ্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন একাধিক সূত্র।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মনে করছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সেনবাবাহিনীর ওপর অর্পিত হওয়ার আগে কৌশলে আরসা ও আল ইয়াকিন নামক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাদের সৃষ্ট জঙ্গি সংগঠন রাতের বেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে। ওই সময় মাদক, নারী পাচারকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম বেড়েছিল।

হত্যা ও নির্যাতনের আতঙ্কে সাধারণ রোহিঙ্গারা সকল নির্যাতন, শোষণ, জুলুম, অপকর্ম চোখ বুজে সহ্য করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, রাতে নিরাপত্তা টহল ও ক্যাম্পে বহিরাগত কাউকে অবস্থান না করার নির্দেশ বাস্তবায়ন হওয়ায় ষড়যন্ত্রকারী চক্র নিজেদের স্বার্থে মিডিয়াবাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই সব ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। তাদের সাম্প্রতিক অপতৎপরতায় এ বিষয়টিই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোট ১২৩টি দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে ২১টি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও রয়েছে ৫টি। অন্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাজ করছে। এসব এনজিও বিভিন্নভাবে অর্থ এনে রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয়ের কথা বললেও এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে কর্মকর্তাদের পেছনে।

কর্মকর্তাদের দামি গাড়ি, উচ্চ বেতনে চাকরি ও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ বিলাসী জীবনযাপনে এসব অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহর, টেকনাফ ও উখিয়ায় এখন পর্যটন মৌসুম না থাকলেও হোটেলে জায়গা পাওয়া কঠিন। দামি হোটেলগুলো এনজিও কর্মকর্তারা নিয়ে নিয়েছেন। মাসের পর মাস তারা পুরো হোটেল ব্যবহার করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিদেশী অনেক গণমাধ্যম কক্সবাজারে তারকা হোটেলগুলোতে বিশাল অফিস ও জনবল নিয়ে বসেছে। তাঁরা শুধু রোহিঙ্গাদের নিউজ করার জন্য অর্থ ব্যয় করছে বিষয়টি তেমন নয় মোটেও। তাদের চোখে রোহিঙ্গা তরুণীদের নিয়ে এনজিও কর্মকর্তাদের আমোদ ফুর্তির ঘটনা সংবাদ হতো।

স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম কর্মীরা বলছেন, বিদেশি এনজিওগুলো কক্সবাজারের ফাইভ স্টার মানের হোটেলগুলোতে রীতিমত ফ্লাট আকারে ভাড়া নিয়ে অফিস ও আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করছে। একই হোটেলের একই ফ্লোরের কিছু রুমে অফিস, কিছু রুমে বাসস্থান করে বসবাস করছে।

হোটেলের রুমগুলোতে নারী-পুরুষ পাশাপাশি থাকছে। নানা অনৈতিক কীর্তিকলাপ হচ্ছে ফ্রি স্টাইলেই। সুন্দরী নারীদের যোগ্যতা না থাকলেও অথবা কম যোগ্যতা সত্ত্বেও উচ্চ বেতনে চাকরি দিয়ে রেখেছে কীজন্য এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে।

একই সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সুন্দরী তরুণীদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের নামে ৩ থেকে ৭ দিনের জন্য কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে নিয়ে রেখে ফুর্তি করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তার নামে টাকা এনে ৭০ শতাংশেরও অধিক অর্থ ম্যানেজমেন্ট খাতে ব্যয় করে সে অর্থ দিয়ে ফুর্তি করার সংবাদ কোথাও কেন প্রকাশিত হচ্ছে না সেই প্রশ্নও বড় দাগে উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার, টেকনাফের বহু হোটেল, রিসোর্টগুলোতে এখন রোহিঙ্গা তরুণীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির রমরমা ব্যবসা চলছে। এ নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো কার্যত নীরবতা অবলম্বন করছে। রোহিঙ্গা তরুণীদের পাচারকারীরা সারা দেশে ও দেশের বাইরে পতিতালয়গুলোতে বিক্রি করে দিচ্ছে, রোহিঙ্গারা পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশি নাগরিক সনদপত্র ও পাসপোর্ট গ্রহণ করছে- সেসব বিষয়েও সংবাদ হচ্ছে না।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে রয়েছে বিভিন্ন এনজিওর ছদ্মাবরণে থাকা অনেক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। অনেকে রোহিঙ্গা মেয়ে বিয়ে করে রাতে ক্যাম্পেই অবস্থান করে। তাদের কেউ কেউ এই অঞ্চলকে আরেকটি মুসুল, রাকা, বানানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গাদের এদেশে থাকার সঙ্গে অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিওর তহবিল, কর্মীদের বেতন নির্ভর করে রোহিঙ্গাদের থাকার ওপর। রোহিঙ্গারা চলে গেলে তাদের এসব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্যই তাঁরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চান না।

রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। দিন পাঁচেক আগে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চারটি গোলন্দাজ ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যকর্মীদের তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যাম্প ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বেড়া নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

এছাড়া রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্পের বাইরে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে না পারে সেজন্য তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব সরকার সেনাবাহিনীকে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো চিন্তাকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হবে উল্লেখ করে জেনারেল আজিজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে চিন্তা-চেতনা সেটাকে বাস্তবায়ন করা, সেটাকে সমর্থন দেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব।’

কালের আলো/এমএইচ/এমএএএমকে

যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রের তলায়?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রের তলায়?

যুদ্ধের ময়দান সব সময় চোখে দেখা যায় না। কখনও তা চলে সাইবার জগতে, কখনও আকাশের স্যাটেলাইটে। আর এবার আশঙ্কার কেন্দ্র হাজার হাজার মিটার গভীর সমুদ্র—যেখানে নীরবে ছড়িয়ে আছে বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ধমনি। আর্কটিকের বরফঢাকা জলের নিচে সেই অদৃশ্য অবকাঠামোকে ঘিরেই রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, নরওয়ের স্ভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে রাশিয়ার গভীর সমুদ্র যুদ্ধ ইউনিট জিইউজিআইয়ের তৎপরতা শনাক্ত করে ব্রিটেন, নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ, রুশ বাহিনী এমন একটি প্রযুক্তি পরীক্ষা করছিল, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতের সময় সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনও কেবল কাটা হয়নি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল মূলত প্রযুক্তি পরীক্ষার একটি মহড়া। কিন্তু সেই মহড়াই পশ্চিমা নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্ভালবার্ডের কেবল গুরুত্বপূর্ণ
সমুদ্রতলের ফাইবার-অপটিক কেবলকে সাধারণত ইন্টারনেটের অবকাঠামো হিসেবে দেখা হলেও এর গুরুত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি এসব কেবলের মাধ্যমে সামরিক তথ্য, স্যাটেলাইট-নির্ভর ডেটা এবং রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও প্রবাহিত হয়।

স্ভালবার্ডের সঙ্গে নরওয়ের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষাকারী কেবলগুলো তাই আর্কটিকের একটি কৌশলগত সম্পদ। সেখানে কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নয়, গোয়েন্দা ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই সমুদ্রের নিচের অবকাঠামো এখন ন্যাটোর কাছে স্থলভাগের সামরিক স্থাপনার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

‘চিহ্নহীন’ হামলার ভয়
এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক প্রযুক্তিটি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার গভীর সমুদ্র ইউনিট এমন সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে থাকা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব হতে পারে, অথচ হামলার উৎস শনাক্ত করা কঠিন হবে। প্রচলিত সামরিক হামলার ক্ষেত্রে আক্রমণের প্রমাণ থাকে।

কিন্তু সমুদ্রের গভীরে কোনও কেবল অচল হয়ে গেলে প্রথম মুহূর্তে বোঝাই কঠিন হতে পারে—এটি দুর্ঘটনা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা। এই ‘অস্বীকারযোগ্যতা’ই হাইব্রিড যুদ্ধের বড় অস্ত্র। সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না করেও প্রতিপক্ষের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করা যায়।

ন্যাটোর নজরদারি বাড়ছে
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ও পশ্চিমের সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে। এর মধ্যে বাল্টিক সাগর থেকে উত্তর ইউরোপীয় জলসীমা—সর্বত্র সমুদ্রতলের কেবল, গ্যাস পাইপলাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ব্রিটেন ও নরওয়ে আগেই অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার জিইউজিআই আর্কটিক ও উত্তর ইউরোপের জলসীমায় গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এবারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রও নজরদারি অভিযানে যুক্ত ছিল বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি।

নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোরে স্যান্ডভিকের বক্তব্যও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে। তাঁর ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করার যেকোনও প্রচেষ্টা শনাক্ত করা হবে এবং তার পরিণতি হবে। এই বার্তাটি শুধু রাশিয়ার উদ্দেশে নয়; সমুদ্রতলের অবকাঠামো যে এখন ন্যাটোর নিরাপত্তা কৌশলের অংশ, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে।

সামনে ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’
রাশিয়া এ ধরনের অভিযোগ নিয়মিত অস্বীকার করে এসেছে। ফলে আর্কটিকের এবারের ঘটনাকে সরাসরি নাশকতার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বড় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত—ভবিষ্যৎ সংঘাতে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার জন্য সামরিক ঘাঁটি বা শহর আক্রমণই একমাত্র পথ নাও হতে পারে। একটি কেবল বিচ্ছিন্ন হলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকিং, ইন্টারনেট, সামরিক যোগাযোগ, স্যাটেলাইট ডেটা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। আর হামলাটি যদি এমনভাবে করা যায়, যার উৎস শনাক্ত করাই কঠিন, তাহলে প্রতিক্রিয়া জানানোও হয়ে উঠবে জটিল।

এই কারণেই আর্কটিকের বরফের নিচে রুশ তৎপরতা এখন শুধু একটি সামরিক মহড়ার গল্প নয়। এটি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য নতুন মানচিত্রের ইঙ্গিত—যেখানে গোলাবারুদের শব্দ শোনা যাবে না, বিস্ফোরণের আগুন দেখা যাবে না; অথচ একদিন হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যেতে পারে একটি দেশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ধমনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন আর তরুণদের নানা সৃজনশীল ভাবনায় মুখর হয়ে উঠেছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

দেশীয় তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে বাজারের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেলায় ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পরিবেশবান্ধব ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন।

এরই মধ্যে এক তরুণ উদ্ভাবক চা বানানোর পর ফেলে দেওয়া চায়ের পাতা থেকে তৈরি করেছেন ‘চায়ের কয়লা’।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ। তরুণদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

নতুন উদ্ভাবন প্রসঙ্গে টিকোলের ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মশিয়ুর রহমান খান আসিফ বলেন, ‘আমি ফেলনা চা-পাতা বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শুকানোর মাধ্যমে কাঠকয়লার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে চা-পাতার কয়লা তৈরি করছি। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব ও গাছ রক্ষায় সহায়তা করবে, তেমনি চায়ের বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা উড চারকোল ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এর চমৎকার বিকল্প হতে পারে এই ‘টিকোল’ বা চা-পাতার কয়লা। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। তাই গাছ রক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। বারবিকিউ পার্টিতে উড চারকোলের পরিবর্তে চা-পাতার বর্জ্য থেকে তৈরি কয়লা ব্যবহার করলে তা বন সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিজ্ঞানের এই অভিনব ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ির সবজির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি অর্গানিক সার ছাদবাগানের গাছে ব্যবহার করলে গাছের বৃদ্ধি ৫০ শতাংশের বেশি হয় বলেও জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ই-জিপির কার্যপদ্ধতি, সুযোগ-সুবিধা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে রাজধানীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

  • দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
  • ই-জিপিতে দক্ষতা বাড়াতে বিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ
  • সক্ষমতা উন্নয়নে বিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের মহাসচিব ড. মো. হেলাল উদ্দিন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি ই-জিপির কারিগরি ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি ক্রয়ের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন থেকে দরপত্র—ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
র্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, দরপত্রের নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ই-জিপি কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কী এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এর কার্যকর ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়।

ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দাখিল এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-জিপির ভূমিকা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, সরকারি ক্রয়ে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।

সরকারি ক্রয়ে বাড়বে অংশগ্রহণ
বিসিআই সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবসায়ীদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিসিআইয়ের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাই ও প্রশিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার কারণে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা এবং ই-জিপির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-জিপির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আইন ও বিধিমালার জ্ঞানকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সরকারি ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিসিআই।

কালের আলো/এম/এএইচ