খুঁজুন
                               
, ,
           

সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

কোনভাবেই থামছে না ভয়ঙ্কর ঘাতক করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা। সংক্রমণ থামাতে পুরো দুনিয়া এখন ‘লক ডাউন’। গোটা বিশ্বের মতোই করোনা মোকাবেলার যুদ্ধে শামিল হয়েছে বাংলাদেশ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবল থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষায় সাধ্যমতো কাজ করছে সরকার।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

সরকারি ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক-রেলওয়ে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্ধ রয়েছে দেশের সব সুপার মার্কেট-মার্কেট। মানুষে মানুষে দূরত্ব বজায় রাখতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারি প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে দেশজুড়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

দেশের ৬২ টি জেলায় সেনাবাহিনীর ৫৪৬ টি দল টহলের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা, জনসমাগমের পয়েন্টগুলোতে মাইকিংসহ জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা বা বিভাগীয় শহরে কোন ক্যাম্প স্থাপন না করে প্রতিটি এলাকার ক্যান্টনমেন্ট থেকেই ছুটছেন সেনা সদস্যরা।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সীমিত যান চলাচলের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাইকমান্ড নিজেদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে পুরোমাত্রায় কাজে লাগাচ্ছে।

দুর্যোগকালীন সময়ে সড়কপথ ব্যবহার না করে প্রতিটি জেলার সেনাবাহিনীর টিমের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল সরঞ্জামাদি পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এভিয়েশন গ্রুপের একাধিক হেলিকপ্টার ও কাসা বিমান।

দিন দিন আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যের ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে আনছে সেনাবাহিনী। উদ্ভুত পরিস্থিতির আশঙ্কা থেকেই দেশের প্রতিটি ক্যান্টনমেন্টের সামরিক হাসপাতালসমূহকেও (সিএমএইচ) প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

আবার প্রতিটি জেলাতেই মেডিকেল সহায়তার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই সাভার, কুমিল্লা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধও বিতরণ করছেন সেনা সদস্যরা। খবর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের।

জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে করোনায় প্রতি মিনিটে নতুন করে ৫৫ জন আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিটি মিনিটে মরণঘাতী এই ভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে চারটির বেশি প্রাণ। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যাও।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত রূপ পাল্টানোয় প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ ও কিশোররাও ঝুঁকিতে রয়েছে, বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আরও ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জন। ২৪ ঘন্টায় ৫১৩ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৪ জনকে।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

প্রতি মুহুর্তে রূপ বদল করছে ভয়ঙ্কর এ ছোঁয়াচে রোগ। ফলে দেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ১১ দিন আগে থেকেই সরকারের নির্দেশে জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে মাঠে নামে সেনাবাহিনী।

করোনার প্রভাব ঠেকাতে সবাইকে ঘরবন্দি থাকতে উৎসাহিত করতে সেই থেকেই দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলো চষে বেড়াচ্ছেন সেনা সদস্যরা। তারা নিজেরা সড়কে সড়কে ও যানবাহনে জীবাণু নাশক ছিটিয়ে মানুষকে নিরাপদ করছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

বাজারে বাজারে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারিও করছেন। এতো সব কর্মযজ্ঞ সেনা সদস্যরা করছেন নিজ নিজ জেলার ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করেই।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সূত্র জানায়, দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক কর্মকান্ডের বিষয়টি মনিটরিং করছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে তিনি এ বিষয়েও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করছেন। আবার প্রতিদিনের কর্মকান্ডের সারসংক্ষেপ পৌঁছে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও।

একই সূত্র নিশ্চিত করছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে সরকার। ফলে সড়কে সড়কে শুধুমাত্র সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলের গাড়ি রয়েছে।

এমন অবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করা সেনা সদস্যদের কাছে কাঙ্খিত মেডিকেল সরঞ্জামাদি পৌঁছে দিতে নিজেদের যান ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয় সেনাবাহিনী।  

এক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থানরত সেনা সদস্যদের হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাস্ক, হ্যান্ড-স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন মেডিকেল সরঞ্জামাদি পৌঁছে দিতে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের হেলিকপ্টার ও কাসা বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের হেলিকপ্টার ও কাসা বিমানে এসব সরঞ্জামাদি পৌঁছে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত যুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিচ্ছে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ। মাঠ পর্যায়ে জীবনবাজি রাখা সেনা সদস্যরা নিজেদের সুরক্ষায় এসব মাস্ক, হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতেও তুলে দিচ্ছেন।

আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত শান্তিকালীন সময়ে আর্মি এভিয়েশন সেনা বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন অনুশীলন ও মহড়ায় অংশহণ, জরুরী চিকিৎসার জন্য রোগী স্থানান্তর, সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডে জরুরি প্রয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।

এসব কর্মকান্ডের পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে আকাশ পর্যবেক্ষক হিসেবে গোলা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি রিইনফোর্সমেন্ট সহায়তা, কমান্ডো অপারেশনে সহায়তা, জরুরি রশদ সরবরাহ ও যুদ্ধক্ষেত্রে রোগী স্থানান্তরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা রয়েছে ১৯৭৮ সাল থেকে তেজগাঁও পুরাতন বিমান বন্দর এলাকা থেকে কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসা আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ।

সূত্রটির মতে, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের বিমান বহরে সেসনা-১৫২ এ্যারোব্যাট, সেসনা গ্রান্ড ক্যারাভান সিই-২০৮বি বিমান, বেল-২০৬ এল ৪ হেলিকপ্টার, ইউরোকপ্টার ডফিন এএস ৩৬৫ এন৩+, এমআই ১৭১ এস এইচ হেলিকপ্টার এবং কাসা সি-২৯৫ ডব্লিউ বিমান ও ৪ টি ডায়মন্ড ডিএ৪০এনজি প্রশিক্ষণ বিমান। সম্প্রতি লালমনিরহাটে আর্মি এভিয়েশন স্কুল স্থানান্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রায় সময়েই নিজের বক্তব্যে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের সক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধির বিষয়টি উচ্ছ্বাস নিয়েই উপস্থাপন করেছেন। বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। একদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে। ইতোমধ্যেই সরকার আরও ৬ টি হেলিকপ্টারের অনুমোদন দিয়েছে।’

মাস দেড়েক আগে লালমনিরহাটে আর্মি এভিয়েশন স্কুলের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘চিটাগাং হিল ট্রাকসে আমাদের প্রচুর কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন পরিচালিত হয়। সেই ক্যাম্পগুলোতে রেশন সাপোর্ট দেওয়া ও অন্যান্য অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সাপোর্ট দেওয়া শুরু করেছে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ।

এক সময় এ কাজগুলো করতে আমরা এয়ার ফোর্সের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন আমাদের এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ ও অন্যান্য অপারেশনাল সাপোর্ট দিচ্ছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আগামী বছরের শুরুতে শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায়। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কখন শুরু হবে, তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে না।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য এই ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

চলতি বছর নির্বাচন নিয়ে সংশয়

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আবার বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং ইসি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারে।

সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মন্তব্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কি না—জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণই এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা কঠিন।

নির্বাচনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করা ভালো।

তিনি আরও বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীও হননি। তাই প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। নির্বাচন হলে তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আয়োজনে ডা. জুবাইদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আয়োজনে ডা. জুবাইদা

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে শিশুদের ভবিষ্যৎ, মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে হোয়াইট হাউজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ এ সমাবেশে মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যোগ দেন ডা. জুবাইদা। পরে তিনি মার্কিন ফার্স্ট লেডির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের জীবনসঙ্গী ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অনলাইনে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শিশুদের প্রযুক্তি ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ করা। একই সঙ্গে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো এ উদ্যোগের অংশ।

আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে গত মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এও মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন ডা. জুবাইদা। ওই সম্মেলনে তিনি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনের পর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের আয়োজনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা এবং নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা দেখা গেল।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সড়কে এআইয়ের চোখ, নজরদারিতে ছিদ্র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
সড়কে এআইয়ের চোখ, নজরদারিতে ছিদ্র

ঢাকার সড়কে যানজট যেন নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। প্রতিদিনের দীর্ঘ অপেক্ষায় নষ্ট হচ্ছে মানুষের লাখো কর্মঘণ্টা, যার অর্থনৈতিক মূল্যও দাঁড়াচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকায়। সেই ক্ষতি কমাতে এবার প্রযুক্তির চোখে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত, দুর্ঘটনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার লক্ষ্যে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–চালিত ক্যামেরা।

  • সবুজ নম্বরপ্লেট পড়তে পারছে না ক্যামেরা
  • পরিচয়হীন অটোরিকশাতেও আটকে যাচ্ছে প্রযুক্তি
  • বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও ছেদ পড়ছে মনিটরিংয়ে

কিন্তু প্রযুক্তির চোখ যতই তীক্ষ্ণ হোক, বাস্তবতার কিছু ফাঁক এখনো তাকে আটকে দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নির্দিষ্ট নম্বরপ্লেট শনাক্ত না হওয়া, পরিচয়বিহীন যানবাহন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং একাধিক যান পাশাপাশি চললে গতির তথ্য আলাদাভাবে ধরতে না পারার মতো সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে।

নজরদারির পরিধি বাড়ছে
গত মাস থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ বা পিটিজেড ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫টি ক্যামেরা ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী তিন মাসে আরও ৫০টি এবং পরবর্তী ছয় মাসে ৫৫টি ক্যামেরা বসানো হবে। অর্থাৎ ধাপে ধাপে রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চলে আসবে এআই নজরদারির আওতায়।

সফটওয়্যারে ইতিমধ্যে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য, জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামানো, স্টপ লাইন অমান্য, লেন আটকে রাখা, আকস্মিক লেন পরিবর্তন, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্যামেরা সবসময় পড়তে পারছে না
প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হচ্ছে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় বিআরটিএর দেওয়া সবুজ রঙের কিছু নম্বরপ্লেট এআই ক্যামেরা ঠিকভাবে পড়তে পারছে না। ফলে আইন ভঙ্গের ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট গাড়ির পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আরেকটি সমস্যা তৈরি করছে পরিচয়হীন অটোরিকশা। নম্বর বা নির্দিষ্ট পরিচিতি না থাকায় এসব যানবাহনের গতিবিধি শনাক্ত ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ ক্যামেরার দৃষ্টিসীমায় অপরাধ ধরা পড়লেও অপরাধী যানকে চিহ্নিত করার পর্যায়ে এসে প্রযুক্তির সক্ষমতা থমকে যাচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, অস্পষ্ট নম্বরপ্লেট, মালিকানা ও ঠিকানা পরিবর্তনসহ নানা জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। রাতের বেলায় সবুজ নম্বরপ্লেট পড়তে না পারার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করে বলেন, রঙের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে।

মহাসড়কের অভিজ্ঞতাও স্বস্তির নয়
রাজধানীর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় পরিসরে এআই ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত আগস্ট থেকে মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে প্রায় দেড় হাজার ক্যামেরা কাজ করছে। সেখানে আইনভঙ্গ কমে আসার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

তবে সেখানেও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। বড় গাড়ির আড়ালে হঠাৎ ছোট গাড়ি চলে এলে আলাদাভাবে তার গতি শনাক্তে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ট্রান্সফরমার চুরি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পাওয়ার ফেইলরের কারণে ক্যামেরার নজরদারিতেও ছেদ পড়ছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ক্যামেরা স্থাপনের পর মানুষ আগের তুলনায় সচেতন হয়েছে এবং মামলার সংখ্যাও কমছে। তবে লোডশেডিং, ট্রান্সফরমার চুরি ও পাওয়ার ফেইলরের কারণে মাঝেমধ্যে মনিটরিংয়ে সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
এআই ক্যামেরার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে একটি মৌলিক বিষয়ের ওপর—রাস্তায় চলা প্রতিটি গাড়িকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে কি না। ডিএমপির কর্মকর্তা আনিসুর রহমানও মনে করেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে না আনলে শুধু ক্যামেরা দিয়ে ঢাকার যানজট কমানো কঠিন। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন পুরোপুরি চালু হলে যানজট কমাতে তা সহায়ক হতে পারে বলে তিনি জানান।
পুলিশ পরিদর্শক রাহাত খানের মতে, গাড়ির নম্বরপ্লেট একই ধরনের ও সহজে পাঠযোগ্য করা গেলে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই নয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে। তার ভাষায়, গাড়ির পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে নজরদারির কার্যকারিতাও বাড়বে।

রাজধানীতে এআই ক্যামেরা বসানো নিঃসন্দেহে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের বড় পদক্ষেপ। কিন্তু ক্যামেরা যত বেশি বসবে, ততই স্পষ্ট হবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর দুর্বলতা।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মানসম্মত ও অভিন্ন নম্বরপ্লেট, হালনাগাদ মালিকানা তথ্য, পরিচয়বিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভুল সফটওয়্যার—সবকিছুকে একই কাঠামোয় আনতে না পারলে ক্যামেরার নজরদারি শতভাগ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ ঢাকার সড়কে এখন প্রশ্ন শুধু ‘ক্যামেরা কতটি’ নয়; বরং ক্যামেরা যা দেখছে, সেই তথ্য দিয়ে কত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ/এমকে