খুঁজুন
                               
, ,
           

শেখ হাসিনা-সোলিহের উপস্থিতিতে নব দিগন্তের উন্মোচন করলেন জেনারেল শফিউদ্দিন-শামাল!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনা-সোলিহের উপস্থিতিতে নব দিগন্তের উন্মোচন করলেন জেনারেল শফিউদ্দিন-শামাল!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দুবাই এয়ার শো প্রদর্শনীর ফাঁকে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের। হৃদ্যতাপূর্ণ সেই সাক্ষাৎ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইট করেছিলেন মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চায় মালদ্বীপ, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতায় টুইট জেনারেল শামালের

লিখেছিলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে তিনি সম্মানিত।

গতবারের গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকটি ছিল সাইডলাইনে। মাস ঘুরতেই আবারো একত্রে মিলিত হয়েছেন তাঁরা। তবে এবারের সাক্ষাৎ পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে দু’দেশের দু’সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল উন্মোচন করলেন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ১৩ টি সামরিক যানের প্রতীকী চাবি তুলে দিলেন মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ্ শামালের হাতে। এরই মধ্যে দিয়ে সামরিকভাবে অগ্রসরমান বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও নিজেদের স্বপ্নের পালে লাগিয়ে দিয়েছে নতুন হাওয়া। আরও সুদৃঢ় করেছে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সেনাবাহিনীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে চার এমওইউ-চুক্তি সই

দু’দেশের দু’সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে আনন্দঘন এই মুহুর্তটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দু’টির গভীর বন্ধুত্বেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, দীর্ঘদিন যাবত দু’প্রতিবেশী বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করছে। বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সঙ্কটে মালদ্বীপ পাশে পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশকেও মালদ্বীপ সমর্থন দিয়েছে আকুন্ঠচিত্তেই।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজের টানা প্রধানমন্ত্রীত্বের তিন মেয়াদে এবার দ্বিতীয়বারের মতো মালদ্বীপ সফর করছেন। প্রথমবার সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি মালদ্বীপে গেলেও গত বুধবার (২২ ডিসেম্বর) প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে এই দ্বীপরাষ্ট্রের উদ্দ্যেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

আর চলতি বছরের মার্চ মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহ।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ‘যুগান্তকারী বছর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবারের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে প্রেসিডেন্ট সলিহর দফতরে পৌঁছলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন এবং বৈঠক শেষে তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দ্বৈত কর পরিহার এবং যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং একটি চুক্তি নবায়ন করা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম সলিহ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সলিহের সঙ্গে তার বিশদ আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠক অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

পক্ষান্তরে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সলিহ বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এ বছর বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এরপর দু’নেতার উপস্থিতিতে নিজেদের মধ্যকার ‘বন্ধুত্বের প্রতীক’ হিসেবে মালদ্বীপকে ১৩ টি সামরিক যান উপহার দেয় বাংলাদেশ। মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ্ শামালের হাতে ১৩টি সামরিক যানের চাবি প্রতীকী হস্তান্তর করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

এর মাধ্যমে দু’দেশ তথা সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও উন্নীত করেছে নতুন মাত্রায়-মত সামরিক পর্যবেক্ষকদের।

এর আগে গত রোববার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালদ্বীপ সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ১৩টি সামরিক যান উপহার দেওয়া হবে।

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৩টি সামরিক যান বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সিডরের ক্ষত শুকায়নি, জোয়ারে ফের ভাঙছে আমতলীর বাঁধ

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
সিডরের ক্ষত শুকায়নি, জোয়ারে ফের ভাঙছে আমতলীর বাঁধ

বরগুনার আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বারবার বাঁধের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বাঁধটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। ফলে সামান্য জোয়ারেই পানি বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও ব্লক সরে গিয়ে নদীর দিকে ভাঙন এগিয়ে যাচ্ছে।

বাঁধসংলগ্ন এক ব্যবসায়ী বলেন, জোয়ারের পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের জায়গাটুকুও নেই। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন না প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িক মেরামত নয়, ভবিষ্যৎ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁধটির টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন ‘সর্বজনীন আবাসন’ নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, ভালো সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। এ অবস্থায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়নের পরিকল্পনা

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে ঢাকার আশপাশে ‘সেকেন্ডারি টাউনশিপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর গড়ে তুলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে।

আবাসন খাতে বেসরকারি অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অচিরেই ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন এবং দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে স্কুলের সড়ক-সেতু

বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে স্কুলের সড়ক-সেতু

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে গত দুই বছরে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শুধু মিয়ারচর নয়, আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণাংশের বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নদীতীরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে এরই মধ্যে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই জায়গাটিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন তিনি অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

মিয়ারচরের ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা অলিল বেপারি বলেন, নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন চলছে। বিভিন্ন সরকার ভাঙন রোধের কথা বললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুরা খালে তীব্র স্রোতের কারণে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লার খাল এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়কও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনকবলিত অন্য এলাকাগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে। মিয়ারচরে নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানেও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, আড়িয়াল খাঁ ও পালরদী নদীর ভাঙন রোধে টেকসই ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি