খুঁজুন
                               
, ,
           

৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

জারিফ নিহাল/আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ,কালের আলো:

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৬ হাজার ৩১৪ দিন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও স্বশরীরে রাজনৈতিক অনুপস্থিতিরও অবসান। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় শক্ত হাতে প্রবাসে নির্বাসিত জীবনেই ধরে রেখেছেন দলের নেতৃত্ব। সামাল দিয়েছেন নানা চ্যালেঞ্জ। শৃঙ্খলা রক্ষায় কখনও কঠোর হয়েছেন। অভিভাবকত্বে আগলে রেখেছেন, এক সুতোয় গেঁথেছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে অবশেষে তিনি ফিরেছেন নিজের মাতৃভূমিতে। সিক্ত হয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে উচ্ছ্বসিত ছিল গোটা দেশ। তাকে একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নেতা-কর্মী-সমর্থক-অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরের সামনে এসে জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন। জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান। পরে নিচু হয়ে মাটি হাতে নেন। এক দলা মাটি পরম মমতায় নেড়েচেড়ে দেখেন। এ যেন অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। কোন শব্দ বা বাক্যে এই অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন। কোনভাবেই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না পুরো ঘটনা প্রবাহটি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ তিনি সামনে থাকা একটি ফুলবাগানের ভেতরে চলে যান। সেখানে ঘাস ও কিছু গাঁদা ফুলের গাছ ছিল। সেখানেই জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান এবং এক দলা মাটি হাতে নেন, সফরসঙ্গীদের হাতে তুলে দেন।

মেয়ের জামাইকে ফুলের মালায় বরণ শাশুড়ির, ফোনে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টাকে
এর আগে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রথমে ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। তিনি বিমানবন্দরে একটি সোফায় বসে ছিলেন। তারেক রহমান কুশল বিনিময় করতে এলে মেয়ের জামাইকে তিনি পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এরপর দুজন কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নানীকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে সোফায় বসে তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও নাতনি কিছুক্ষণ কথা বলেন।

তারেক রহমান দেশে নেমেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করেন। বিএনপি সূত্র বলছে, ফোনে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তাকে দেশে স্বাগত জানান। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ওঠেন তারেক রহমান। ওই বাসে করেই তিনি ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসে তার সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় জাইমা হাত নেড়ে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। ১৯৬ নম্বর বাড়িটির অবস্থান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার পাশে।

ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
দেশের মাটিতে পা রেখেই ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর ফেসবুক পোস্টে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের অর্থ শেয়ার করেন, সঙ্গে একটি ভিডিও। ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’

বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে, অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই জ্যেষ্ঠ সন্তান বিজয়ের মাসে লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে যান। বাসটির সামনে লেখা ছিল-‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই বাসের সামনে বসে তিনি নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। তাদের সালাম দেন। এসময় বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। উচ্ছ্বাস-আনন্দ আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দেড় যুগেরও বেশি সময় পর নেতাকে কাছ থেকে দেখার অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল ৩শ ফিট পর্যন্ত। যে কারণে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে তারেক রহমানের গাড়ি বহরের। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। পরে নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি আর সামনে এগোতে পারেনি।

বিমানবন্দর থেকে জনস্রোত পেরিয়ে ৩টা ৫০ মিনিটে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতারা ও যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মঞ্চে তার জন্য বরাদ্দ রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে রেখে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসেন।

‘আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে’
গত ক’দিন যাবত ৩০০ ফিটের জনসভার মঞ্চে অবস্থান নেওয়া লাখো লাখো মানুষ ও দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এরপর বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র চব্বিশের আন্দোলনের লড়াকু যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করলেন। যেকোন মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ দিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে শয্যাশায়ী বেগম খালেদা জিয়ার বিছানার পাশে মন পড়ে থাকার কথা জানালেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বললেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন— অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন-আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

গণসংবর্ধনা শেষ করে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতাল গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি বাস থেকে নেমে যান। এরপর সেখান থেকে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে অবস্থান নেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তারেক রহমানকে বহন করা গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার সময় কর্মী-সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় দলীয় পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর গুলশানের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘স্বাগতম তারেক রহমান’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

ঢাকায় এসেছে বাক্সবন্দি জেবু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে তার পোষা বিড়াল জেবুও দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালিক তারেক রহমানের সঙ্গে সেও ঢাকায় নেমে আসে। তবে তাকে একটি লাইভ এনিমেল লেখা প্লাস্টিকের বক্সের ভেতরে করে দেশে আনা হয়। দুপুরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় ফেসবুক পেজে বিড়ালটির বাক্সবন্দি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ছবির ওপরে একটি ক্যাপশন দিয়ে বলা হয়, জেবু দেশে ফিরেছে। ছবিতে দুজন ব্যক্তিকে জেবু যে বাক্সে রয়েছে সেটি বহন করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে লন্ডন থেকে উড়াল দেওয়ার আগে তারেক রহমানের বহুল প্রশংসিত পোষা বিড়াল জেবু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ফেসবুক পেজ চালু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের দত্তক নেওয়া লোমশ সাইবেরিয়ান বিড়ালটির নাম জেবু। জেবু নামেই তাকে এখন সকলে ডাকে। হালকা-হাস্যকর এবং ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখা এই পেজটি ইতোমধ্যেই অনলাইনে বিড়ালপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছে।

এই বছরের শুরুতে জেবু প্রথম জনসাধারণের কল্পনায় স্থান করে নেয়, যখন তারেক রহমানের মোবাইলের দিকে তীব্রভাবে তাকিয়ে থাকা বিড়ালের একটি ছবি ভাইরাল হয়। যা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আনন্দিত করে এবং বিশেষ করে তরুণ বাংলাদেশি এবং নিবেদিতপ্রাণ বিড়ালপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। জেবুর অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিড়ালটি আমার মেয়ের। কিন্তু এখন এটি সকলের বিড়ালে পরিণত হয়েছে। আমরা সকলেই এটিকে ভালোবাসি এবং আদর করি।’

সবার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা দলের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে দলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুদুর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট মহাসড়ক) অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক ও নজীরবিহীন জনসমাগমে ঢাকা মহানগরী যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অভ্যর্থনা জানাতে আসা দেশবাসীকে তারেক রহমান আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সরবরাহ সংকটে ইলিশের ডিম, কেজি ৬ হাজার টাকা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটে ইলিশের ডিম, কেজি ৬ হাজার টাকা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের ডিম। বর্তমানে তাজা ইলিশের ডিম প্রতি কেজি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং নোনা ইলিশের ডিম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দামেও চাহিদা অনুযায়ী ডিম মিলছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিমওয়ালা ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

ইলিশের ডিমের বাজার মূলত মৌসুমনির্ভর। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এর চাহিদা ও সরবরাহ বেশি থাকে। তবে চলতি মৌসুমে ডিমওয়ালা ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ডিম সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে প্রতি কেজি ইলিশের ডিমের দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এ বছর তা বেড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও ইলিশের ডিম বিক্রি ও প্রচার বাড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাহিদা বেড়েছে।

ফিশ ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল হাওলাদার বলেন, সেপ্টেম্বরে সাধারণত ডিমওয়ালা ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়ে। কিন্তু এবার চাহিদার তুলনায় ডিমওয়ালা ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ সংগ্রহ করা হলেও সব মাছের পেটে সমপরিমাণ ডিম থাকে না। ফলে চাহিদা থাকলেও সবসময় পর্যাপ্ত ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়াকাটা মা শুটকি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক সোহেল মাহমুদ বলেন, নোনা ইলিশের ডিমেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভরা মৌসুমে শুধু একটি দোকানেই প্রায় ৮০ কেজি নোনা ডিমের চাহিদা থাকে। অথচ জেলেদের কাছ থেকে সব মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ কেজির বেশি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ ঘাটতিতে দাম বেড়েছে।

মহিপুরের আতিক ফিশ পয়েন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হাসনাত আতিক বলেন, আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে তাজা ইলিশ সংগ্রহের পর মাছ কাটার সময় ডিম আলাদা করা হয়। সাধারণত চার থেকে ছয়টি ইলিশের ডিমে প্রায় এক কেজি হয়। এসব ডিম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও ডিম কিনছেন। অনলাইনের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন স্থানে তা পাঠানো হচ্ছে।

তবে ইলিশের ডিমের বাণিজ্যিক চাহিদা ও দাম বাড়ায় প্রজননক্ষম মা ইলিশ আহরণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ না পেলে ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হতে পারে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইলিশের ডিমের চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ার কারণে ডিমওয়ালা ইলিশ আহরণ বেড়ে গেলে তা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে মাছগুলো ডিম ছাড়ার সুযোগ হারায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আগে ইলিশের ডিম বিক্রির প্রচলন তেমন ছিল না। বর্তমানে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির পাশাপাশি মাছের পেট থেকে ডিম সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার কারণে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। এ সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচার, নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে ডিম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে মা ইলিশ শিকার শুরু হলে ভবিষ্যতে ইলিশের সংকট তৈরি হতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার বলেন, অধিক মুনাফার আশায় প্রজননক্ষম মা ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রির প্রবণতা ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইলিশের ডিম বিক্রির কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মিষ্টির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
মিষ্টির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন রাশেদ খাঁন

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া প্রসঙ্গে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

রাশেদ খাঁন লেখেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

পোস্টে তিনি জামায়াতের এক সংসদ সদস্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তবে ওই অংশে রাশেদ খাঁনের বক্তব্যই উদ্ধৃত করা হয়েছে; এটি তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য।

দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যারা চেষ্টা করবে এবং ব্যক্তিস্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়াবে, তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জনগণের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও ভালো কাজকে ম্লান হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের আগে যে ভয় ছিল অমলার

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের আগে যে ভয় ছিল অমলার

২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘আদাই’-তে সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন অভিনেত্রী অমলা পল। সিনেমাটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে নগ্ন হয়ে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে পর্দায় এমন দৃশ্যে নিজেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অমলা পলের জন্য সহজ ছিল না। অভিনয়ে সম্মতি দেওয়ার আগে তাঁকে ভাবতে হয়েছিল গল্প, শুটিংয়ের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার—সবকিছু নিয়েই।

দৃশ্যগুলো কি গল্পের প্রয়োজন, নাকি দর্শক টানার কৌশল?

‘আদাই’-এর প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রথমেই অমলার মনে প্রশ্ন জাগে, সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যগুলো সত্যিই গল্পের প্রয়োজনীয় অংশ কি না। নাকি দর্শকদের আকৃষ্ট করতেই এমন দৃশ্য রাখা হয়েছে—এ নিয়েও সংশয়ে ছিলেন তিনি।

শুধু দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা নয়, সেগুলো কীভাবে ক্যামেরাবন্দী করা হবে, সেটিও অমলার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিষয়গুলো পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সিনেমাটিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে চাননি অভিনেত্রী।

ভবিষ্যৎ ইমেজ নিয়েও ছিল শঙ্কা

সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হয়েছিল অমলাকে। এমন চরিত্রে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে তাঁর একটি নির্দিষ্ট ইমেজ তৈরি হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল তাঁর।

অভিনেত্রীর ভয় ছিল, পরবর্তীতে নির্মাতারা হয়তো তাঁকে একই ধরনের সাহসী চরিত্রেই বেশি দেখতে চাইবেন। এতে অন্য ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা করেছিলেন তিনি।

নিরাপত্তা ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দেয় টিম

শেষ পর্যন্ত পরিচালক ও সিনেমার পুরো টিমের ওপর আস্থা তৈরি হলে ‘আদাই’-এ অভিনয়ে সম্মতি দেন অমলা পল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের সময় অভিনেত্রীর স্বস্তি ও নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বিশেষ করে সংবেদনশীল দৃশ্যগুলোর শুটিংয়ের সময় সেটে প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক সদস্য রাখা হয়। এর ফলে ক্যামেরার সামনে অমলা নিজেকে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ রাখতে পেরেছিলেন।

আলোচনার কেন্দ্রে অমলার অভিনয়

মুক্তির পর ‘আদাই’-এ অমলা পলের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। সাহসী চরিত্রে তাঁর অভিনয় নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রতিক্রিয়া।

তবে পর্দায় দৃশ্যগুলো যতটা আলোচনায় এসেছিল, তার পেছনে থাকা অমলার মানসিক দ্বিধা ও প্রস্তুতির গল্পটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গল্পের প্রয়োজনীয়তা, শুটিংয়ের নিরাপত্তা এবং নিজের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ—সবকিছু বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত চরিত্রটিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

‘আদাই’ তাই শুধু অমলা পলের ক্যারিয়ারের আলোচিত একটি সিনেমা নয়, বরং একটি কঠিন চরিত্র গ্রহণের আগে একজন অভিনেত্রীকে কী ধরনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

কালের আলো/জেএন