খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জনগণকে ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে সরকার: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
জনগণকে ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে সরকার: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

জনগণকে ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে বর্তমান সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষা কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন নিয়ে কাজ করবে সরকার বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে “ডিএনএর নকশার উন্মোচন থেকে বাংলাদেশের বায়োইকোনোমির ভবিষ্যৎ “শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মূখপাত্র।

মাহদী আমিন বলেন, বায়োটেকের ক্ষেত্রে আমাদের কয়েকটা প্র্যাক্টিক্যাল ইমপ্লিকেশনস আছে, যেগুলো গভর্নমেন্টের গোলস এবং জনগণের স্বার্থের সাথে সরাসরি এলাইনমেন্ট আছে। আমাদের একটা বড় লক্ষ্য হচ্ছে ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে কাজ করা—হিউম্যান এবং লাইভস্টকের ক্ষেত্রে। বায়োটেকের সাথে এটার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমরা কিভাবে আমাদের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বনির্ভরতা তৈরি করতে পারি—এটা এখন একদম কারেন্ট ইস্যু। সেখানে কি আমাদের কোনো ইন্টারভেনশন আমাদের নিজেদের ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে কিনা, ড্রাগসের ক্ষেত্রে অর্থাৎ মেডিসিনের ক্ষেত্রে আমরা কি আমাদের ইমপোর্ট-অরিয়েন্টেড অনেক জিনিসে স্বনির্ভরতা তৈরি করতে পারি কিনা, আরও বেশি সাশ্রয়ী হতে পারি কিনা—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ক্যান্সারসহ অন্যান্য লাইফ-সংশ্লিষ্ট রিসার্চে আমরা কি আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারি কিনা এবং সেজন্য গভর্নমেন্ট কি ধরনের পলিসি দিতে পারে—এগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আমাদের গভর্নমেন্টের একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে ফুড সিকিউরিটি নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে আমাদের ফ্যামিলি কার্ড রয়েছে—যার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়া। কিন্তু একটা পর্যায়ে আমরা এখানে প্রোডাক্ট ইন্ট্রোডিউস করতে চাই, যদি আমরা কৃষিনির্ভর স্বনির্ভরতা তৈরি করতে পারি।

মাহদী আমিন আরো বলেন, সেক্ষেত্রে, আমরা কি আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য—যেমন তেল—এর প্রোডাকশন বাড়াতে পারি কিনা, আমরা কি সুগারের প্রোডাকশন বাড়াতে পারি কিনা—এসব এক্সপ্লোর করা দরকার। আমরা দেখতে পারি বিটরুট বা মাস্টার্ডের প্রোডাকশন কিভাবে বাড়ানো যায়, যার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে স্বনির্ভরতা তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে।

সরকারের কিছু ভিশন আছে উল্লেখ করে
মাহদী আমিন বলেন, সেই ভিশনগুলোকে কিভাবে ম্যাটেরিয়ালাইজ করব, কিভাবে প্র্যাক্টিক্যাল কানেক্টিভিটি তৈরি করব—তার জন্য সাবজেক্ট এক্সপার্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট রয়েছে যেখানে আমাদের প্রোডাক্টিভিটি কম। আমরা প্রোডাক্টিভিটি কিভাবে বাড়াব—হতে পারে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে, ডাইভার্সিফিকেশনের মাধ্যমে। কিন্তু ওভারঅল যদি ল্যান্ডের সাথে প্রোডাকশনের রেশিও দেখি, বাংলাদেশে আমরা যথেষ্ট ইন-ইফিশিয়েন্ট। তাহলে আমরা এফিশিয়েন্সি কিভাবে বাড়াব—সেখানে মডার্ন টেকনোলজিক্যাল ইন্টারভেনশন দরকার।

তিনি বলেন, আমাদের গভর্নমেন্টের একটি বড় প্রতিশ্রুতি আছে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন মিডডে মিল। বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলের প্রায় ২ কোটি স্টুডেন্ট রয়েছে, তাদের কাছে পর্যায়ক্রমে টিফিন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে এই মিলগুলো পেরিশেবল হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—কখনো বাটার বন, কখনো কলা। এক্ষেত্রে আমাদের একটি আরএনডি দরকার, যাতে আমরা নন-পেরিশেবল প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারি—যেখানে নিউট্রিশনাল ভ্যালু থাকবে এবং কস্টও সেভ হবে, এবং বাচ্চারা সঠিক মিডটাইম খাবার পাবে।

তিনি বলেন, এগুলো একদম প্র্যাক্টিক্যাল, রিলেভেন্ট এবং এক্সিস্টিং প্রবলেম, কিন্তু গত ১৬-১৮ বছরে এগুলোর সলিউশন তেমনভাবে হয়নি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এনভায়রনমেন্টের ক্ষেত্রে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স তৈরি করা। আমরা চাই ওয়েস্ট-বেসড এনার্জিকে প্রমোট করতে—সে ক্ষেত্রে আমাদের অপশনগুলো কী, তা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে এবং বিদেশে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। আমাদের যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড রয়েছে, সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। যদি আমরা আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে সঠিক স্কিলসেট দিতে পারি—টেকনিক্যাল ক্যাপাসিটি ডেভেলপ করতে পারি—তাহলে আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশন বাড়াতে পারব। বর্তমানে আমাদের এডুকেশন সিস্টেমে বড় বড় ডিগ্রি নেওয়া হয়, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল রিলেভেন্স কম। তাই আমাদের কারিকুলামে হাত দিতে হবে। এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে রিয়েল লাইফের জন্য প্রস্তুত হয়—ট্রান্সফারেবল স্কিল, ইন্টারপার্সোনাল স্কিল, টেকনিক্যাল স্কিল এবং সাবজেক্ট-স্পেসিফিক ক্যাপাবিলিটি—সব কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকে।

দেশে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ব্রেন ড্রেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাকে কিভাবে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা যায়—যেখানে বিদেশে থাকা আমাদের ট্যালেন্টরা দেশের সাথে যুক্ত থাকবে—সেটা ভাবতে হবে। অনেক দেশে সফল মডেল আছে, যেখানে জয়েন্ট রিসার্চ, ল্যাব কানেক্টিভিটি, গ্র্যান্ট সাপোর্টের মাধ্যমে কাজ হয়। আমরা চাই বিদেশে থাকা আমাদের একাডেমিক ও প্র্যাক্টিশনারদের বাংলাদেশে ইনভলভ করতে—সামার স্কুল, শর্ট কোর্স, জয়েন্ট রিসার্চ—এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে। এতে করে আমাদের রিসার্চ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী হবে।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের রিসার্চের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রবলেম সলভিং। ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন-বেসড রিসার্চ আরও গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশনের ক্ষেত্রে আমাদের ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই লিংকেজ দুর্বল। অথচ হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক, ইকোনমিক জোন, ইপিজেড—সবই আছে। কিন্তু ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সিনার্জি নেই। এই গ্যাপটি পূরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মূখপাত্র বলেন, আমরা ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি—ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের অব্যবহৃত জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে ইউনিভার্সিটিকে ইন্টিগ্রেট করা, ওয়ার্কস্পেস দেওয়া, ইনকিউবেশন ও কমার্শিয়ালাইজেশনের সুযোগ তৈরি করা। স্টুডেন্টদের আইডিয়া থেকে স্টার্টআপ তৈরি করার সুযোগ দিতে হবে।

গভর্নমেন্ট যদি সিট ফান্ডিং, গ্র্যান্ট এবং পলিসি সাপোর্ট দেয়, তাহলে তরুণদের আইডিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। আমাদের সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য—এম্পাওয়ারমেন্ট অফ পিপল। জনগণকে স্বনির্ভর করা, সমৃদ্ধ করা। বিশেষ করে ইউথ এবং উইমেন—এই দুই ক্লাসকে এগিয়ে নেওয়া। তাই আমাদের ট্রেনিং, আপস্কিলিং, কারিকুলাম রিফর্ম, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশন—সবকিছুতে ফোকাস দিতে হবে। বায়োটেকের মতো সাবজেক্টে বিশাল জব অপরচুনিটি রয়েছে, কিন্তু এখনো আন্ডার-ইউটিলাইজড।

তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী দিনে এগুলো নিয়ে কাজ করব। তবে এটি একা গভর্নমেন্টের পক্ষে সম্ভব নয়—প্রাইভেট সেক্টর, একাডেমিয়া—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াইডস্প্রেড কনসালটেশনে যাব, এক্সপার্টদের সাথে আলোচনা করে গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিসকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করব। আমাদের সামনে অনেক সমস্যা আছে—এটাই আমাদের সুযোগ। যদি পলিটিক্যাল উইল থাকে, এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও দিকনির্দেশনা থাকে, তাহলে আমরা সাস্টেইনেবল পরিবর্তন আনতে পারব—যার মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব হবে, ইনশাল্লাহ।

কালের আলো/এম/এএইচ

নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, নাগরিকরা নৌপথে ভোগান্তির শিকার হবে, এটা আমরা হতে দেব না। রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গা থেকে অধিক সংখ্যক মানুষ নৌপথে চলাচল করে প্রত্যেকটি জায়গা চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট ও ইলিশা আমরা গিয়েছি। হাতিয়া থেকে শুরু করে সবগুলো ঘাটেই আমরা গিয়েছি।

আমাদের দায়িত্ব এটা, মানুষগুলোকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। আগামীকাল থেকে যেন নিরাপদে সবাইকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ানো যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা যখন ঘাটগুলোতে যাই তখন ছোটখাটো ভুলগুলো আমাদের চোখে পড়ে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে কথা দিয়েছি, তারা নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে যাবে এবং নিরাপদে ফেরত যাবে। সে জায়গাটি আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পারছি।

আমরা প্রত্যেকটি কাজকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি, মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া, ভোলার ইলিশা নদীবন্দরকে একটি সুন্দর নদীবন্দর হিসেবে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যেসব নৌযান সরকারি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সেগুলোকে শুমারির মাধ্যমে চিহ্নিত করছি। সবগুলো নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতাকে মাথায় রেখে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি এবং নৌযান শুমারি শেষ হয়ে গেলে অবৈধ নৌযানের বিষয়টি থাকবে না।

যেসব জায়গায় আরও সংখ্যক জাহাজ দরকার সেসব জায়গায় আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানা জাহাজ যুক্ত করার চেষ্টা করবো।

এ সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে, অভিযোগ রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে, অভিযোগ রিজভীর

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ওনারা (জামায়াতে ইসলামী) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরেরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা…একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা সে আবার রোকন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয়।’

রিজভী বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি করেন সব নাকি পবিত্র মানুষ। এখানে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে ছাত্রলীগের মধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে। আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন …আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের এই হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেট করে করছেন আমি তো দুই তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কথা হলো রাজনৈতিক দলগুলো তো থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না? বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টে এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শোকজ করা হয়েছে…কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’

রিজভী বলেন, ‘তারপরে চাঁদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ রোকন সদস্য… আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন তারা অভিযুক্ত হয়েছে। যখন পেপারে এসেছে তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন। আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কি করে? এত একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কি করে? তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি। তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন যে। এটা কথা বলছেন এই কারণে যে বোধহয় পাওয়ারে চলে আসবে। কিন্তু এদেশের মানুষের মানে মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আলোচনা সভা হয়। এর আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

রিজভী বলেন, ‘একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামায়াত করেছে তাদেরকেও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগীরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন মনে নাই আপনাদের..লতিফ সিদ্দিকী যে হজ মক্কা শরীফে এগুলো নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন…হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে…মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এটাও এদেশের মানুষ কোনদিনই এটা পছন্দ করেনি।’

জাসাসের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারা একটা এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির যে স্ফুরণ সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা এর সঙ্গে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা না। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোনো অসুবিধা নেই।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির, জাবেদ আহমেদ কিসলু, খালেদুজ্জামান জুয়েল, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, রাফিজা আলম লাকি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

দক্ষিণ লেবাননে ‘বড় অভিযানের’ ঘোষণা ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ লেবাননে ‘বড় অভিযানের’ ঘোষণা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েল। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেডারদের বোফোর্ট দুর্গ (কালাআত আল-শাকিফ) দখল করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বড় অভিযানের ঘোষণাও দিয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ বোফোর্ট দুর্গের ওপর ইসরায়েলি পতাকা উড়তে থাকা ছবি প্রকাশ করার পর দুর্গটি দখলের খবর সামনে আসে। ক্রুসেডার আমলে নির্মিত এই দুর্গটি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি উঁচু পাহাড়ি রিজের ওপর অবস্থিত।

তবে এ বিষয়ে লেবাননের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যটি নিশ্চিত হলে, ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এটি ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ইউনেস্কো-সুরক্ষিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি ২০০০ সালে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে ১৮ বছর ধরে ইসরায়েলের দখলে ছিল।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এলা ওয়াওইয়া জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের বোফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল-সালুকি এলাকায় একটি ‘বৃহৎ পরিসরের অভিযান’ শুরু হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে কার্যক্রমগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং গালিলি প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও মেতুলা বসতির প্রতি সরাসরি হুমকি দূর করার অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস ও নাশকতাকারীদের নির্মূল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

ওয়াওইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে বিপুলসংখ্যক স্থলবাহিনী নিয়ে অভিযানটি শুরু হয়েছে। সামনের প্রতিরক্ষা রেখা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সেনারা বর্তমানে আক্রমণাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী অতিক্রম করেছে এবং নদীর উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে অভিযান অতিরিক্ত এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ওয়াওইয়া বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে নাবাতিয়েহ এলাকার আশপাশে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন হলে হামলা আরও বিস্তৃত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করে চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশটি বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অভিযানটি গত এক-চতুর্থাংশ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ