খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে

যমুনা নদীর ওপর যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে সরকার দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ২০৩৩ সালের মধ্যে এ সেতু নির্মাণের সুপারিশ পাওয়া গেছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতু সংকীর্ণ ৪ লেনের হওয়ায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর অবস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এর মধ্যে প্রথমটি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে, দ্বিতীয়টি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত এবং তৃতীয়ত অন্য কোনো উপযুক্ত করিডোর বিবেচনায় রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত ও সহজতর হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিয়ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ব্যয় চারবার, কর্ণফুলী টানেলের ব্যয় দুইবার এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় একবার বাড়ানো হয়েছে। এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত নজরদারি জোরদার করেছে। ঈদ উপলক্ষ্যে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিশেষ তৎপর রয়েছে।

ফাস্টট্র্যাক প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে মেট্রোরেলের বিভিন্ন লাইন (এমআরটি লাইন-৬, ১ ও ৫) ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কোনো প্রকল্প এই তালিকায় নেই। বর্তমানে দেশে ২২ হাজার ৭৩৬ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে প্রায় ৮৮৩ কিলোমিটার ৪ লেনে এবং ১০ কিলোমিটার ৬ লেনে সচল রয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

কালের আলো/এসএকে

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৩৯ শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬২ শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত দুই শিশুই ছেলে। তাদের একজনের বয়স ৬ মাস। সে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১৯ মে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৫ মে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্দেহজনক হাম, নিউমোনিয়া ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

অপর শিশুটির বয়স ১০ মাস। তার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার দেওথান এলাকায়। গত ২০ মে সকাল ১১টায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্দেহজনক হাম, নিউমোনিয়া, রক্তস্বল্পতা ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৯ শিশু।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট এক হাজার ৬০৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৫০৮ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬২ শিশু। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সেখানে একাধিক মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ২৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিচারকরা স্বাধীন বলেই গ্রেফতারের পরদিনই তারা জামিন পান: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
বিচারকরা স্বাধীন বলেই গ্রেফতারের পরদিনই তারা জামিন পান: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে। তবে দেশজুড়ে বিচারক ও আইনজীবী সংকটের কারণে অনেক সময় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হয়’ এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর এমন বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যা বলেছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল। বিচারকরা বিচারকাজে সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন বলেই তাদের (এনসিপি) নেতারা মামলায় গ্রেফতারের  পরদিনই জামিন পেয়েছেন।’

বাংলাদেশের বিচারকরা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে মামলার জট রয়েছে। কারণ, বিচারকের সংকট আছে। একই সঙ্গে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার মতো দক্ষ আইনজীবীর সংখ্যাও কম। ফলে মামলার জট কমানো যাচ্ছে না।

এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেখানে পুলিশের দায়িত্বশীলতার কোনো ঘাটতি ছিল না। বিচারকরাও স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে কাজ করেছেন। কাজেই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা এসব কথা বলছেন।

এর আগে সকালে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন আইনমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাস কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি বাসগুলোতেও ভাড়ার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নির্ধারিত সময়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে যাত্রীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেক যাত্রী আগাম টিকিট না কাটার কারণে শেষ সময়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে চালক ও সুপারভাইজাররা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। আড়ালে-আবডালে কিছু দুর্বৃত্ত সক্রিয় রয়েছে। তবে তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল যাতে সড়কে পশুর হাট না বসে। কিন্তু পশু ও ক্রেতার চাপ বাড়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে হাট সড়কে চলে আসছে। এতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব ট্রাক থামাতে গেলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সবাই নিয়ম মেনে চললে ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন