খুঁজুন
                               
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে কিউইদের মুখোমুখি টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে কিউইদের মুখোমুখি টাইগাররা

চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নামছে বাংলাদেশ, তবে স্বাগতিকদের এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বৃষ্টি। প্রথম ম্যাচে কিউইদের স্তব্ধ করে দিয়ে যেভাবে বড় লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে, তাতে ভক্তরা এক রোমাঞ্চকর সিরিজের অপেক্ষায় আছেন।

গত এক বছরের তুলনায় প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের টি-টোয়েন্টি খেলেছে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান দ্রুত শুরু করতে না পারলেও মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামীম হোসেনের পাল্টা আক্রমণ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। দুই ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তবে বোলিং নিয়ে স্বাগতিকদের কিছুটা ভাবনার অবকাশ আছে, কারণ অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে তারা রান আটকাতে হিমশিম খেয়েছে।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড স্বস্তিতে থাকবে কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভারের হাফ-সেঞ্চুরিতে। তবে ইশ সোধির মতো অভিজ্ঞ স্পিনার ওভার প্রতি ১০ রান করে দেওয়ায় কিউইদের বোলিং গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন শামীম। কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে শামীমের সেই স্কুপ ছক্কাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ফিনিশার হিসেবে তিনি কতটা কার্যকর। চটপটে ফিল্ডিং আর পার্ট-টাইম বোলিং মিলিয়ে তিনি সাদা বলের ক্রিকেটে এক দারুণ প্যাকেজ।

এদিকে কিউইরাও মাঠে নামবে সিরিজ বাঁচানোর মিশনে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই বাজিমাত করেছেন ক্লার্ক। ৩৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করার পথে তাঁর স্কয়ার কাট আর রিভার্স হিটগুলো ছিল দেখার মতো। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই তাঁর বিপক্ষে আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে নামবে।

সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ:
তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস (অধিনায়ক ও কিপার), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মন্ডল।

নিউজিল্যান্ড:
টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাট ফিশার ও বেন লিস্টার।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজশাহীতে গরুর চামড়া ২০০, ছাগলের ১০ টাকা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে গরুর চামড়া ২০০, ছাগলের ১০ টাকা
রাজশাহীতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের কথা বলা হলেও বাজারে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
রাজশাহীতে প্রতি পিস গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। একটু বড় হলে পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে এবারও দাম নেই ছাগলের চামড়ার। প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা।ঈদের দিন (বৃহস্পতিবার) ২৮ মে বিকেলে রাজশাহী নগরীর রেলগেট ও পরের দিন (শুক্রবার) ২৯ মে পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবারও বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং দাম আরও কমে এসেছে।

রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফজলুল করিম বলেন,  গেল বছর ১৫০-২০০ টাকা দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কাউকে চামড়া সংগ্রহ করতে আসতে দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে পশুর চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দামও পাওয়া যাবে। কিন্তু যে লাউ, সেই কদু‘। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আরো খারাপ।

নগরীর রায়পাড়া এলাকার আবু জাফর বলেন, চামড়া কেনা তো দূরের কথা, সকাল গড়িয়ে বিকেল গড়িয়ে গেলেও কোনো ক্রেতার দেখা পাওয়া যায়নি।  প্রতিবছর কোরবানিতে পশু জবাইয়ের পর চামড়া ক্রয়ের জন্য দেখতে আসে, দরদাম করে। শেষে স্থানীয় এক মাদ্রাসায় চামড়া দিয়ে এসেছি।

আমবাগানের বাসিন্দা তরিকুল আলম বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া গরিবের হক। তা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যেত, তা গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। কিন্তু চামড়াই বিক্রি করা যাচ্ছে না, তাদের কি দেব?

স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুল হক বলেন, এক সময় মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। তা সংরক্ষণ করে বিক্রির পর লাভের টাকা এতিম ছাত্রদের জন্য খরচ করা হতো।

কিন্তু এখন চামড়ার যে দাম, চামড়া সংগ্রহ করে আনতে যে পরিমাণ গাড়ি ভাড়া লাগবে, তাই উঠবে না। চামড়া সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা অনেক কষ্টের। অনেক পরিশ্রম করেও লাভ হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবার কোরবানি হয়েছে প্রায় পৌনে চার লাখ পশুর কিন্তু কি পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কেউ জানাতে পারেনি।

নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৪০০ চামড়া কিনেছেন। প্রতি পিস চামড়া ১০০-২০০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। সবগুলো চামড়াতে শ্রম দিয়ে লবণ যুক্ত করতে হবে। এতে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকের কারণে চামড়ার ক্রয়মূল্য বেড়ে যাবে।

মৌসুমি চামড়া বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে পশুর চামড়া কিনেছি। পশুর চামড়াগুলো আকার ও প্রকার ভেদে ২০০-৩০০ টাকায় কিনেছি। এছাড়া ছাগলের চামড়া ১০-২০ টাকা দরে কিনেছি। এখানে বিক্রি করে এসে তেমন দাম পাচ্ছি না। দেখি বেলপুকুর মোকামে নিয়ে যাব।

রেলগেট এলাকায় বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পশুর চামড়া বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। তারা জানান, তাদের মাদ্রাসায় বিভিন্ন মানুষ দিয়েছে। সেগুলো বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে দাম বলছে।

চামড়া ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, রাজশাহী নগরী এবং নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর চামড়া গুলো আসছে। সেগুলো রেলগেট এলাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তবে এ বছর চামড়ার তেমন দাম নেই। ছাগলের চামড়া ১০-২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। এছাড়া গরুর চামড়া ৩০০-৪০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তবে এবার ছাগলের চামড়ায় ছুরিকাঘাতের ছিদ্র বেশি।

আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ জমা দেয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, আগামী ৩ জুন তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে প্রতিবেদন দিতে পারছি না। আরও তিন দিন সময় দিয়েছি কমিটিকে, ৩ জুন দেওয়া হবে প্রতিবেদন। কারণ সেখানে অবস্থানরত সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি, তাই আজ দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জানা গেছে এসি ২ ঘণ্টা বন্ধ ছিল এবং সেটা রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, এসময় কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিবেদনের আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গত বুধবার (২৭ মে) রাতে ময়নাতদন্ত না করাতে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় নবজাতকের মরদেহ তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় একজন নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬ জন শিশু।শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ৩০ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। বাকি ৪৯৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ জনে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৬৯ হাজার ৬১২ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে এখন পর্যন্ত হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৯ হাজার ১৬৯ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে হামের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সংক্রমণ বৃদ্ধি ঠেকাতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি