খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে চায় কাতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে চায় কাতার

Oplus_131072

বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার।

সোমবার (১৮ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স কক্ষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ-কাতার যৌথ কমিটির বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসায় ড. আলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান আরিফুল হক।

মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশকে দু’দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।

২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি বছর দোহা কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী নেবে।

কাতারগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় বর্তমানে মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য দেশটির শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়নযজ্ঞে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সফররত শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

এসময় ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত।

তিনি বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নেওয়ার বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে ২টি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এছাড়াও বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

যৌথ কমিটির এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেয়ারা আলী মাহদি সাঈদ আল কাহতানি; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দু’দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব ইরানের

স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। এ শর্তও পূর্বেরগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ।

বার্তাসংস্থাটি বলেছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা।

এনিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার শর্তগুলো আগের প্রস্তাবগুলোর মতোই। এর মধ্যে কিছু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও কিছু বিষয়ে নমনীয় হয়েছে ওয়াশিংটন।

জানা যায়, বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো ঘোষণা না দিয়েই তিনি দেশটির রাজধানী তেহরানে যান। আজ তৃতীয় দিনের মতো তার সফরের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের এই নতুন প্রস্তাবের খবর আসে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাবে দেখা গেছে ইরান শর্তসাপেক্ষে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাতে রাজি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে। তবে তেহরান বলে, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নয়, রাশিয়ার কাছে পাঠানো হবে। কিন্তু এতে থাকবে শর্ত।

এছাড়া ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, তারা লম্বা একটি সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। কিন্তু স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান আরও বলেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেবে না। এর বদলে তেহরানকে অর্থনৈতিক ছাড় দিতে হবে ওয়াশিংটনকে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপচাঁচিয়ায় মাংস বিক্রেতাকে খুন

বগুড়া( দুপচাঁচিয়া)প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপচাঁচিয়ায় মাংস বিক্রেতাকে খুন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমিতে ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মানিক চৌধুরী (৫০) নামে এক মাংস বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের ঝাজিড়া বাঙালি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মানিক চৌধুরী ঝাজিড়া গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নিহতের ভাই বুলুন চৌধুরীর একটি ছাগল স্থানীয় যুবক কাকরুলের ঘাসের জমিতে প্রবেশ করে ঘাস খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে রাতে মানিক চৌধুরী ঝাজিড়া বাঙালি বাজারে গেলে কাকরুল ও তার ভাতিজা রেজাউল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধাতব বস্তু দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করলে গুরুতর আহত হন মানিক চৌধুরী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কালের আলো/এসআইপি

সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিকে বিলাসিতা হিসেবে নেয়নি: আইসিটি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিকে বিলাসিতা হিসেবে নেয়নি: আইসিটি মন্ত্রী

বাংলাদেশের মহাকাশ, স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (আইসিটি) মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের এই যুগে স্যাটেলাইট, ড্রোন ও স্পেস টেকনোলজি শুধু বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা খাতে অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে অনুষ্ঠিত ‘স্যাটেলাইট, ড্রোনস অ্যান্ড ফিউচার স্পেস টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস, নদীভাঙন পর্যবেক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকার ইতোমধ্যে সাইক্লোন ও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

ড্রোন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রোন এখন শুধু ফটোগ্রাফি বা বিনোদনের যন্ত্র নয়; এটি সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি ব্যবস্থাপনা, জরিপ কার্যক্রম ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, সরকার ভবিষ্যতে লো আর্থ অরবিট ভিত্তিক নতুন স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে আরও স্পষ্ট ও কার্যকর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে স্পেস ডাটা ও অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কি নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড(বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেমিনারের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বাংলাদেশের মহাকাশ প্রযুক্তির সম্ভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তরুণ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ