খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রশ্নপত্র ফাঁস: অনলাইন প্রতারণায় জড়িত ৪ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
প্রশ্নপত্র ফাঁস: অনলাইন প্রতারণায় জড়িত ৪ জন গ্রেফতার

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চার প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
‎
‎শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এনএম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
‎
‎গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিফাত আহমেদ সজিব, সালমান, মেছবাউল আলম মাহিন ও মহিদুজ্জামান মুন্না।
‎
‎সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিউটিসি) কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি চৌকস দল একই দিন রাত ৮টায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো তাঁজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেফতার করে।

পরে সিফাতের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বগুড়ার ধুনট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ বাজার থেকে দেওগাঁ রিয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে মেছবাউল আলম মাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।
‎
‎পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার নওগা ইউনিয়নরে শাহ শরীফ জিন্দানীর (রহঃ) মাজার এলাকায় মহিদুজ্জামান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে।
‎
‎সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা অবৈধভাবে আর্থিক লাভের উদ্দেশে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়।
‎
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপি রমনা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘সর্বোচ্চ বিপজ্জনক’ হরমুজ প্রণালি, নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
‘সর্বোচ্চ বিপজ্জনক’ হরমুজ প্রণালি, নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা সম্প্রসারণের হুমকিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনুর মূল্যায়ন, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বিপদের প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, দুই পক্ষের কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিপদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও অন্যান্য জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়।

আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনু বলেন, “এ মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি যতটা বিপজ্জনক হতে পারে, আমরা প্রায় সেই সর্বোচ্চ বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছি।” তার এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি
বিশেষজ্ঞের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বাহিনীটির দাবি, জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছিল। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এ ধরনের জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনা সামরিক স্থাপনায় হামলার পর্যায়ে পৌঁছালে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।হুদিস্তেনুর মতে, ইরানের হুমকি শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। অঞ্চলটিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পাল্টা বার্তায় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও
ইরানের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও নিজস্ব কৌশলগত বার্তার মাধ্যমে তেহরানকে সতর্ক করছে বলে মনে করেন হুদিস্তেনু। দুই পক্ষের এমন অবস্থান পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গা হলো, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলার জন্য পারস্পরিক সংযম জরুরি। কিন্তু দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে থাকলে ভুল হিসাব, পাল্টা হামলা কিংবা নতুন কোনো ঘটনার জেরে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে পারে।

কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন
সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতিও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। হুদিস্তেনু বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং এগিয়ে নেওয়া কঠিন। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় কোনো বিষয়েই ঐকমত্য নেই।

দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করা এবং উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনার বিকল্প সীমিত হলেও পারস্পরিক অবস্থানের দূরত্ব অগ্রগতিকে কঠিন করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তাঝুঁকি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনে বিলম্ব বা বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি বাড়লে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি, রুট পরিবর্তন এবং পণ্য পরিবহনে বিলম্বের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে পরিস্থিতির বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে উত্তেজনার মাত্রা, জাহাজ চলাচলের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সতর্কতায়ও হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার ঝুঁকি উচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাত এড়াতে কূটনীতিই গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়। এই জলপথের নিরাপত্তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা জড়িয়ে রয়েছে।

এ অবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসএ/এমএইচএ

সৌদি আরবের ঘটনা নিয়ে সরব শ্রীলেখা, প্রশ্ন তুললেন ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবের ঘটনা নিয়ে সরব শ্রীলেখা, প্রশ্ন তুললেন ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র বরাবরই নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পছন্দ করেন। সামাজিক অসঙ্গতি থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা—বিভিন্ন বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হতে দেখা যায় তাকে। এবার সৌদি আরবের একটি ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে আলোচনায় এসেছেন এই টালিউড অভিনেত্রী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে একটি মসজিদে চুম্বনের ঘটনায় দুই ব্যক্তির শিরশ্ছেদের খবর সামনে আসার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রীলেখা। তার পোস্টে ধর্মের নামে মানুষের স্বাধীনতা হরণ, ভালোবাসার অধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্ন উঠে এসেছে। অভিনেত্রীর বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানুষের জীবন ও ভালোবাসার মূল্য অনেক বেশি।

‘ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই’
ফেসবুক পোস্টে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। আমি বিশ্বাস করি, সব ধর্মের মূল কথাই ভালোবাসা। ধর্মের নামে ভয়, ঘৃণা আর হিংসা ছড়ানো মানুষের তৈরি, ঈশ্বরের নয়।’

তার এই বক্তব্যে ধর্মের নামে বিদ্বেষ ও সহিংসতার বিরোধিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শ্রীলেখার মতে, ধর্মের মূল শিক্ষা হওয়া উচিত ভালোবাসা ও মানবিকতা। অথচ ধর্মীয় বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে যখন মানুষের স্বাধীনতা ও বেঁচে থাকার অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন তা গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ধর্মের নামে স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে প্রশ্ন
পোস্টে অভিনেত্রী বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে মানবিক বাস্তবতার বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। পৃথিবী যখন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখনও ধর্মের নামে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঘটনা ঘটছে—এ বিষয়টি তাকে ব্যথিত করেছে বলে তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।

সৌদি আরবের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভালোবাসার কারণে কিংবা ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের জন্য কেন মানুষকে প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে? তার এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

সব ধর্মের ক্ষেত্রেই একই অবস্থান
শ্রীলেখা তার পোস্টে ইসলাম, হিন্দু ও খ্রিস্টধর্মসহ যেকোনো ধর্মের নামে মৌলবাদ ও উগ্রতার বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ধর্মের পরিচয়ই মানুষের প্রতি ঘৃণা, ভয় কিংবা সহিংসতা ছড়ানোর অজুহাত হতে পারে না।

ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সেই বিশ্বাসের নামে অন্যের অধিকার হরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়—এমন অবস্থানই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তার পোস্টে তাই কোনো একটি ধর্মের সমালোচনার চেয়ে ধর্মের নামে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার বিরোধিতাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবাদ কি যথেষ্ট?
পোস্টে শ্রীলেখা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, সৌদি আরব কিংবা ইরানের মতো দেশে মানুষের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হলে প্রতিবাদ কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টেই সীমাবদ্ধ থাকবে? বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সেই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। তার এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে অনলাইনে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আরও সচেতন ও কার্যকর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

‘পুরনো আত্মা’ পরিচয়ে নিজের যন্ত্রণার কথা
নিজেকে ‘পুরনো আত্মা’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্রীলেখা জানিয়েছেন, চারপাশের নিষ্ঠুরতা ও মানুষের প্রতি মানুষের সহিংস আচরণ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অন্য অনেকের মতো এসব ঘটনা সহজে ভুলে স্বাভাবিক হয়ে ওঠা তার পক্ষে সম্ভব হয় না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা যে তাকে মানসিকভাবে নাড়া দেয়, তার বক্তব্যে সেই অনুভূতির প্রকাশ রয়েছে। মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও ভালোবাসার অধিকার নিয়ে তার উদ্বেগই পোস্টটির মূল সুর হয়ে উঠেছে।

মানবিকতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব শ্রীলেখার
পোস্টের শেষাংশে শ্রীলেখা মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে জীবন ও ভালোবাসাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, মানুষের জীবন ও মর্যাদার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম হতে পারে না। সৌদি আরবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই পোস্টে ধর্মীয় উগ্রতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের মতো বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তার বক্তব্যের মূল বার্তা—ধর্মের পরিচয় যা-ই হোক, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানই হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ।

কালের আলো/এসএ/জেএন

চার পায়ে দাঁড়াতে পারে না, মাথা দিয়েই ‘ল্যাম্বরগিনি’ চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিকি

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
চার পায়ে দাঁড়াতে পারে না, মাথা দিয়েই ‘ল্যাম্বরগিনি’ চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিকি

জন্মের পর থেকেই জীবন ছিল কঠিন। জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে চার পায়ে দাঁড়াতে পারত না ছোট্ট ভেড়াটি। অন্য ভেড়ার মতো দৌড়ে বেড়ানো তো দূরের কথা, নিজের মায়ের কাছ থেকেও মেলেনি আশ্রয়। কিন্তু প্রতিকূলতা তার জীবন থামিয়ে দিতে পারেনি। মানুষের মমতা, যত্ন আর ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগে এখন নিজের মতো করে চলাফেরা করছে কিকি। মাথা দিয়ে জয়স্টিক নিয়ন্ত্রণ করে চালায় মোটরচালিত হুইলচেয়ার, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ল্যাম্বরগিনি’।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নর্থ ডার্টমাউথের প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র ‘ডোন্ট ফরগেট আস, পেট আস’-এ এখন কিকির বসবাস। তার জীবনকাহিনি শুধু একটি অসহায় প্রাণীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহায়ক প্রযুক্তি কীভাবে জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তারও এক অনন্য উদাহরণ।

জন্ম থেকেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই
২০২১ সালের ডিসেম্বরে জন্ম হয় কিকির। জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো বা হাঁটা সম্ভব ছিল না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কিকির মা ‘ক্যাশ ভ্যালি ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয়েছিল। ভেড়ার ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গর্ভস্থ বাচ্চার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অস্থিসন্ধির বিকাশে জটিলতা তৈরি করতে পারে। জন্মের পর কিকির মা তাকে দুধ খাওয়াতে অস্বীকার করে। ফলে তার জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রয়োজনীয় যত্ন ও পুষ্টির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিল ছোট্ট প্রাণীটি।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে খামারের মালিক ডেব প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রটির বোর্ড সদস্য মেগান কিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর মাত্র ১১ দিন বয়সে কিকিকে আশ্রয় দেওয়া হয় ‘ডোন্ট ফরগেট আস, পেট আস’ স্যাংচুয়ারিতে। বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন নানা প্রাণীর আশ্রয়স্থল এই কেন্দ্রেই শুরু হয় কিকির জীবনের নতুন অধ্যায়।

চিকিৎসায় মিলল না কাঙ্ক্ষিত সমাধান
কিকিকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করানোর জন্য পরিচর্যাকারীরা নানা চেষ্টা করেন। ফিজিওথেরাপি, চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার পা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে কিকির পরিচর্যাকারীরা হাল ছাড়েননি। আশ্রয়কেন্দ্রের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেব ডেভলিন লক্ষ করেন, খেলনা ও আশপাশের জিনিসের প্রতি কিকির বেশ আগ্রহ রয়েছে। মাথা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস ঠেলে সে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত।

কিকির এই স্বাভাবিক আচরণ থেকেই নতুন একটি ভাবনার জন্ম হয়। তাকে অন্যের সাহায্যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার পরিবর্তে নিজের মতো করে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা শুরু করেন পরিচর্যাকারীরা।

মাথা দিয়েই চালায় ‘ল্যাম্বরগিনি’
কিকির জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ একটি মোটরচালিত যান। একটি মোটরচালিত হুইলচেয়ারের ভিত্তির সঙ্গে কার্গো স্ট্রলারের অংশ যুক্ত করে সেটিকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়। যানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জয়স্টিক। সেটি এমনভাবে বসানো হয়, যাতে কিকি মাথা বা থুতনি দিয়ে ঠেলে চলার দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

নতুন এই যান চালানোর সুযোগ পেয়ে কিকি দ্রুত কৌশলটি আয়ত্ত করে ফেলে। এখন সে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, পেছনে ফিরতে পারে, এমনকি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দিকও পরিবর্তন করতে পারে।

কিকির চলার এই বিশেষ যানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ল্যাম্বরগিনি’। নামের সঙ্গে মিল রেখে তার চলাফেরার উৎসাহও কম নয়। আশ্রয়কেন্দ্রের চত্বরে নিজের যান নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সে। কখনো এতটাই উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যায় যে তাকে থামানোর জন্য পরিচর্যাকারীদের ডাকতে হয়। যে প্রাণীটি একসময় নিজের জায়গা থেকে নড়াচড়া করতেও পারত না, সেই কিকিই এখন নিজের চলাফেরার নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখেছে।

কিকির গল্প ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের কাছেও
কিকির জীবন শুধু তার নিজের জন্যই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেনি, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে অন্যদেরও। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে তার সঙ্গে বসবাস করে আরও অনেক প্রাণী। তাদের সঙ্গেও সময় কাটায় কিকি, কখনো হয়ে ওঠে সঙ্গী, কখনো দেখায় মমতাপূর্ণ আচরণ।

তার ব্যতিক্রমী চলাফেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে ফক্স ১১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেব ডেভলিন জানান, কিকির ভিডিও দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসনকেন্দ্র ও থেরাপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রোগীদের উৎসাহ দিতে কিকির ভিডিও ব্যবহার করছেন।

কিকির গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেই জীবনের আনন্দ কিংবা স্বাধীনতার সব পথ বন্ধ হয়ে যায় না। উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং নতুন সমাধানের সুযোগ পেলে অনেক কিছুই সম্ভব।

সীমাবদ্ধতা নয়, সুযোগই বদলে দিতে পারে জীবন
কিকি হয়তো অন্য ভেড়ার মতো চার পায়ে ভর দিয়ে দৌড়াতে পারবে না। কিন্তু তার জীবন থেমে নেই। মানুষের যত্ন আর প্রযুক্তির সহায়তায় সে খুঁজে পেয়েছে চলাফেরার নিজস্ব পথ।

জন্মের পর যে প্রাণীটি মায়ের কাছ থেকেও আশ্রয় পায়নি, আজ সেই কিকিই মানুষের ভালোবাসায় ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের ‘ল্যাম্বরগিনি’ নিয়ে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়, কাউকে শুধু তার সীমাবদ্ধতা দিয়ে বিচার করা যায় না। কখনো একটু মমতা, কখনো প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নতুন ব্যবস্থা—এ দুয়ের সমন্বয়েই খুলে যেতে পারে স্বাধীনতার নতুন দরজা।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন