খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা দেওয়ার পর দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের একটি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন হাজারো মানুষ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার গতি ‘আরও বাড়ানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও গভীরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইডিএফ স্থলভাগে বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলা প্রতিদিনই চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম ও দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলা ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও আঘাত হানে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ অঞ্চলটির অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় স্থাপনা।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ফাইবার-অপটিক ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা চালানোয় ইসরায়েল এখন হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়াবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব।’

এ ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে হাজারো মানুষ পরিবার নিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

যদিও রাতভর হামলায় রাজধানী বৈরুত সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তবু পুরো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক হামলা চালায়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি স্থানে ডজনখানেক হামলা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সালিম শহরে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও আরও দুজন নিহত হন।

রাতভর হামলায় মাশগারার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ছিল। আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ছিল সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে শুয়ে বিবিসিকে শিশুটি বলে, ‘ঘুম ভাঙার পর আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু অন্ধকার ছিল। পরে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাই।’

মোহাম্মদের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল, হাত-পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

বর্তমানে মাশগারা যেন প্রায় জনশূন্য। রাস্তায় খুব কম যানবাহন দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পৌরসভার সদস্য আহমদ সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। চারদিকে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর ইসরায়েল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’

এ সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসী দ্রুত সরে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কাছাকাছি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মাশগারার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়েছে।’

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও নজরদারি পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি বাহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

নেতানিয়াহু এমন সময় হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির এভারেস্ট জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির এভারেস্ট জয়

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অষ্টম এভারেস্টজয়ী।

বুধবার (২৭ মে) ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় দেশের পতাকা ওড়ান তিনি।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নুরুন্নাহার নিম্নির এভারেস্ট জয়ের খবরটি জানায় বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেছেন বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্নি। আজ নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫:২৪ মিনিটে তিনি এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন। অভিযান ব্যবস্থাপনা সংস্থা 8K Expedition থেকে অ্যাঙ তেম্বা শেরপা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গৌরবময় তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত আরোহণের লক্ষ্যে গত ২৫ মে নিম্নি ক্যাম্প-২ (৬,৪০০ মিটার) থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং রাতে ক্যাম্প-৩ (৭,২০০ মিটার) এ অবস্থান করেন। ২৬ মে ভোরে তিনি ক্যাম্প-৩ থেকে রওনা হয়ে দুপুর আড়াইটা নাগাদ ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছান। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়ার পর তিনি চূড়ার উদ্দেশ্যে তাঁর চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেন। সারারাত দুর্গম ও প্রতিকূল পথ পেরিয়ে আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছান এবং পরম গৌরবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরেন। তার সাথে ছিল দাওয়া নুপু শেরপা ও লাকপা থিনদুক শেরপা।

প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখর জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন নুরুন্নাহার নিম্নি।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্নি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। এরপর ধাপে ধাপে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যেই এভারেস্ট সামিটের উপযুক্ত সময় ধরা হয়। ১৭ মে চূড়ান্ত আরোহণের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন তিনি। ধাপে ধাপে ২৩ মে পৌঁছান ক্যাম্প–৪-এ। সেদিন শিখরের উদ্দেশে যাত্রা করেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিচে নেমে আসতে হয় তাকে।

এরপর অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় কয়েক দিন ক্যাম্প–২-এ অবস্থান করেন নিম্নি। ২৫ মে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে এলে আবার যাত্রা শুরু করেন। গতকাল পৌঁছান ক্যাম্প–৪-এ। সেখান থেকেই সন্ধ্যায় চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করে আজ নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের শিখরে ওঠেন তিনি। নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের এক শেরপা তার সঙ্গে রয়েছেন।

বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি। তার এই অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম সফল অভিযান পরিচালিত হয় ১৯৫৩ সালে। ওই বছরের ২৯ মে নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় ওঠেন নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারি।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এভারেস্টজয়ী হলেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে ওঠেন। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে দুবার এভারেস্ট জয় করেন এম এ মুহিত। ২০১২ সালে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন। ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্টজয়ী পঞ্চম বাংলাদেশি সজল খালেদ শিখর থেকে নামার পথে মারা যান।

এর ১১ বছর পর ২০২৪ সালে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান বাবর আলী। ২০২৫ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন।

ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকেই আগেই গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই পবিত্র দিনে অনাবিল আনন্দে ভাসছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। মুসলমানরা স্মরণ করছেন আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময় করছেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদুল আজহার ইতিহাস মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। মূলত এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা।

আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল থেকে তিনি পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করেই ইসলামি শরিয়তে কোরবানির বিধান চালু হয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ( ২৭ মে) সকালে বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পশ্চিম আকাশে মেঘ জমে প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে দুই নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির জিএম সালাম মিয়া জানান, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২৩টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ ও ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করে।

কালের আলো/এএএন/এমএস