খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: মাহদী আমিন

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, আমরা তা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি নতুন সাবজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় থাকবে, যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ নির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মননশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাক। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয়। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হবে। দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য সরকারের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় ছিল। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করছি। তিন-চার মাসে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

মাহদী বলেন, আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

বগুড়ায় হচ্ছে ফ্লাইং একাডেমি, সাধারণের সন্তানরাও হবে পাইলট: আফরোজা খানম

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় হচ্ছে ফ্লাইং একাডেমি, সাধারণের সন্তানরাও হবে পাইলট: আফরোজা খানম

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বগুড়ায় বিমান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফ্লাইং একাডেমি করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের সন্তানেরাও পাইলট হওয়ার সুযোগ পাবে। তাদের পড়াশোনার খরচও বহন করবে বিমান মন্ত্রণালয়।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হরিজন পল্লীতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আফরোজা খানম বলেন, বর্তমানে পাইলট হওয়ার খরচ এত বেশি যে মূলত ধনী পরিবারের সন্তান ও পাইলটদের সন্তানেরাই এ সুযোগ পেয়ে থাকে। এ কারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইং এয়ারফোর্সের সদস্যরা সাধারণ মানুষের সন্তানদের প্রশিক্ষণ দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে তারাও পাইলট হতে পারে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম কাজ ছিল প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। তাদের জন্য আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া অতীতের তুলনায় বিমানবন্দরের পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গঠনের তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ২৭টি মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। মানিকগঞ্জ পৌরসভা, সদর উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একটি করে মডেল মন্দির এবং শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, ১৭ বছরের জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি চেষ্টা করব, যাতে আপনাদের কলোনির উন্নয়ন হয় এবং আপনারা ভালো থাকতে পারেন।

সর্বশেষ আফরোজা খানম বলেন, মানিকগঞ্জ এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই দল, মত ও বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে একসঙ্গে আছেন, ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় এবং ডা. বদরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, অ্যাডভোকেট জহিরউদ্দিন লদী, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, আলী আশরাফ, গোলাম আবেদীন কায়সার, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া হাবু, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিন্নাহ খানসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত একেকটি প্রত্যক্ষ নীতির প্রতিফলন।

আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের একটি প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতিনির্ধারকদের করব্যবস্থাকে একটি কার্যকর প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা। এজন্য এমন একটি দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ দল প্রয়োজন, যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করনীতি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছি। যে সংস্থা নীতি ও করব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে, তাদের সিদ্ধান্তে অবশ্যই জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে। নীতির মূল অর্থই হলো—এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত একটি নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন থাকবে। আপনি যদি সঠিকভাবে নীতি প্রণয়ন করতে পারেন, তাহলে বাস্তবায়নের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আমরা বাজেটকে যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজন ও স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়েই নীতিগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এর চেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু মজা করে আমাকে কিছুটা বামপন্থী-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলেছিলেন, কারণ আমরা ব্যাপক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূলধারায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। এখানেই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিককে অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পীদের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীরা এতদিন অর্থনীতির মূলধারার বাইরে ছিলেন। তাদের পণ্য ও সৃজনশীল কাজের যথাযথ আর্থিক মূল্যায়নের সুযোগও ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই একজন গ্রামীণ কারিগর, যিনি মাটির পাত্র তৈরি করেন, কাপড় বোনেন কিংবা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করেন, তিনি যেন সহজ শর্তে ঋণ পান, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান এবং পণ্যের নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা পান। পাশাপাশি আমরা এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি, যা অ্যামাজন বা ইবের মতো বৈশ্বিক বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটেই সৃজনশীল অর্থনীতির বিষয়টি কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা ছোট পরিসরে শুরু করেছি, তবে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল সম্পদও এর আওতায় আসবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, তারাও এই উদ্যোগের অংশ হবেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে চাই, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের নীতিতে একটি ‘লাইফ সাইকেল অ্যাপ্রোচ’ থাকবে। একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন একটি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যা দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ সৃজনশীল অর্থনীতি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডকে উল্লেখ করা যায়। আশির দশকে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুব শক্তিশালী ছিল না, কিন্তু সৃজনশীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ছাড়াও বিডার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় সেই শিবির নেতাকে বহিষ্কার

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় সেই শিবির নেতাকে বহিষ্কার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

ওই পোস্টে ফরহাদ বলেন, গতরাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি দল কিংবা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। এখনও জিসান পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানবার সুযোগ আমরা পাইনি। ফলশ্রুতিতে, নিখোঁজ কিংবা অপহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো সোর্স এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।

তিনি বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিধবা নারী লিজা আক্তারের বড় বোন জানিয়েছেন, গতকাল বিকালে ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক তাদের বাড়ি থেকে লিজাকে নিয়ে যায়। এসময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেয়া হয়নি। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিজা ও তার বাবাকে এখনও পুলিশের জিম্মায় আইসোলেটেড অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানান, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে থানায় নেয়া, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতি—কোনো বিষয় সম্পর্কেই তিনি বিস্তারিত অবগত নন। কারণ, তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের জিম্মায় থাকা তার বোন লিজা ও তার বাবার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে, তিনি জিসান এবং লিজার প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত বলে জানিয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হইনি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরণের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে পরদিন দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ। পরে পুলিশ জানায়, মূলত বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ, পরবর্তীতে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত (ভ্রূণ হত্যা) করানো এবং ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান জিসান। এদিকে উদ্ধার হওয়ার পর জিসানের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ