খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সুগন্ধি আসছে, স্বপ্নে বলেছেন বেঁচে আছেন—তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
সুগন্ধি আসছে, স্বপ্নে বলেছেন বেঁচে আছেন—তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

ভোলা সদর উপজেলায় মৃত্যুর ১৮ দিনের মাথায় মরিয়ম নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়ে মরদেহ কোন অবস্থায় আছে তা দেখেছেন স্বজনরা। তাদের বিশ্বাস ছিল কবরে ওই তরুণী বেঁচে আছেন! যা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মরিয়ম ওই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিনী তাসনুর বেগমের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

 মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্রগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ মে ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন।

চিকিৎসা চলাকালে ২৮ মে ভোরে ঈদের দিন ঘরেই মৃত্যুবরণ করেন মরিয়ম। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা পড়ানো হয় এবং পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দাফনের কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে থাকে। কবরটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

স্থানীয় পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান ‘এটি অবাস্তব’।

অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির ওপর পুনরায় মাটি দেওয়ার পরামর্শ দিলে স্বজনরা মাটি দেন।

কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩০০-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেশী মো. লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্রগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করত মরিয়ম। কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পাশের ঘরে থাকে সে সুবাদে জানতে পেরেছি মারা যাওয়ার দুই দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে তার বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিল।

ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে গিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছে। পরে ঈদের নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়েছে।

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো.কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন। তিনি বেঁচে আছেন কি না বিষয়টি দেখতে। আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে। কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধি আমি পাইনি।

এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোঁড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমরা শুনেছি সে নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুঁড়েছে। বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম সে কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, ‘সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল। এখন সন্দেহ দূর হয়েছে’।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম  বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছে।

আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সেনাপ্রধান

Oplus_131072

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সদ্য কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের উপর ন্যস্ত হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব।

প্রধান অতিথি সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন।

এছাড়া ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপ এর অফিসার ক্যাডেট বিএমএ হতে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

পাশাপাশি, এ একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন সার্জেন্ট আবু বকর, তানজানিয়া।

পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন।

এরপর অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা এবং প্রশিক্ষণ শেষ করা ক্যাডেটদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ নবীন অফিসারদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

কালের আলো/এসএকে

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

Oplus_131072

 

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিজিবি।

বিজিবি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে ১ হাজার ৬৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১টি গবাদিপশু এবং বিপুল পরিমাণ কসমেটিকসসহ অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়। জব্দ কারা মালামালের মোট সিজারমূল্য ১৫ লাখ ২ হাজার ৭৬০ টাকা।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজিবি আরও জানায়, সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী সব বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এসএকে

নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না রাখে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না রাখে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

নিজের নিরাপত্তার কড়া ঘেরাটোপ যেন তাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়- স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তার কড়া ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হলে’ এসএসএফ-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং বাহিনীর একটি বিশেষ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন ও তার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে এসএসএফ-এর নিষ্ঠাপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকাকালে এবং জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিল। তার মৃত্যুর পর বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য তারেক রহমান নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ রাখা হয় এবং এর পরিধি বৃদ্ধি করা হয়। সময়ের বিবর্তনে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসএসএফ-এর মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে তিনি তাগিদ দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ম্যান্ডেট নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে নিজের কর্মপদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফ-কে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে এবং সরকার প্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে সমন্বয় আপনারা করছেন, তা প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ সময় পর (২০০২ সালের পর) এসএসএফ-এর মূল নির্দেশিকা ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফ-এর কার্যপদ্ধতির নীতিমালার পাশাপাশি আইনী সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রেড বুকের নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে মানার পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও সুযোগ রয়েছে। বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সুসমন্বয় বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় এসএসএফ আরও যুগোপযোগী ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন