খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্র: ৬ দেশের ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান জড়িত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্র: ৬ দেশের ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান জড়িত

দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেছে সিআইডি।

‎বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

‎সবচেয়ে বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশের ১০ জনের নাম রয়েছে। সব মিলিয়ে ভারত, শ্রীলংকা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে অভিযোগপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেড়শ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্র সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

‎চুরির ঘটনায় যাদের নাম এসেছে:
‎বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদার নাম রয়েছে। অভিযুক্তের তালিকায় আরও তিন বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছে। তারা হচ্ছেন-কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ। শেষ তিনজনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সিআইডি।

‎রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানাকে প্রধান করে একটি ফরেনসিক অডিট করা হয়। অভিযোগ রয়েছে-ওই অডিটের সময় বেশির ভাগ আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া হ্যাকিংয়ে সহায়তা, মানি লন্ডারিং ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্রআথ্রেশ, নীলভান্নান ও মাদুক্কুর আনন্দনের বিরুদ্ধে। খসড়া অভিযোগপত্রে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজনকে চিহ্নিত করে ল্যাজারাস গ্রুপ, পার্ক জিন হিয়োক কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গাও শুহুয়াসহ দুজন চীনা নাগরিকের নামও উঠে এসেছে।

‎চীনের পাশাপাশি, জাপানের সাসাকি নামের এক ব্যক্তি এই তালিকায় রয়েছে। রিজার্ভ চুরির পর একটি অংশ শ্রীলংকায় নেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় দেশটির হেগোডা গামাগে শ্যালিকা পেরেরাসহ আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে। ১১ বছর আগের এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে- সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো ও কাম সিন অংসহ ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও, উত্তর কোরিয়ার দুই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চুরির ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে।

‎মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, আমাদের তদন্ত শেষ হয়েছে, তদন্তে আমাদের আর কোনো কাজ বাকি নেই। আশা করছি শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দিতে পারব। ইতোমধ্যে খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

‎এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৬ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ৬ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সেই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ১ মার্চ খসড়া অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আরো ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আরো ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি

হামের প্রকোপের মধ্যে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বর। দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন। তবে এই সময়ে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন রয়েছেন।

এই সময়ে ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। এই বছর সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ওই বছর দেশে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। মশাবাহিত এই রোগে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নবনির্মিত ফায়ারিং রেঞ্জে অস্ত্রচালনা ও নিশানা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ব্যবহৃত একটি পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং নবনির্মিত ফায়ারিং রেঞ্জের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরে তিনি এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাহিনীর পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদে আফরোজা খানম

পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, পর্যটন খাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার  (১৮ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে পর্যটন শিল্প অন্যতম। কিন্তু বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে পর্যটন শিল্প এখনো অনেকটা পিছিয়ে। পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না?

জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন ও ব্র্যান্ডিংসহ পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যক্রম নিয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।

পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা পর্যটন মন্ত্রীর লিখিত জবাব থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো :

দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে প্রচার
দেশের পর্যটন আকর্ষণ ও সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিপণন কৌশল অনুসারে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে আসছে। সোর্স মার্কেটসমূহে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো ও বিটুবি সেশন আয়োজন, সোর্স মার্কেটের ট্যুর অপারেটর ট্রাভেল, এজেন্ট ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন, বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রচার, আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রচার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সোর্স মার্কেটে প্রচার কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর এ সব কার্যক্রমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/ হাইকমিশন কার্যকর সহযোগিতা দিচ্ছে।

টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি), ভিডিও, ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচার
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ডিজিটাল কনটেন্ট যেমন : টিভিসি, ডকুমেন্টারি, ফটো প্রস্তুতের কার্যক্রম নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর ২৮টি ৩-৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারি রয়েছে যেখানে থিমভিত্তিক বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ভিত্তিক কার্যক্রম-এর জন্য ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ৫০০ এর অধিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করেছে যা বিউটিফুল বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কম্পিটিশনের আয়োজন করে। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ২০০টি ফটো ও ২ থেকে ৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৬০টি বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ভিত্তিক ভিডিও ডকুমেন্টারি সংগ্রহ করেছে যা প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার ও বিপণনে ডিজিটাল মার্কেটিং
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন : ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (পূর্বতন টুইটার), লিংকডইন ও ইন্সটাগ্রামে ফটো ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি প্রমোশনাল ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন
বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল রাইটার, ইনফ্লুয়েন্সার, ব্লগার ও সাংবাদিকসহ বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন ও দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন করা হচ্ছে।

হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, খাবার পণ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিটুবি সেশন আয়োজন
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশি ট্যুর অপারেটর নিয়ে বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের ৯৭ জন ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশের ১২৫ জন ট্যুর অপারেটর এবং হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও টুরিস্ট ভেসেলের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীগণ তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ ও পর্যটন আকর্ষণ আগত ট্যুর অপারেটরদের নিকট তুলে ধরে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসসমূহের মাধ্যমে পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার
বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহ তুলে ধরতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে দেশের পর্যটন আকর্ষণ, পণ্য ও সেবা বিষয়ক লিফলেট, ব্রশিউর, টুরিস্ট ম্যাপ, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ব্রান্ডবুক ও টিভিসিসহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পর্যটকদের নিকট দেশের পর্যটন পণ্য ও সেবা বিষয়ক তথ্য দেওয়া ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অফিস বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি নামক একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউজ কিপিং, ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকিটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স বা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে ও দোভাষী হিসেবে দক্ষতা উন্নয়নে গাইডদের বিদেশি ভাষার ওপর এবং সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন শিল্পের (ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিক) মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অংশীজন পরিচিতিমূলক সভা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটিতে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের ইন্টার্নশিপ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলিয়ার, ক্রুজ শিপের কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্ট্রিট ফুড ভেন্ডর, সিবিটি কর্মী, হোমস্টের পরিবার, ইউএন ভলেন্টিয়ারদের সেবা দেওয়া ও দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন