খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হত্যা মামলায় ‘দেশ টিভি’র সাবেক এমডি আরিফ হাসানকে গ্রেফতার আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
হত্যা মামলায় ‘দেশ টিভি’র সাবেক এমডি আরিফ হাসানকে গ্রেফতার আদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া প্রাইভেটকার চালক বাবুল হত্যা মামলায় দেশ টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরিফ হাসানকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, মো. আরিফ হাসান এরই মধ্যে একাধিক মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, তিনি এই হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় ‘মূল অর্থ জোগানদাতা’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাহমিনা সুলতানা আবেদনটির বিরোধিতা করে বলেন, আরিফ হাসান একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা থাকলেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং হার্টে রিং পরানো রয়েছে। একই দিনে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন প্রাইভেটকার চালক বাবুল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২২ জুলাই নিহত বাবুলের স্ত্রী বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জামায়াতের সেই সংসদ সদস্যকে ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
জামায়াতের সেই সংসদ সদস্যকে ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান। জামায়াতের সেই সংসদ সদস্যকে সেই ওভেন দিতে চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ তাকে মাইক্রোওয়েভ দিতে চান। পাশাপাশি জামায়াতের নেতা যা চেয়েছেন তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, জামায়াতের এমপির এই ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস— এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদ চলাকালীন বা সংসদের ব্যাপারে হতে হবে। এজন্য আমি মনে করলাম যে, এটা একটা ব্রডার কনটেক্সটে সংসদকে এফেক্ট করে। অনেক কষ্টের পরেই এই পার্লামেন্ট আমরা পেয়েছি এবং আমি আমার প্রথম স্পিচেও বলেছিলাম যে, এটা বেস্ট পার্ট অফ দ্য পার্লামেন্ট। এই যে এখানে স্বৈরাচারের কোনও দোসর বা ফ্যাসিস্টের কেউ নেই। গত পার্লামেন্ট শুধু গণতন্ত্রকে হত্যা করেনি, পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে মমতাজের গান হয়েছে। এখানে অন্য কিছু হয়েছে।

পার্থ বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, ডাইরেক্টলি ওদিকে না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় কিন্তু আমরা ওদিকে চলে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু মেম্বার অব পার্লামেন্ট ছাড়াও অ্যাম্বাসেডরস অব দ্য পার্লামেন্ট। আমরা যখন বাইরে কোথাও যাই, আমরা পার্লামেন্টকে রিপ্রেজেন্ট করি। গত দিন পার্লামেন্ট থেকে যাওয়ার পরে আমি অনেক টেলিফোন পাই এবং সেখানে আমি ডিফেন্ড করার চেষ্টা করি। ডেইলি স্টার নিউজ করে জামায়াত এমপির ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস— এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, এটা এই পার্লামেন্টকে অনেক লজ্জা দেয় যে— একটা মেম্বার অব পার্লামেন্ট এখানে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবে, জনগণের দাবির কথা বলবে— সেখানে উনি ওয়াশিং মেশিন পেল না, মাইক্রোওয়েভ পেল না, সেই ব্যাপারে বলছে।

১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ সংসদে বলেন, ওনারা বলেছিলেন যে, আমরা গাড়ি নেব না, প্লট নেব না। গাড়ি আর প্লট যখন ওনারা বাদ দিলেন, তখন ওনাদের বুকের ওপরে কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো যে, মাইক্রোওয়েভ আর ওয়াশিং মেশিনের জন্য এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে যে, এই স্ট্যান্ডার্ড আমাদের মেইনটেইন করা উচিত।

পার্থ বলেন, তারপরও আমার ভাই যেহেতু কমেন্ট করেছেন। আমি উনাকে বিব্রত না করে আগামীতে যদি উনার পর্দা বা ওভেন লাগে, আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে রিকুয়েস্ট করতে চাই, যদি ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেন। হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম যে, পর্দাটা যদি উনি কিনে দিতেন, ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম। তারপরও উনি যেন সংসদকে বিব্রত না করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, ছাড়াল সাড়ে ১২ হাজার কোটি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, ছাড়াল সাড়ে ১২ হাজার কোটি

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ক্রমেই টাকার পাহাড় গড়ছেন বাংলাদেশিরা। সেখানে বাংলাদেশিদের আমানত ছাড়িয়েছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ শতাংশ, জমা পড়েছে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক- সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে এটি ছিলো ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি টাকার হিসাবে আট হাজার ৮৪৩ কোটির বেশি। অর্থাৎ, এই সময়ে অর্থ বেড়েছে তিন হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২১ সালে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাংলাদেশি আমানত। এরপরের দুবছর নজিরবিহীন হারে টাকা তুলে নেয় বাংলাদেশিরা। ফলে ২০২৩ সালে আমানত কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হঠাৎ এই উলম্ফনের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব:
বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুথানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা দেশ ছাড়েন। তাঁদের অনেকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসব কারণে তাঁদের অনেকে বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার বিগত সরকারের সময়ে বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্রে। পাচার হওয়া অর্থও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।

একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। তাই এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন— এমন অভিযোগ আছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন