খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

জামায়াতের সেই সংসদ সদস্যকে ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
জামায়াতের সেই সংসদ সদস্যকে ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান। জামায়াতের সেই সংসদ সদস্যকে সেই ওভেন দিতে চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ তাকে মাইক্রোওয়েভ দিতে চান। পাশাপাশি জামায়াতের নেতা যা চেয়েছেন তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, জামায়াতের এমপির এই ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস— এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদ চলাকালীন বা সংসদের ব্যাপারে হতে হবে। এজন্য আমি মনে করলাম যে, এটা একটা ব্রডার কনটেক্সটে সংসদকে এফেক্ট করে। অনেক কষ্টের পরেই এই পার্লামেন্ট আমরা পেয়েছি এবং আমি আমার প্রথম স্পিচেও বলেছিলাম যে, এটা বেস্ট পার্ট অফ দ্য পার্লামেন্ট। এই যে এখানে স্বৈরাচারের কোনও দোসর বা ফ্যাসিস্টের কেউ নেই। গত পার্লামেন্ট শুধু গণতন্ত্রকে হত্যা করেনি, পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে মমতাজের গান হয়েছে। এখানে অন্য কিছু হয়েছে।

পার্থ বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, ডাইরেক্টলি ওদিকে না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় কিন্তু আমরা ওদিকে চলে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু মেম্বার অব পার্লামেন্ট ছাড়াও অ্যাম্বাসেডরস অব দ্য পার্লামেন্ট। আমরা যখন বাইরে কোথাও যাই, আমরা পার্লামেন্টকে রিপ্রেজেন্ট করি। গত দিন পার্লামেন্ট থেকে যাওয়ার পরে আমি অনেক টেলিফোন পাই এবং সেখানে আমি ডিফেন্ড করার চেষ্টা করি। ডেইলি স্টার নিউজ করে জামায়াত এমপির ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস— এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, এটা এই পার্লামেন্টকে অনেক লজ্জা দেয় যে— একটা মেম্বার অব পার্লামেন্ট এখানে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবে, জনগণের দাবির কথা বলবে— সেখানে উনি ওয়াশিং মেশিন পেল না, মাইক্রোওয়েভ পেল না, সেই ব্যাপারে বলছে।

১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ সংসদে বলেন, ওনারা বলেছিলেন যে, আমরা গাড়ি নেব না, প্লট নেব না। গাড়ি আর প্লট যখন ওনারা বাদ দিলেন, তখন ওনাদের বুকের ওপরে কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো যে, মাইক্রোওয়েভ আর ওয়াশিং মেশিনের জন্য এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে যে, এই স্ট্যান্ডার্ড আমাদের মেইনটেইন করা উচিত।

পার্থ বলেন, তারপরও আমার ভাই যেহেতু কমেন্ট করেছেন। আমি উনাকে বিব্রত না করে আগামীতে যদি উনার পর্দা বা ওভেন লাগে, আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে রিকুয়েস্ট করতে চাই, যদি ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেন। হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম যে, পর্দাটা যদি উনি কিনে দিতেন, ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম। তারপরও উনি যেন সংসদকে বিব্রত না করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু

হুমায়ুন কবির রিটন (কেন্দুয়া) নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ও মাসকা ইউনিয়নে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে বজ্রপাত হয়। নিহতরা হলেন সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামে বসবাসরত আশরাফুল (৩৫) এবং মাসকা ইউনিয়নের দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল হুদা (৫৫)। আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বাউচাপুর গ্রামে। তিনি ইনচান মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল দীর্ঘদিন ধরে কেন্দুয়া উপজেলার ডাউকি গ্রামে তার মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং মাছ ধরতে পছন্দ করতেন। বুধবার রাতেও মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বড়শি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বৃহস্পতিবার সকালে ডাউকি গ্রামের পেছনের মরাপুড়ি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদা বাড়ির পাশের মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে স্থানীয়দের ধারণা। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাশেম মিয়া ও আশরাফুলের মামা মো. ইদ্দু মিয়া জানান, আশরাফুল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং প্রায়ই মাছ ধরতে বিভিন্ন স্থানে যেতেন। বুধবার রাতেও তিনি বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন।

কেন্দুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুইজনই বজ্রপাতে মারা গেছেন। আশরাফুলের মরদেহের পাশ থেকে মাছ ধরার বড়শি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শামসুল হুদার শরীরেও বজ্রপাতে মৃত্যুর চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহদাত হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করে স্বাধীন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেছেন।

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্য তাদের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে, সে সংখ্যাও উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের নাম প্রকাশ করিনি।

এখন যেই দল ঋণ খেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদেরকে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব, তাদের উপরে দায় চাপায়, এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণ খেলাফীদের সংসদ বলবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি টু থার্ড মেজরিটি করেছে,  তারা ঋণ খেলাফীদের সংসদ নিয়ে এসেছে, এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলতেছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণ খেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, এই সংসদে তাহলে স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব?

তার আগে গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য  ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।’

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাট করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে– ‘ঋণ খেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’।

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে— ‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণ খেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি