খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার গেলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

এর আগে, রোববার (২১ জুন) দুপুর পৌনে ৩টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। দুই দিনের এই সফর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একেবারেই ছোট।

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেন বিএনপিপ্রধান তারেক রহমান। এর চার মাস বাদে প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ ২৩ জন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় দিনের সফরসূচি তুলে ধরেন।

সচিব সিয়াম জানান, সরকারপ্রধানের কুয়ালা লামপুরের সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, সফরের প্রথম দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপরই উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম।

তিনি বলেন, বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার দুইদিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অ নুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালা লামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন।

সেখানে ২৬ জুন ওইদিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠক শেষে ওইদিন তিনি বিকালে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।

কালের আলো/এসএকে

দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতার রাজনীতিতে বন্ধুত্ব, আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় নীতি ও আদর্শকে ছাপিয়ে যায়। ইতিহাস বলে, অধিকাংশ সরকারই বিরোধী দলের আক্রমণে নয়, বরং নিজেদের ভেতরের সীমাহীন সুবিধাবাদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিহীনতার কারণে জনসমর্থন হারায়। সেই বাস্তবতায় বগুড়ার ইউনিয়ন নামকরণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরকারের ভেতরে ও বাইরে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি হলো—রাষ্ট্র ব্যক্তির চেয়ে বড়, প্রতিষ্ঠান পরিবারের চেয়ে বড় এবং জনগণের স্বার্থ বন্ধুত্বের চেয়েও বড়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই বার্তারই একটি বাস্তব পরীক্ষায় পরিণত হয়েছিল। কারণ বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা, পরিবারতন্ত্র, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

যখন একটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে, দুটি ইউনিয়নের নাম তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে এবং আরেকটি ইউনিয়নের নাম তাঁর ভাতিজির ডাকনামের সঙ্গে মিলে যায়, তখন জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে প্রশ্নকে দমন করা যায়, কিন্তু উপেক্ষা করা যায় না।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টিকে “মিরাকল” বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কখনো অলৌকিকতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় আইন, নীতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে। জনগণ কাকতালীয় ব্যাখ্যা শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া।

এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন বিতর্কিত ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন, তখন তিনি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করেননি; তিনি একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে সরকারের ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা কোনো ব্যক্তির চেয়ে বড়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। সাধারণত ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা নানা বিতর্কে জড়িয়েও প্রভাবের বলয়ে সুরক্ষিত থাকেন। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন একটি বার্তা, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান।

দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসন জীবনে তারেক রহমান বারবার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, “I Have A Plan”। তখন অনেকে এটিকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, তিনি অন্তত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক আচরণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, তাঁর চারপাশের সবাই সেই দর্শন ধারণ করতে পারছেন না।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এমন সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; পুরো সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ব্যক্তিস্বার্থ, পরিবারতন্ত্র, প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির সংস্কৃতি যেন এখনো কিছু মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান।

মীর শাহে আলমকে ঘিরে বিতর্কও কেবল ইউনিয়নের নামকরণে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্প বরাদ্দ, পরিবারের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাগুলোও জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য অভিযোগের অস্তিত্বই একটি বড় বিষয়। কারণ রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াই যথেষ্ট নয়; জনগণের কাছে সৎ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে “Conflict of Interest” বা স্বার্থের সংঘাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ ক্ষমতার অবস্থানে থাকা ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যদি একই ক্ষমতার কাঠামো থেকে সুবিধা পান, তাহলে জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ দূর করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা এবং চাপ সৃষ্টির অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম কোনো সরকারের শত্রু নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না। সেই আয়নায় যদি কোনো ত্রুটি প্রতিফলিত হয়, তাহলে আয়না ভাঙার চেষ্টা নয়; ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগই হওয়া উচিত রাষ্ট্রনায়কের কাজ।

এখানেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একা কতদিন এই বোঝা বহন করবেন? সরকারের যাত্রার শুরুতেই যদি কিছু মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে তার রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত পুরো সরকারকেই দিতে হবে। কারণ জনগণ পৃথক কোনো মন্ত্রীকে নয়; পুরো সরকারকেই মূল্যায়ন করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন। তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি অনেক বড় সম্পদ। সেই সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের নেই।

বিএনপির ভেতরে সৎ, আদর্শবান, ত্যাগী এবং জনমুখী নেতৃত্বের অভাব নেই। সরকার পরিচালনার জন্য অসংখ্য যোগ্য মানুষ রয়েছেন। তাহলে কেন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির কারণে পুরো সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে? কেন একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্যের ভুলের বোঝা টেনে নিয়ে যেতে হবে?

সুতরাং আজ সময় এসেছে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, যারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে রাষ্ট্রের স্বার্থের ওপরে স্থান দেন, যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন—তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে যারা সততা, দক্ষতা এবং জনকল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যদি কোনো সিন্ডিকেট, সুবিধাভোগী চক্র কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়ে থাকে, যারা নিয়োগ, বদলি, ব্যবসায়িক সুবিধা অথবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছে, তাহলে সেই চক্র ভেঙে দিতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী দলের কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিজেদের ভেতরের সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে। এর আগেও বহুবার আমি এ কথা বলেছি।

তারেক রহমানের সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত জনগণ। কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো গোষ্ঠী নয়, কোনো সিন্ডিকেট নয়। জনগণের আস্থা হারালে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। আবার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারলে সবচেয়ে কঠিন সংকটও মোকাবিলা করা সম্ভব।

মীর শাহে আলম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট নয়। সরকারের ভেতরে যদি সত্যিই কোনো সুবিধাভোগী চক্র, পরিবারতান্ত্রিক প্রবণতা, দুর্নীতি, প্রভাব-বাণিজ্য কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা দেখাতে হবে। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রী একা একটি রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারেন না। তাঁকে সহায়তা করার জন্য দরকার সৎ, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনস্বার্থে নিবেদিত একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো।

তারেক রহমান যদি সত্যিই তাঁর ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে তাঁকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বোঝা বহন করবেন, নাকি জনগণের আস্থাকে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবেন?

সকলেরই একটি সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত যে, ইতিহাসের আদালতে শেষ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা সিন্ডিকেটের বিচার হয় না; বিচার হয় সরকারের, বিচার হয় নেতৃত্বের।

আজকের বাংলাদেশে জনগণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন, বেশি তথ্যসমৃদ্ধ এবং বেশি প্রত্যাশাপূর্ণ। তারা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় রাজনৈতিক সততা। তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি চায় না; তারা পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ চায়। কারণ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ, সবচেয়ে বড় বিচারক জনগণ, আর সবচেয়ে বড় ভরসাও জনগণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ যুবক নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ যুবক নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের পাঁচ বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার (২১ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কাতারের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় সানাইয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিহতরা সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন—ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মোস্তাক আহমদ (৩০), মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩০), আগতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), আমরপুর গ্রামের আবদুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৬) এবং দক্ষিণবাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ (২৪)।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নিহত প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন। তাদের এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পরিবার ও দেশ উভয়ই গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

দক্ষিণ লেবাননে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা সংঘর্ষের মাঝে সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সংঘাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানের ওপর আবারও খুব জোরালো আঘাত হানব। তবে এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী!!!’’

শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনীকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর লড়াই কিছুটা শিথিল হয়েছে।

গত বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বৈরিতা বা সংঘাত অবসানের শর্ত দেওয়া হয়। রোববার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গত মাত্র কয়েক দিনে আমি দারুণ অগ্রগতি দেখেছি।

তিনি বলেন, আমরা সবাই আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে কাজ করছি। লেবাননে আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আসলে আমি খুব আশাবাদী। এখনও কিছু বাড়তি কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।

ভ্যান্স বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত থামাতে ট্রাম্প এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় বেশি ভূমিকা রেখেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি