খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। সরকারের দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা বিদ্যুৎ বিলিংয়ে স্বচ্ছতা আনবে, বকেয়া কমাবে, অপচয় রোধ করবে এবং গ্রাহকদের নিজেদের ব্যবহারের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের বহু অঞ্চলে এই প্রিপেইড মিটার এখন সুবিধার চেয়ে ভোগান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। জনগণের একটি বড় অংশের কাছে এটি এখন “ডিজিটাল উন্নয়ন” নয়, বরং “ডিজিটাল বিড়ম্বনা”র আরেক নাম।

প্রশ্ন হলো, যে প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার কথা ছিল, সেটি কেন আজ অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ, হতাশা এবং অবিশ্বাসের কারণ হয়ে উঠেছে?

রিচার্জের পরই টাকা কমে যাওয়ার অভিযোগ: স্বচ্ছতা কোথায়?
প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় একটি অভিযোগ—রিচার্জ করা অর্থের পুরোটা ব্যালেন্সে দেখা যায় না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, ১,০০০ টাকা রিচার্জ করার পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, পূর্ববর্তী সমন্বয় অথবা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে এই অর্থ কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি সব কর্তন বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, তাহলে প্রতিটি টাকার বিস্তারিত হিসাব কেন গ্রাহককে পরিষ্কারভাবে দেখানো হয় না? একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার কথা স্বচ্ছতা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মানুষ টাকা হারানোর অনুভূতি নিয়ে রিচার্জ করছে কিন্তু কোথায় কত টাকা গেল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাচ্ছে না। ফলে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং ক্ষোভ জন্ম নেওয়াই স্বাভাবিক।

কেন হঠাৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে?
দেশের বহু পরিবার দাবি করছে, অ্যানালগ বা পোস্টপেইড মিটারের সময় যেখানে মাসিক বিল ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে প্রিপেইড মিটার চালুর পর একই ব্যবহারেও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে নতুন মিটারের বেশি নির্ভুলতা, ট্যারিফ স্ল্যাব, ব্যবহারগত পরিবর্তন কিংবা প্রযুক্তিগত কনফিগারেশনের বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হচ্ছে—যদি সবকিছুই এত স্বাভাবিক হয়, তাহলে কেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠছে? জনমনে এই সংশয় দূর করার একমাত্র উপায় হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি অডিট। কারণ কোনো প্রযুক্তি সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয় তথ্যের মাধ্যমে, ব্যাখ্যার মাধ্যমে নয়।

“ভুতুড়ে বিল” বিতর্ক কেন থামছে না?
বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার, কয়েক দশ হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ টাকার বিলের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব ঘটনাকে ডেটা এন্ট্রি ভুল, মিটার রিডিং ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একই ধরনের ভুল কেন বারবার ঘটছে? একজন গ্রাহকের ভুল বিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একই ধরনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকে, তখন সেটি শুধু বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং ব্যবস্থাগত দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিটি অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এখন সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সুবিধা নয়, ডিজিটাল বিড়ম্বনা
প্রিপেইড মিটারকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ সমন্বয়ের সময় অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন নম্বর পাঠানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৫০ থেকে ২০০ ডিজিটেরও বেশি কোড ইনপুট দিতে হয়েছে।

প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ কিংবা বয়স্ক মানুষের জন্য এটি কার্যত এক ধরনের দুর্ভোগ। একটি সংখ্যা ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায় না।
ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্দেশ্য যদি মানুষের জীবন সহজ করা হয়, তাহলে শত শত ডিজিটের কোড টাইপ করানো কোন ধরনের আধুনিকতা?

গ্রাহক ভোগান্তির বাস্তবতা
প্রিপেইড মিটারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। পোস্টপেইড ব্যবস্থায় বিল পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেও সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হলেই ঘর অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মিটারের ব্যাটারি সমস্যা, টোকেন ত্রুটি, কার্ডের জটিলতা অথবা সফটওয়্যারজনিত কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিঘ্নিত হয়। রাতে, ছুটির দিনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে এসব সমস্যার সমাধান পেতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জামনির্ভর পরিবারের জন্য এটি শুধু অসুবিধা নয়, অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।

মিটার ক্রয় ও সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক
প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহৃত মিটারের মান, মূল্য এবং ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক দরপত্র, সরবরাহকারী নির্বাচন এবং প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না। মিটারের প্রকৃত মূল্য এবং জনগণের ওপর আরোপিত ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের অভিযোগও বহুবার সামনে এসেছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সব প্রকল্প সরকারি ক্রয়বিধি মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু জনআস্থার প্রশ্নে শুধু সরকারি ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন নিরীক্ষা এবং চুক্তিপত্রের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করাই হতে পারে আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রযুক্তি কি জনগণের জন্য, নাকি শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য?
উন্নত দেশগুলোতে প্রিপেইড মিটার মূলত গ্রাহকসেবা উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক গ্রাহকের ধারণা, এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি রাজস্ব আদায়কেন্দ্রিক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
যখন একজন গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবই স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না, যখন রিচার্জের পর টাকা কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, যখন অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পান না—তখন প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ার বদলে অবিশ্বাসই বাড়ে।

সমাধানের পথ কী?
প্রিপেইড মিটারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনঅসন্তোষ আর বিচ্ছিন্ন অভিযোগের বিষয় নয়; এটি এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। তাই অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক অডিট করতে হবে। বিলিং সফটওয়্যার, চার্জ কাঠামো এবং ইউনিট গণনার পদ্ধতি নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি রিচার্জের ক্ষেত্রে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে দেখানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন, মিটার ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বর্তমান ব্যবস্থা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাহলে পুরো প্রিপেইড পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করা যাবে না।

পরিশেষে বলা যায়,প্রিপেইড মিটার কোনো খারাপ প্রযুক্তি নয়; বরং সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রযুক্তির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বাসের সংকট। যখন একজন গ্রাহক বুঝতে পারেন না তার রিচার্জ করা টাকার কত অংশ কোথায় গেল, যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকার পরও বিল বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যখন অস্বাভাবিক বিল, দীর্ঘ টোকেন নম্বর কিংবা আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা বারবার ঘটে, তখন সমস্যাটি আর শুধু প্রযুক্তিগত থাকে না; এটি জনআস্থা ও সুশাসনের প্রশ্নে পরিণত হয়। সুতরাং রাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নতুন প্রযুক্তি স্থাপন নয়; বরং সেই প্রযুক্তি জনগণের জীবন কতটা সহজ, ন্যায্য ও স্বস্তিদায়ক করেছে। তাই প্রিপেইড মিটার নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভকে উপেক্ষা না করে সত্য উদঘাটন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। কারণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির নামে মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে তারা।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মিলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে স্কোর ২-১ করেছে আর্জেন্টিনা।

দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করেছে ইংল্যান্ডই।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে দুর্দান্তভাবে বল নামিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনে। সেখান থেকে বল পেয়ে ডিজেড স্পেন্সকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হুলিয়ান আলভারেজ।

তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বল আবারও পেয়ে যান আলভারেজ। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় থ্রি লায়ন্স।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্রেফ মারামারির একটি খেলা প্রত্যক্ষ করছে ফুটবল সমর্থকরা। যে ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হলো না। তবে দ্বিতীয়ার্দের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই আর্জেন্টিনার জালে বল প্রবশে করালো ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের দারুণ একটি ক্রস বাম কোন দিয়ে আলতো টোকায় আর্জেন্টিনার জালে জড়ান অ্যান্থোনি গর্ডন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার মহারণ। তবে গোলের দেখা মেলেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি কেউ।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কড়া মার্কিং।

খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল শারীরিক লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।

প্রথমার্ধের বড় একটি সময় দুই দলই একে অপরকে আটকে রাখে মাঝমাঠে। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি।

 

ইংল্যান্ড কিছুটা বেশি সংগঠিত ফুটবল খেললেও হ্যারি কেইন কার্যত ম্যাচের বাইরে ছিলেন। প্রথম ২৮ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়কের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, যা মাঠের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন পুরো প্রথমার্ধে মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন। কয়েকবার বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শক্ত ট্যাকলও করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে মেসি ড্রিবল করে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগোতেই অ্যান্ডারসনের করা ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩২ মিনিটে জুদ বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে ইংল্যান্ড প্রায় এগিয়েই গিয়েছিল। ডেকলান রাইসের দারুণ ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে হেড করেন। তবে বল জালের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে। ছোট পাসে খেলা শুরু করে পারেদেসের কাছ থেকে বল ফেরত পান মেসি। তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে আসে এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। দূরপাল্লার জোরালো শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি, কিন্তু বল অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই রক্ষণে ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে আক্রমণে শেষ মুহূর্তের ধারালো স্পর্শের অভাব ছিল স্পষ্ট। রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই বিশ্বশক্তি।

এখন দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি