খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। সরকারের দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা বিদ্যুৎ বিলিংয়ে স্বচ্ছতা আনবে, বকেয়া কমাবে, অপচয় রোধ করবে এবং গ্রাহকদের নিজেদের ব্যবহারের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের বহু অঞ্চলে এই প্রিপেইড মিটার এখন সুবিধার চেয়ে ভোগান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। জনগণের একটি বড় অংশের কাছে এটি এখন “ডিজিটাল উন্নয়ন” নয়, বরং “ডিজিটাল বিড়ম্বনা”র আরেক নাম।

প্রশ্ন হলো, যে প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার কথা ছিল, সেটি কেন আজ অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ, হতাশা এবং অবিশ্বাসের কারণ হয়ে উঠেছে?

রিচার্জের পরই টাকা কমে যাওয়ার অভিযোগ: স্বচ্ছতা কোথায়?
প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় একটি অভিযোগ—রিচার্জ করা অর্থের পুরোটা ব্যালেন্সে দেখা যায় না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, ১,০০০ টাকা রিচার্জ করার পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, পূর্ববর্তী সমন্বয় অথবা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে এই অর্থ কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি সব কর্তন বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, তাহলে প্রতিটি টাকার বিস্তারিত হিসাব কেন গ্রাহককে পরিষ্কারভাবে দেখানো হয় না? একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার কথা স্বচ্ছতা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মানুষ টাকা হারানোর অনুভূতি নিয়ে রিচার্জ করছে কিন্তু কোথায় কত টাকা গেল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাচ্ছে না। ফলে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং ক্ষোভ জন্ম নেওয়াই স্বাভাবিক।

কেন হঠাৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে?
দেশের বহু পরিবার দাবি করছে, অ্যানালগ বা পোস্টপেইড মিটারের সময় যেখানে মাসিক বিল ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে প্রিপেইড মিটার চালুর পর একই ব্যবহারেও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে নতুন মিটারের বেশি নির্ভুলতা, ট্যারিফ স্ল্যাব, ব্যবহারগত পরিবর্তন কিংবা প্রযুক্তিগত কনফিগারেশনের বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হচ্ছে—যদি সবকিছুই এত স্বাভাবিক হয়, তাহলে কেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠছে? জনমনে এই সংশয় দূর করার একমাত্র উপায় হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি অডিট। কারণ কোনো প্রযুক্তি সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয় তথ্যের মাধ্যমে, ব্যাখ্যার মাধ্যমে নয়।

“ভুতুড়ে বিল” বিতর্ক কেন থামছে না?
বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার, কয়েক দশ হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ টাকার বিলের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব ঘটনাকে ডেটা এন্ট্রি ভুল, মিটার রিডিং ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একই ধরনের ভুল কেন বারবার ঘটছে? একজন গ্রাহকের ভুল বিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একই ধরনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকে, তখন সেটি শুধু বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং ব্যবস্থাগত দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিটি অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এখন সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সুবিধা নয়, ডিজিটাল বিড়ম্বনা
প্রিপেইড মিটারকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ সমন্বয়ের সময় অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন নম্বর পাঠানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৫০ থেকে ২০০ ডিজিটেরও বেশি কোড ইনপুট দিতে হয়েছে।

প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ কিংবা বয়স্ক মানুষের জন্য এটি কার্যত এক ধরনের দুর্ভোগ। একটি সংখ্যা ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায় না।
ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্দেশ্য যদি মানুষের জীবন সহজ করা হয়, তাহলে শত শত ডিজিটের কোড টাইপ করানো কোন ধরনের আধুনিকতা?

গ্রাহক ভোগান্তির বাস্তবতা
প্রিপেইড মিটারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। পোস্টপেইড ব্যবস্থায় বিল পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেও সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হলেই ঘর অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মিটারের ব্যাটারি সমস্যা, টোকেন ত্রুটি, কার্ডের জটিলতা অথবা সফটওয়্যারজনিত কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিঘ্নিত হয়। রাতে, ছুটির দিনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে এসব সমস্যার সমাধান পেতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জামনির্ভর পরিবারের জন্য এটি শুধু অসুবিধা নয়, অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।

মিটার ক্রয় ও সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক
প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহৃত মিটারের মান, মূল্য এবং ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক দরপত্র, সরবরাহকারী নির্বাচন এবং প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না। মিটারের প্রকৃত মূল্য এবং জনগণের ওপর আরোপিত ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের অভিযোগও বহুবার সামনে এসেছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সব প্রকল্প সরকারি ক্রয়বিধি মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু জনআস্থার প্রশ্নে শুধু সরকারি ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন নিরীক্ষা এবং চুক্তিপত্রের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করাই হতে পারে আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রযুক্তি কি জনগণের জন্য, নাকি শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য?
উন্নত দেশগুলোতে প্রিপেইড মিটার মূলত গ্রাহকসেবা উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক গ্রাহকের ধারণা, এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি রাজস্ব আদায়কেন্দ্রিক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
যখন একজন গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবই স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না, যখন রিচার্জের পর টাকা কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, যখন অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পান না—তখন প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ার বদলে অবিশ্বাসই বাড়ে।

সমাধানের পথ কী?
প্রিপেইড মিটারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনঅসন্তোষ আর বিচ্ছিন্ন অভিযোগের বিষয় নয়; এটি এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। তাই অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক অডিট করতে হবে। বিলিং সফটওয়্যার, চার্জ কাঠামো এবং ইউনিট গণনার পদ্ধতি নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি রিচার্জের ক্ষেত্রে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে দেখানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন, মিটার ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বর্তমান ব্যবস্থা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাহলে পুরো প্রিপেইড পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করা যাবে না।

পরিশেষে বলা যায়,প্রিপেইড মিটার কোনো খারাপ প্রযুক্তি নয়; বরং সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রযুক্তির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বাসের সংকট। যখন একজন গ্রাহক বুঝতে পারেন না তার রিচার্জ করা টাকার কত অংশ কোথায় গেল, যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকার পরও বিল বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যখন অস্বাভাবিক বিল, দীর্ঘ টোকেন নম্বর কিংবা আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা বারবার ঘটে, তখন সমস্যাটি আর শুধু প্রযুক্তিগত থাকে না; এটি জনআস্থা ও সুশাসনের প্রশ্নে পরিণত হয়। সুতরাং রাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নতুন প্রযুক্তি স্থাপন নয়; বরং সেই প্রযুক্তি জনগণের জীবন কতটা সহজ, ন্যায্য ও স্বস্তিদায়ক করেছে। তাই প্রিপেইড মিটার নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভকে উপেক্ষা না করে সত্য উদঘাটন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। কারণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির নামে মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

জীবন কোনোদিনই সরল ছিল না— নতুন সিনেমার ট্রেলার শেয়ার করে জয়া

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জীবন কোনোদিনই সরল ছিল না— নতুন সিনেমার ট্রেলার শেয়ার করে জয়া

শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশ পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘অর্ধাঙ্গিনী’র দ্বিতীয় কিস্তি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র ট্রেলার। সেটি সামাজিক মাধ্যমে নিজেও প্রকাশ করেন জয়া। সঙ্গে জীবনের জটিল সমীকরণ নিয়ে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে জয়া আহসান লিখেছেন, জীবন কোনোদিনই সরল ছিলো না, হবেও না। তবু সমীকরণ বদলে বদলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে চায় মানুষ।

সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, এই অনন্ত খোঁজের খেলায় কোনও প্রাক্তন বা বর্তমানের ভেদাভেদ থাকে না। সব গণ্ডি মুছে যায়! এরকমই সামনে চলার কঠিন একটা দলিল ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।

আগামী ১০ জুলাই কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে গুণী নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত এই সিনেমাটি। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছিল সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনের এক মর্মস্পর্শী গল্প, যা দর্শকদের ভাবতে শিখিয়েছিল সম্পর্কের ভাঙন, ভালোবাসা, অভিমান এবং ক্ষমার মতো গভীর বিষয়গুলো নিয়ে।

এর আগে সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জয়া আহসান বলেছিলেন, অর্ধাঙ্গিনী ছিল অত্যন্ত পরিণত ও সংবেদনশীল একটি গল্প। সেই গল্পের পরবর্তী অংশে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য আনন্দের।

সুরিন্দর ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় আগের কিস্তির কৌশিক সেন, চূর্ণী গাঙ্গুলী ও জয়া আহসানের পাশাপাশি এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য। আগামী ১০ জুলাই সিনেমাটি মুক্তির পরই জানা যাবে প্রথম সিনেমার আবেগময় যাত্রাকে নতুন এই অধ্যায় কতটা এগিয়ে নিতে পারে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

‘কওমী মাদরাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
‘কওমী মাদরাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার’

সরকার প্রাথমিকভাবে কওমী মাদরাসা থেকে প্রায় ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। তিনি বলেন, সরকার কওমী শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। মাদরাসার প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কওমী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পটিয়ার আল-জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসায় দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নবনির্মিত একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এনামুল হক এনাম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জোর দিচ্ছে। তিনি পটিয়ায় একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

মাদরাসার প্রধান পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ খোবাইবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মীর গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, শিল্পপতি শামসুল আলম, সালমা গ্রুপের চেয়ারম্যান শামসুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ আলী, বদিউল আলম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ইমতিয়াজ হোসেন বেলাল, আবু তাহের সওদাগর, শফিকুল আলম চেয়ারম্যান, মঈনুল আলম ছোটন, মাওলানা লুৎফুর রহমান, মুফতি এমদাদ উল্লাহ, কারী মো. লোকমান, মুফতি শোয়াইব, বিএনপি নেতা মনজুর আলম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে নবনির্মিত একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের উদ্বোধনের পাশাপাশি কওমী শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিটিক টাওয়ারে আছড়ে পড়েছে একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। ১০৯ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে বিমান আছড়ে পড়ার পর বেইজিংয়ের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিসট্রিক্টে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ভবনটি খালি করা হয়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন–তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য জানা যায়নি। বিমানটির উৎস এবং কী পরিস্থিতিতে এটি ভবনটিতে আঘাত করে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি ৫২৮ মিটার (১ হাজার ৭৩২ ফুট) উঁচু টাওয়ারটির ওপরের দিকে আঘাত করছে। ভবন এবং বিমানের ভেঙে পড়া অংশ আশপাশের ফুটপাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অন্য কিছু ভিডিওতে ভবন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

লিন নামের এক নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেয়ারও সুযোগ পাইনি, দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি।’

কাছের একটি ভবনে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকেল প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি একটি বিকট শব্দ শুনেছিলেন, তবে দুর্ঘটনার দৃশ্য দেখেননি তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ভবনের কাছে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবিতে দেখা যায়, বিমানের নিবন্ধন নম্বর বি-১২পিপি। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা মডেলের দুই আসনের এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট হালকা স্পোর্টস বিমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে দাবি করা হয়, বিমানটি একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ছিল। প্রতিষ্ঠানতি প্রাইভেট পাইলট প্রশিক্ষণ, আকাশ ভ্রমণ এবং বিমান ব্যবস্থাপনা সেবা দিয়ে থাকে।

এখন পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত পোস্টগুলো দ্রুত চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। এর ফলে এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে হামলা বা অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে–তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে।

বেইজিংয়ে যেকোনও হালকা স্পোর্টস বিমান ওড়ানোর জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন এবং পিপল’স লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএলএএএফ) অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

গত মাসেই আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক নতুন বিধিনিষেধ জারি করে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। যার ফলে বিনোদনমূলক উড্ডয়ন এবং ভোক্তা পর্যায়ের ড্রোন কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

সব ধরনের উড্ডয়নের জন্য আগাম সরকারি ও এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন বা এর মূল যন্ত্রাংশ উড়ানো, বিক্রি, ভাড়া দেয়া বা বহন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি