খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। সরকারের দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা বিদ্যুৎ বিলিংয়ে স্বচ্ছতা আনবে, বকেয়া কমাবে, অপচয় রোধ করবে এবং গ্রাহকদের নিজেদের ব্যবহারের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের বহু অঞ্চলে এই প্রিপেইড মিটার এখন সুবিধার চেয়ে ভোগান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। জনগণের একটি বড় অংশের কাছে এটি এখন “ডিজিটাল উন্নয়ন” নয়, বরং “ডিজিটাল বিড়ম্বনা”র আরেক নাম।

প্রশ্ন হলো, যে প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার কথা ছিল, সেটি কেন আজ অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ, হতাশা এবং অবিশ্বাসের কারণ হয়ে উঠেছে?

রিচার্জের পরই টাকা কমে যাওয়ার অভিযোগ: স্বচ্ছতা কোথায়?
প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় একটি অভিযোগ—রিচার্জ করা অর্থের পুরোটা ব্যালেন্সে দেখা যায় না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, ১,০০০ টাকা রিচার্জ করার পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, পূর্ববর্তী সমন্বয় অথবা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে এই অর্থ কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি সব কর্তন বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, তাহলে প্রতিটি টাকার বিস্তারিত হিসাব কেন গ্রাহককে পরিষ্কারভাবে দেখানো হয় না? একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার কথা স্বচ্ছতা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মানুষ টাকা হারানোর অনুভূতি নিয়ে রিচার্জ করছে কিন্তু কোথায় কত টাকা গেল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাচ্ছে না। ফলে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং ক্ষোভ জন্ম নেওয়াই স্বাভাবিক।

কেন হঠাৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে?
দেশের বহু পরিবার দাবি করছে, অ্যানালগ বা পোস্টপেইড মিটারের সময় যেখানে মাসিক বিল ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে প্রিপেইড মিটার চালুর পর একই ব্যবহারেও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে নতুন মিটারের বেশি নির্ভুলতা, ট্যারিফ স্ল্যাব, ব্যবহারগত পরিবর্তন কিংবা প্রযুক্তিগত কনফিগারেশনের বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হচ্ছে—যদি সবকিছুই এত স্বাভাবিক হয়, তাহলে কেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠছে? জনমনে এই সংশয় দূর করার একমাত্র উপায় হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি অডিট। কারণ কোনো প্রযুক্তি সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয় তথ্যের মাধ্যমে, ব্যাখ্যার মাধ্যমে নয়।

“ভুতুড়ে বিল” বিতর্ক কেন থামছে না?
বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার, কয়েক দশ হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ টাকার বিলের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব ঘটনাকে ডেটা এন্ট্রি ভুল, মিটার রিডিং ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একই ধরনের ভুল কেন বারবার ঘটছে? একজন গ্রাহকের ভুল বিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একই ধরনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকে, তখন সেটি শুধু বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং ব্যবস্থাগত দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিটি অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এখন সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সুবিধা নয়, ডিজিটাল বিড়ম্বনা
প্রিপেইড মিটারকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ সমন্বয়ের সময় অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন নম্বর পাঠানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৫০ থেকে ২০০ ডিজিটেরও বেশি কোড ইনপুট দিতে হয়েছে।

প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ কিংবা বয়স্ক মানুষের জন্য এটি কার্যত এক ধরনের দুর্ভোগ। একটি সংখ্যা ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায় না।
ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্দেশ্য যদি মানুষের জীবন সহজ করা হয়, তাহলে শত শত ডিজিটের কোড টাইপ করানো কোন ধরনের আধুনিকতা?

গ্রাহক ভোগান্তির বাস্তবতা
প্রিপেইড মিটারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। পোস্টপেইড ব্যবস্থায় বিল পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেও সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হলেই ঘর অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মিটারের ব্যাটারি সমস্যা, টোকেন ত্রুটি, কার্ডের জটিলতা অথবা সফটওয়্যারজনিত কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিঘ্নিত হয়। রাতে, ছুটির দিনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে এসব সমস্যার সমাধান পেতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জামনির্ভর পরিবারের জন্য এটি শুধু অসুবিধা নয়, অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।

মিটার ক্রয় ও সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক
প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহৃত মিটারের মান, মূল্য এবং ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক দরপত্র, সরবরাহকারী নির্বাচন এবং প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না। মিটারের প্রকৃত মূল্য এবং জনগণের ওপর আরোপিত ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের অভিযোগও বহুবার সামনে এসেছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সব প্রকল্প সরকারি ক্রয়বিধি মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু জনআস্থার প্রশ্নে শুধু সরকারি ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন নিরীক্ষা এবং চুক্তিপত্রের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করাই হতে পারে আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রযুক্তি কি জনগণের জন্য, নাকি শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য?
উন্নত দেশগুলোতে প্রিপেইড মিটার মূলত গ্রাহকসেবা উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক গ্রাহকের ধারণা, এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি রাজস্ব আদায়কেন্দ্রিক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
যখন একজন গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবই স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না, যখন রিচার্জের পর টাকা কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, যখন অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পান না—তখন প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ার বদলে অবিশ্বাসই বাড়ে।

সমাধানের পথ কী?
প্রিপেইড মিটারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনঅসন্তোষ আর বিচ্ছিন্ন অভিযোগের বিষয় নয়; এটি এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। তাই অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক অডিট করতে হবে। বিলিং সফটওয়্যার, চার্জ কাঠামো এবং ইউনিট গণনার পদ্ধতি নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি রিচার্জের ক্ষেত্রে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে দেখানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন, মিটার ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বর্তমান ব্যবস্থা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাহলে পুরো প্রিপেইড পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করা যাবে না।

পরিশেষে বলা যায়,প্রিপেইড মিটার কোনো খারাপ প্রযুক্তি নয়; বরং সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রযুক্তির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বাসের সংকট। যখন একজন গ্রাহক বুঝতে পারেন না তার রিচার্জ করা টাকার কত অংশ কোথায় গেল, যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকার পরও বিল বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যখন অস্বাভাবিক বিল, দীর্ঘ টোকেন নম্বর কিংবা আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা বারবার ঘটে, তখন সমস্যাটি আর শুধু প্রযুক্তিগত থাকে না; এটি জনআস্থা ও সুশাসনের প্রশ্নে পরিণত হয়। সুতরাং রাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নতুন প্রযুক্তি স্থাপন নয়; বরং সেই প্রযুক্তি জনগণের জীবন কতটা সহজ, ন্যায্য ও স্বস্তিদায়ক করেছে। তাই প্রিপেইড মিটার নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভকে উপেক্ষা না করে সত্য উদঘাটন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। কারণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির নামে মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি