চূড়ান্ত শেষ বত্রিশে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কোন দল
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর দিয়েই নিজেদের হেক্সা মিশন সফল করতে চায় ব্রাজিল। তবে টুর্নামেন্টের শুরুটা তাদের ভালো হয়নি। হতাশাজনক পারফর্ম্যান্সে মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই ড্র করে পয়েন্ট খোয়ায় সেলেসাওরা। তবে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে পরের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ বত্রিশে খেলা নিশ্চিত করেছে দলটি। একই সঙ্গে ছন্দময় ও নান্দনিক ফুটবলে ফেরার বার্তাও দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট রাউন্ডে খেলা নিশ্চিত করে ব্রাজিল। তবে নকআউটে কোন দলের মুহোমুখি হবে সেলেসাওরা তা নিশ্চিত ছিল না। অবশেষে আজ গ্রুপ ‘এফ’ এ তৃতীয় ম্যাচ শেষে চূড়ান্ত হয়েছে শেষ বত্রিশে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ।
টেক্সাসের ডালাস কাউবয়েজ স্টেডিয়ামের গ্রুপ ‘এফ’-এর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে জাপান। এই ড্রয়ের ফলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্স-আপ হয়ে নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে ব্লু সামুরাইরা। আর এর মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়ে গেল আগামী মঙ্গলবার হিউস্টনের মাঠে শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান।
অন্য ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। নকআউটে ডাচদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। অন্যদিকে, ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হলেও গ্রাহাম পটারের সুইডেনও ‘সেরা তৃতিয় স্থান অধিকারী’ দল হিসেবে নকআউটের টিকিট কেটেছে।
ম্যাচ শুরুর আগেই নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পরের রাউন্ডে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। সুইডেনও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় প্রথমার্ধে দুই দলই কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে।
প্রিমিয়ার লিগের দুই তারকা আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর গিওকেরেসকে প্রথমার্ধে বোতলবন্দী করে রাখে জাপানি ডিফেন্স। বিরতির ঠিক আগে জাপানের উইঙ্গার কেইতো নাকামুরার একটি চমৎকার শট সুইলিশ কিপার জ্যাকব জেটারস্ট্রোম কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি বাড়ায় হাজিমে মোরিয়াসুর দল। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় জাপান। রিতসু দোয়ানের রক্ষণচেরা পাস থেকে সেল্টিকের বিপজ্জনক ফরোয়ার্ড দাইজেন মায়েদা চলন্ত বলেই নিখুঁত শটে সুইডিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন (১-০)।
জাপানের এই স্বস্তির লিড স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট। ৬২তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বল কেটে ভেতরে ঢুকে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের এক দর্শনীয় শটে গোল করে সুইডেনকে সমতায় ফেরান নিউক্যাসেল উইঙ্গার অ্যান্থনি এলাঙ্গা (১-১)।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সুইডেন। ম্যাচের শেষ দিকে এবং অতিরিক্ত সময়ের ৭ মিনিটে জাপানি ফুটবলারদের ক্লান্তি চেপে বসলে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি যেন এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
ম্যাচের ৯৩ মিনিটে এলাঙ্গার একটি শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেওয়ার পর, একদম কাছ থেকে আলেকজান্ডার ইসাকের একটি নিশ্চিত হেডার প্রতিহত করে জাপানের মূল্যবান ১ পয়েন্ট এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে মহাকাব্যিক লড়াইটি নিশ্চিত করেন সুজুকি।
চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ বা চমক জাগানো দল হিসেবে উত্তর আমেরিকায় পা রাখা জাপানের আসল পরীক্ষা এখন শুরু। নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠাই এখন কোচ মোরিয়াসুর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array