খুঁজুন
                               
, ,
           

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই মুক্তিবাহিনীর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই মুক্তিবাহিনীর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। সেই প্রতিরোধই পরবর্তীকালে মুক্তিবাহিনীতে রূপ নেয় এবং সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুবক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন মুক্তিযুদ্ধে পরিণত হয়। তাই ইতিহাসের সত্য হলো, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই মুক্তিবাহিনীর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর রাওয়া হেলমেট হলে ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, কখনোই তার পরিকল্পনা ছিল না সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। তিনি তখন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন, জগন্নাথ কলেজে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান আর্মির কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ মালিকের উৎসাহে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে এডুকেশন কোরে কমিশন পেলেও পরে নিজের আগ্রহে ফাইটিং আর্মে যাওয়ার আবেদন করেন এবং নানা প্রক্রিয়া শেষে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান।

তিনি বলেন, কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান তাকে ডেকে বলেছিলেন, পাসিং আউটের পর তিনি যেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। সেই কথাই তার মনে গেঁথে যায়। অনেকের পরামর্শ ও চাপ উপেক্ষা করে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন। ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে যশোরে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সেই স্মৃতি আজও তার কাছে অমলিন।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, এই রেজিমেন্ট গঠনে মেজর আব্দুল গণির অবদান ছিল অসামান্য। কিন্তু ইতিহাসে তার নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয় না। একইভাবে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের ভূমিকাও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। স্বাধীনতার প্রস্তুতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরে পাকিস্তানে বন্দি হওয়ায় তার অবদান অনেকটাই আড়ালে থেকে গেছে।

মেজর হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন দেশের পাঁচটি ভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিল। তারা কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ না রেখেই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জনগণকে সংগঠিত করে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই পরবর্তীকালে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার আগে রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ২৫ মার্চের গণহত্যার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে যদি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে না তুলত, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এত সহজ হতো না। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে এই রেজিমেন্টই মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি রচনা করে।

স্পিকার বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সাহস জুগিয়েছিল। সেই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হাজার হাজার ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, রিকশাচালক, দোকানদারসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র চার হাজারের মতো। কিন্তু তাদের নেতৃত্বেই প্রায় এক লাখ সদস্যের মুক্তিবাহিনী গড়ে ওঠে এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিচালিত হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইতিহাস রচনায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এই অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ছিল কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, এটি ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী একটি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে পরাজিত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৯০ হাজারের বেশি সেনা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। সেই কারণেই এই রেজিমেন্ট বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি সামরিক ইউনিট নয়, বরং স্বাধীনতার প্রতীক। আজও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের দেখলে তার হৃদয় গর্বে ভরে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু স্থলযুদ্ধ নয়, নৌ ও বিমান অভিযানে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কর্ণফুলী নদীতে লিমপেট মাইন ব্যবহার করে পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করা কিংবা সীমিত সক্ষমতা নিয়ে বিমান হামলা পরিচালনা করা ছিল বাঙালির অদম্য সাহসের অনন্য উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বাঙালি কখনোই দুর্বল জাতি ছিল না।

মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালে মাত্র ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন এবং ইপিআরের বিদ্রোহী সদস্যদের নেতৃত্বেই মুক্তিবাহিনীর সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে এই বাহিনীর সঙ্গে লাখো সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামকে সফল করে তোলে। ইতিহাসের এই সত্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবগাথা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, এটি সমগ্র জাতির ঐতিহ্য। এই ইতিহাস রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী সব সময় জনগণের বাহিনী হিসেবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’, স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যরস!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’, স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যরস!

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রসিকতা করে উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনার একপর্যায়ে একজন অংশগ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা জানতে চাই, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আপনার ভাবনা কী?’

জবাবে পাশে বসে থাকা তার সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, ‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে পুরো অডিটোরিয়ামে হাসির রোল পড়ে যায়।

পরে প্রশ্নকারী বলেন, ‘উনি যেহেতু আপনার পাশে আছেন, তিনি যদি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন, তাহলে আমরা সত্যিই আরও গর্বিত হব।’

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণও করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

কালের আলো/এসএকে

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ জরুরি নির্দেশনা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে সাতটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার (১১ জুলাই) অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরী ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ যুক্ত ছিলেন।

এছাড়াও সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সকল বিভাগীয় পরিচালক, সকল জেলার সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচাল অনুমোদনক্রমে ৭টি সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সিদ্ধান্ত সমুহ

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোয়ন প্রদান করতে হবে।

ফোকাল পারসন কন্ট্রোল রুম এবং অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ফোকাল পারসনের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে।

বন্যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সদস্যদের সমন্বয়ে বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে।

বন্যা দুর্গতদের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রম সম্পর্কে ফোকাল পারসন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং, প্রেস নোট প্রদানের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন। রোববার (১২ জুলাই) তারিখে বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করণের জন্য জরুরী প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সকল প্রকার জরুরি ঔষধ, ওআরএস/স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এর পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রযোজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা এবং জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য সকল কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব: ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব: ভূমিমন্ত্রী

মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন মানুষ তৈরি হবে, আজকের মেধাবীরা আগামী দিনে বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজশাহী শিক্ষা, মেধা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্য দেশজুড়ে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে এবং আগামী দিনেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

ভূমি মন্ত্রী বলেন, যে জাতি মেধাবীদের সম্মান করতে পারে না সে জাতি কখনো সফল হতে পারেনা। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি