খুঁজুন
                               
, ,
           

বরিশালের দুর্গম জঙ্গলের সেনা মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
বরিশালের দুর্গম জঙ্গলের সেনা মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী

পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা সমীকরণ, হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার বা ছদ্মযুদ্ধ এবং প্রযুক্তির অভাবনীয় বিস্ফোরণের এই যুগে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অস্তিত্বের অপরিহার্য শর্ত। সোমবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর ৪১ বীর এক্সারসাইজ এরিয়ায়

অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর বিশেষ মহড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতি এবং দুর্গম জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ কেবল একটি রুটিন পরিদর্শন ছিল না; এটি ছিল দেশের সামরিক সক্ষমতা, আধুনিক প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং জনগণের সাথে সেনাবাহিনীর আত্মিক বন্ধনের এক শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক বার্তা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব আজ শুধু দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রীর এই মহড়া পরিদর্শন এবং সেখানে প্রদত্ত দিকনির্দেশনা রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

মহড়া চলাকালে তিনি জঙ্গলজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন যুদ্ধকৌশল, অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সেনাসদস্যদের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

যুদ্ধক্ষেত্র সব সময় সমতল ভূমিতে হয় না। পাহাড়, জঙ্গল, নদী কিংবা জলাভূমি—প্রতিটি ভূখণ্ডের জন্য প্রয়োজন ভিন্ন কৌশল। তাই আধুনিক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে বাস্তব পরিবেশের অনুকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবুগঞ্জের বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, গোপন চলাচল, প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান, কৌশলগত অগ্রসর হওয়া এবং শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলার বিভিন্ন অনুশীলন প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন ধাপ এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

এই ধরনের প্রশিক্ষণ কেবল শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না; এটি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলগত সমন্বয়, নেতৃত্ব এবং প্রতিকূল পরিবেশে মানসিক দৃঢ়তাও গড়ে তোলে।

বিশ্বের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—ড্রোন এখন আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ছোট আকারের চালকবিহীন উড়োজাহাজ গোয়েন্দা নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করেন।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির মূল লক্ষ্য আগ্রাসন নয়, বরং আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি। আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন সেই প্রতিরক্ষাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করে তোলে। প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের যুগে এমন সক্ষমতা একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে।

সামরিক ইতিহাসে একটি বিষয় বহুবার প্রমাণিত হয়েছে—নেতৃত্বের শক্তি শুধু নির্দেশনায় নয়, উপস্থিতিতেও নিহিত থাকে। মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গলের ভেতরে কর্মরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে মাটিতে বসে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে প্রস্তুত করা সাধারণ খাবার গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কাছ থেকে অনুভব করেন।

এ ধরনের প্রতীকী উপস্থিতি নেতৃত্ব ও সৈনিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করে। একজন রাষ্ট্রনেতা যখন মাঠপর্যায়ের সদস্যদের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশকে সম্মান জানান, তখন সেটি বাহিনীর মনোবলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর বক্তব্যকে মানবিক মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নেতৃত্বের আবেগগত সংযোগেরও প্রতিফলন।

সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু আধুনিক অস্ত্র কিংবা উন্নত প্রযুক্তিতে নয়; জনগণের বিশ্বাসেও নিহিত থাকে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটি বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উদ্ধার অভিযান, অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সাধারণ মানুষের কাছে বাহিনীটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে। এই আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও দক্ষতার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। তিনি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা এখন আর শুধু সীমান্ত রক্ষার বিষয় নয়। সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, মহাকাশভিত্তিক নজরদারি এবং ড্রোন প্রতিরোধ—সবকিছুই এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।

বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূকৌশলগত অবস্থানে থাকা দেশের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায়, বরিশালের বাবুগঞ্জের জঙ্গল থেকে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তাটি দিলেন, তা একাধারে দেশপ্রেমের, আধুনিকায়নের এবং আত্মবিশ্বাসের। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আধুনিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বলীয়ান একটি সেনাবাহিনীই পারে একটি স্বাধীন দেশের পতাকাকে চিরকাল সমুন্নত রাখতে। মাঠপর্যায়ের সৈনিকদের সাথে মাটিতে বসে খাবার খাওয়া যেমন নেতৃত্বের মানবিক ও অনন্য উচ্চতাকে প্রকাশ করে, ঠিক তেমনি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের কার্যকারিতা পরিদর্শন রাষ্ট্রের কৌশলগত কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে।

পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব আরও বাড়িয়ে তুলবে—বাবুগঞ্জের এই মহড়া সেই আত্মবিশ্বাসেরই এক মূর্ত প্রতীক।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

রাজধানীর বিভিন্ন ছাপাখানা মধ্যরাতে আকস্মিক পরিদর্শন করে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপা পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান যাচাই করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও তার সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পাঠ্যবই ছাপার বিভিন্ন ধাপ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি বই তৈরিতে ব্যবহৃত কাগজের মান, মুদ্রণের গুণগত মান এবং নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বিপুলসংখ্যক পাঠ্যবই ছাপানো হয়। এসব বইয়ের কাগজ ও ছাপার মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবইয়ের ছাপার মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ছাপাখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের কাছে বই ছাপার কাজে ব্যবহৃত কাগজ, মুদ্রণের মান ও সামগ্রিক গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চান।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই বই ছাপার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা। পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কিয়াকতাও শহরে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত আহত ৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
কিয়াকতাও শহরে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত আহত ৩৬

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যের কিয়াকতাও শহরে একটি বাজারের কাছে বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আরাকান আর্মি (এএ) ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আরাকান আর্মির দাবি, কিয়াকতাও শহরের একটি বাজারসংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার প্রধান ও ত্রাণকর্মী ওয়েই হুন অংও হামলায় ৩৩ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।

ওয়েই হুন অং বলেন, কিয়াকতাও শহরটি চলমান সংঘাতের প্রধান এলাকাগুলো থেকে বেশ দূরে। শহরটির সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি কোনো সম্পর্কও নেই বলে জানান তিনি।

তবে হামলায় হতাহত হওয়ার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার এর আগে দাবি করে আসছে, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সামরিক বাহিনী অভিযান পরিচালনার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সংযম অবলম্বন করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইনের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর এবারের হামলাটি ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।

২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। বর্তমানে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর গ্রেফতার

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় মিজানুর রহমান এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ঘটনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

ওই রাতে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি