খুঁজুন
                               
, ,
           

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ২ ফ্ল্যাটের মালামাল গুনছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ২ ফ্ল্যাটের মালামাল গুনছে দুদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের দুই ফ্ল্যাট জব্দের পর মালামালের তালিকা করছে দুদক

আদালতের আদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই ফ্ল্যাট ক্রোকের অংশ হিসেবে মালামালের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকেই শুরু হয় এই মালামাল তালিকা তৈরির কাজ, বিষয়টি  জানান দুর্নীতি দমন কমিশকের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ।

তিনি বলেন, আজও ইনভেন্টরির কাজ চলমান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে সাইফুজ্জামানের মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দুদক।

প্রথম দিনের ইনভেন্টরিতেই প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ঘড়ির বাক্স, মার্সিডিজ বেঞ্চসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতিসহ বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী পাওয়ার কথা জানায় দুদক।

ওইদিন উদ্ধার হয় একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বাক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপর সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।

দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ-বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানা আলামত পাওয়া গেছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের Rolex Cellini Date (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।

দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পুলিশে বড় রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
পুলিশে বড় রদবদল

বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ১৪ জন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

শীর্ষ পর্যায়ে বড় পরিবর্তন পুলিশের এই রদবদলে ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

অন্যদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের একটি পূর্ববর্তী বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

র‍্যাব ও সদর দফতরে নতুন পদায়ন র‍্যাব এবং পুলিশ সদর দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‍্যাবে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

পাবনায় নতুন এসপি ও বিভিন্ন রেঞ্জে সংযুক্তি পাবনা জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান এসপি মো: ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করে তার জায়গায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ এবং পুলিশ সদর দপ্তরের আ. ফ. ম. নিজাম উদ্দিন ও এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই আদেশগুলো জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাইলস্টোন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দোয়া জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত বছরের এই দিনটি জাতির জন্য এক শোকাবহ দিন। সেদিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কুলটির ২৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। পরে যুদ্ধবিমানের পাইলট, শিক্ষক, কর্মচারী ও কয়েকজন অভিভাবকের মৃত্যুসহ মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ জনে।’

তিনি বলেন, ‘একই সময়ে এতগুলো শিশুর প্রাণহানি দেশের মানুষের জন্য এক অবর্ণনীয় বেদনার ঘটনা। দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।’

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জনগণ স্পষ্ট ধারণা পেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে নিরাপত্তা ও সতর্কতার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে ধারণা করা যায়। যদিও ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, তবু সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতো।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তদন্তে যদি কোনো ধরনের অবহেলা, ত্রুটি বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি উঠে আসে, তবে তা দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে টানা আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুপানি, জনদুর্ভোগ চরমে

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে টানা আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুপানি, জনদুর্ভোগ চরমে

রাজশাহীতে টানা আড়াইঘন্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে রাজশাহী নগরী। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর তিনটা থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। চলে টানা আড়াই ঘণ্টা। ধরণী ভিজিয়ে নগরবাসীর মনে যে স্বস্তি নামার কথা ছিল, তা বিড়ম্বনায় রূপ নেয়।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই এক বৃষ্টিতেই যেন ছন্দপতন ঘটেছে পুরো নগরজীবনের।

বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে সিঅ্যান্ডবি মোড়, রেলগেট, উপশহর, ভদ্রা, বর্ণালী, লক্ষ্মীপুর, ভাটাপাড়া, রাজপাড়া, পাঠানপাড়া, টিকাপাড়া ও বহরমপুর, শালবাগান, আহম্মদনগর ও নওদপাড়ার মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোর সড়ক থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক আর ফুটপাত একাকার হয়ে গেছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠে এসেছে মূল রাস্তায়। কোথাও কোথাও পানি জমে হাঁটু ছুঁয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়। নিরুপায় হয়ে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে পরনের কাপড় গুটিয়ে হাঁটুসমান ময়লা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।

নগরীর সাহেববাজার এলাকায় রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন রিকশাচালক কাসেম আলী। জমে থাকা পানির দিকে তাকিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, গরমে কয়েকদিন খাটাখাটনি করা যাচ্ছিল না, বৃষ্টি নামায় শরীরে একটু বাতাস লেগেছে সত্য। কিন্তু এই পানির মধ্যে রিকশা চালানো যে কী কষ্ট। রাস্তায় অত পানি, চাকা ডোবে, ভয় হয় কখন গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীও মেলে না। পেটের তাগিদে বের হয়ে এখন রাস্তায় আটকে আছি।

একই ভোগান্তির চিত্র লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায়। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী সাবরিনা সুলতানা ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি হওয়াতে আবহাওয়াটা সত্যিই দারুণ লাগছে। কিন্তু ক্লাস শেষে বের হয়ে দেখি পুরো রাস্তা ডুবে গেছে। রিকশাওয়ালারা দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছে। আবার পানি পার হয়ে হেঁটে হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।

নগরীর বর্ণালী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাহফুজুর ইসলাম ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে ড্রেন তৈরি আর সংস্কার করা হয়। অথচ মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে পুরো রাজশাহী শহর অচল হয়ে পড়ে। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকে যায়। রাস্তার পানি না নামলে বাড়ির পানি নামে না। আমরা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান চাই।

জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহীর লক্ষীপুর এলাকায় একটি ডায়াগনিস্টক সেন্টারে এসেছিলেন তেরখাদিয়া এলাকার গৃহিণী পারভীন বেগম। তিনি বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাব, কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে রোগী আরও অসুস্থবোধ করছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই অবস্থায় যাওয়া লাগছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের পাশে থাকার জন্য। জমিতে পানি জমলে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সামনে কয়েকদিন বৃষ্টি হতে পারে সেভাবে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন