বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষিতে ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজিসহ ১৫ হাজার ৯১১ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আউশ ধানে প্রায় ১২০ কোটি, গ্রীষ্মকালীন সবজিতে প্রায় ২৫০ কোটি এবং আমনের বীজতলা ও পুনঃরোপণে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টিতে ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ ধান, ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, মিরসরাই, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়া উপজেলার কৃষিজমি।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আউশ ধান ও সবজির পাশাপাশি আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষককে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং আগামী মৌসুমের ধান উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিচু এলাকার অনেক স্থানে এখনো পানি জমে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পরে প্রকাশ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার ফসলি জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষেতেই পানি নামতে দেরি হওয়ায় ফসল পচে গেছে এবং সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সবজিচাষিরা।
এদিকে বন্যার পানিতে সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলায় অন্তত ২০ হাজার নলকূপ এবং ৫ হাজার ৬৯৪টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলায় ১২ হাজার ১১০টি নলকূপ সম্পূর্ণ এবং ৭ হাজার ৮৫১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে গেলেও অনেক নলকূপে এখনো ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে। ফলে অনেক পরিবার দূরদূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন খুরশিদ জামিল বলেন, বন্যার পর দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ জীবাণুমুক্ত করা, দ্রুত মেরামত এবং দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্তগুলো মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array