খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন অবকাঠামো তৈরিতেও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই দ্রুত সংকট সমাধানের কোনো ‘জাদুকরী’ সমাধান সরকারের হাতে নেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘নীতি সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে— ব্যবসায়ীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে গ্যাস ফিরিয়ে আনব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়ও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোতে পারে না। সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আমরা দ্রুত সেসব নিচ্ছি। আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎ

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এসব বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফলে চাইলেই রাতারাতি গ্যাসের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের জ্বালানি কত পরিমাণে প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও সঞ্চালনব্যবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধানেও কাজ চলছে।

দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি নীতি

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নীতি প্রকাশ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খণ্ড খণ্ড বা আংশিক তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিকল্পনা একটি পূর্ণাঙ্গ নীতির মাধ্যমে জানানো হবে। এতে কত সময় লাগবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ে পরিবর্তন

রাজস্ব খাতের সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার মাধ্যমে কর নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ আলাদা করা হবে।

আমির খসরু বলেন, কর নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে সরকার। এর ফলে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ডসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সভাপতিত্ব করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাজস্ব, ব্যাংক ও ব্যবসার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করাই নয়, ব্যবসায়ীরা সমস্যার সমাধানের অংশ হতে চান। ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পা অবশ, চলাফেরায় কষ্ট হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
পা অবশ, চলাফেরায় কষ্ট হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে হাঁটাচলায় বেশ সমস্যায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পা অবশ হয়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারছেন তিনি। আপাতত তার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ারও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

রোববার (১৬ আগস্ট) একটি গণমাধ্যমকে নিজের  শারীরিক অবস্থার সবশেষ পরিস্থিতি জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, এখন আমার হাঁটাচলা করতে খুব কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারি। এজন্য আপাতত বাইরে কোথাও যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি না।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, নিয়মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে গুলশানের বাসায় নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সেবা নিচ্ছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে সিএমএইচে যেতে হচ্ছে। বঙ্গভবন ছাড়ার পর গুলশানের বাসায় ফিরে এখন পর্যন্ত একবার সিএমএইচে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার, বিচার বিভাগ ও আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে তার পদত্যাগের জোরালো দাবি ওঠে। যদিও বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সায় না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে যান। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকেন। তবে সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় এসে তিনি অনেকটা সরে যেতে বাধ্য হন। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলীয় ঐক্য কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

২ ঘণ্টা পর বংশালের হেলমেট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
২ ঘণ্টা পর বংশালের হেলমেট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বংশালের মুকিমবাজার চৌরাস্তায় একটি হেলমেটের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বংশালের মুকিমবাজার চৌরাস্তায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা হেলমেটের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের সাতটি ইউনিটের চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে বংশালের মুকিমবাজারে একটি হেলমেটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে মোট সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাদের চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে এখনো আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশ বলছে, তৈয়বের বিরুদ্ধে সারা দেশে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ৪৫টি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিদেশি পিস্তল, গুলি, খেলনা পিস্তল, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, র‍্যাব ও ডিবির পোশাক, ভুয়া নম্বর প্লেটসহ ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় বুড়িগঙ্গা সেতুর দক্ষিণ পাশে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তৈয়বসহ কয়েকজন। সেখানে ডিবি লালবাগ বিভাগের একটি দল অভিযান চালালে তৈয়বকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান। তৈয়বের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে পাভেল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ডের হোল্ডার, সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড ক্যাপ, একটি কালো লেজার লাইট ও কয়েকটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তৈয়ব ও পাভেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উত্তরার সেন্টার পয়েন্ট এলাকার একটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই আস্তানা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, ‘র‍্যাব’ লেখা তিনটি ভেস্ট, ‘ডিবি’ লেখা একটি ভেস্ট, দুটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, বিভিন্ন রঙের ১০টি রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি পিস্তল কাভার, একটি খেলনা পিস্তল, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত। বিভিন্ন সময়ে অপরাধ সংঘটনের সময় গাড়িতে ভুয়া নম্বর প্লেটও ব্যবহার করত চক্রটি। ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ও একাধিক নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, নকল ও আসল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে মূল্যবান সম্পদ বহনকারী ব্যক্তিদের আটকিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নিচ্ছে।

তৈয়ব সম্পর্কে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ৪৫টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। জামিনে বের হয়ে তিনি দীর্ঘদিন মাদারীপুরে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে একটি দল পরিচালনা করতেন এবং ঢাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে সরাসরি অংশও নিতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন ভূঁইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি ইতালিয়ান পিস্তল ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, গত মে মাসে যাত্রাবাড়ীতে ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই এবং গত ১৪ জুলাই একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তৈয়ব ও পাভেলের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, তৈয়বের বিরুদ্ধে থাকা ৪৫টি মামলার প্রতিটিতেই তিনি কারাগারে গিয়েছেন। পরে তিন থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গ্রেপ্তার করে দিচ্ছি, কিন্তু তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ